০৯:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

ভেড়ামারায় রাতারাতি অনেক ঔষধের দোকান গড়ে উঠেছে, মানা হচ্ছে না নীতিমালা

প্রতিষ্ঠিত ও সম্মানজনক ব্যবসার মধ্যে ফার্মেসি ব্যবসা অন্যতম। এখানে পুঁজি বিনিয়োগ করে সহজেই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফার্মেসি ব্যবসা করে সফল হওয়ার স্বপ্ন অনেকেই দেখেন। কিন্তু ইচ্ছা করলেই যে কেউ ফার্মেসি ব্যবসা শুরু করতে পারে না। একটা দোকানে কিছু ঔষধ নিয়ে বসে পড়া বেশ সহজ, কিন্তু প্রক্রিয়াটা অবৈধ।

ঔষধের ব্যবসা করতে গেলে এ জন্য অবশ্যই ব্যবসার আনুষঙ্গিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সঙ্গে আরও অতিরিক্ত করতে হবে ফার্মাসিস্টের ট্রেনিং এবং ড্রাগ লাইসেন্স। ঔষধ তিনিই বিক্রি করতে পারবেন যার ফার্মাসিস্ট ট্রেনিং আছে এবং যিনি ড্রাগ লাইসেন্স পেয়েছেন। ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়া ঔষধের ব্যবসা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আইনগতভাবে দন্ডনীয় অপরাধ। অথচ হাজার হাজার অবৈধ ফার্মেসি রয়েছে।

এলাকায় সুপারশপ থেকে শুরু করে মুদির দোকানে গড়ে উঠেছে ঔষধের ফার্মেসি। বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে যে কয়েকটি খাত নিয়ে গর্ববোধ করতে পারে ঔষধশিল্প তার অন্যতম। অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় সিংহভাগ ঔষধ তৈরি হয় দেশেই। বিশ্বের কয়েকটি দেশে বাংলাদেশের তৈরি ঔষধ রফতানিও হচ্ছে। তবে এ কথাও সত্য যে, কয়েকটি নামি-দামি ঔষধ কোম্পানির পাশাপাশি কিছু অখ্যাত কোম্পানিও আছে, যারা তৈরি করছে নকল ও ভেজাল ঔষধ। ভেজাল ঔষধ খেয়ে শিশুসহ বয়স্কদের মৃত্যুর অভিযোগও আছে। অভিযুক্ত কোম্পানির মালিকদের জেল-জরিমানাসহ কারখানাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দুঃখজনক হলো, এরপরও মানহীন ঔষধ তৈরি ও বাজারজাতকরণের অভিযোগ উঠেছে কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে। মূলত এসব হয়েছে ঔষধের দাম বাড়ার কারণেই। দেশে আটা-ময়দা আর রং ব্যবহার করে ঔষধ তৈরির উদাহরণ রয়েছে।

দেশের ৯৯ ভাগ ফার্মেসিতে নেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। এতেও ঔষধ গুণগতমান নষ্ট হচ্ছে। ঔষধের বক্স, কার্টন বা স্ট্রিপের গায়ে বাংলা ও ইংরেজিতে সংরক্ষণের নির্দেশনা লেখা থাকে। এক্ষেত্রে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতাও রয়েছে, যা ঔষধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য।

ড্রাগ লাইসেন্স, নিবন্ধিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র এবং প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট ব্যতীত জীবনরক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ ঔষধসহ অ্যান্টিবায়োটিকও বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে, জনগণ রয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। যেখানে সেখানে গজিয়ে ওঠা বেশিরভাগ ঔষধ দোকানি নিজেরাই ডাক্তারের মতো অহরহ চিকিৎসা করছে, বিশেষ করে অভাবী ও নিম্নবিত্ত লোকজনকে। সরকারের ঔষধ প্রশাসনের নীতিমালা মোতাবেক, বৈধ ফার্মেসিরও প্রত্যেকটিতে ঔষধ বিক্রি করার জন্য প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট থাকতে হবে। কিন্তু এসব দোকানে এ ধরনের নিয়ম-নীতির কোনো বালাই নেই। অবৈধ ফার্মেসি এবং ভেজাল ও নিষিদ্ধ ঔষধের ছড়াছড়ি সংক্রান্ত প্রতিবেদন কিছুদিন পরপরই জনস্বার্থে প্রকাশিত হয় সংবাদমাধ্যমে। সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সাময়িকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। কিছু ঔষধ কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করা হয়। প্রশাসন অর্থদণ্ড দেওয়া হয় অপরাধীদের। তারপর আবার শুরু হয় একই ধরনের বিপজ্জনক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য নিয়মিত কঠোর মনিটরিং এবং বিশেষ অভিযানের ধারাবাহিকতা অত্যাবশ্যক।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব

জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় রাতারাতি অনেক ঔষধের দোকান গড়ে উঠেছে, মানা হচ্ছে না নীতিমালা

প্রকাশিত : ০২:১২:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

প্রতিষ্ঠিত ও সম্মানজনক ব্যবসার মধ্যে ফার্মেসি ব্যবসা অন্যতম। এখানে পুঁজি বিনিয়োগ করে সহজেই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফার্মেসি ব্যবসা করে সফল হওয়ার স্বপ্ন অনেকেই দেখেন। কিন্তু ইচ্ছা করলেই যে কেউ ফার্মেসি ব্যবসা শুরু করতে পারে না। একটা দোকানে কিছু ঔষধ নিয়ে বসে পড়া বেশ সহজ, কিন্তু প্রক্রিয়াটা অবৈধ।

ঔষধের ব্যবসা করতে গেলে এ জন্য অবশ্যই ব্যবসার আনুষঙ্গিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সঙ্গে আরও অতিরিক্ত করতে হবে ফার্মাসিস্টের ট্রেনিং এবং ড্রাগ লাইসেন্স। ঔষধ তিনিই বিক্রি করতে পারবেন যার ফার্মাসিস্ট ট্রেনিং আছে এবং যিনি ড্রাগ লাইসেন্স পেয়েছেন। ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়া ঔষধের ব্যবসা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আইনগতভাবে দন্ডনীয় অপরাধ। অথচ হাজার হাজার অবৈধ ফার্মেসি রয়েছে।

এলাকায় সুপারশপ থেকে শুরু করে মুদির দোকানে গড়ে উঠেছে ঔষধের ফার্মেসি। বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে যে কয়েকটি খাত নিয়ে গর্ববোধ করতে পারে ঔষধশিল্প তার অন্যতম। অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় সিংহভাগ ঔষধ তৈরি হয় দেশেই। বিশ্বের কয়েকটি দেশে বাংলাদেশের তৈরি ঔষধ রফতানিও হচ্ছে। তবে এ কথাও সত্য যে, কয়েকটি নামি-দামি ঔষধ কোম্পানির পাশাপাশি কিছু অখ্যাত কোম্পানিও আছে, যারা তৈরি করছে নকল ও ভেজাল ঔষধ। ভেজাল ঔষধ খেয়ে শিশুসহ বয়স্কদের মৃত্যুর অভিযোগও আছে। অভিযুক্ত কোম্পানির মালিকদের জেল-জরিমানাসহ কারখানাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দুঃখজনক হলো, এরপরও মানহীন ঔষধ তৈরি ও বাজারজাতকরণের অভিযোগ উঠেছে কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে। মূলত এসব হয়েছে ঔষধের দাম বাড়ার কারণেই। দেশে আটা-ময়দা আর রং ব্যবহার করে ঔষধ তৈরির উদাহরণ রয়েছে।

দেশের ৯৯ ভাগ ফার্মেসিতে নেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। এতেও ঔষধ গুণগতমান নষ্ট হচ্ছে। ঔষধের বক্স, কার্টন বা স্ট্রিপের গায়ে বাংলা ও ইংরেজিতে সংরক্ষণের নির্দেশনা লেখা থাকে। এক্ষেত্রে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতাও রয়েছে, যা ঔষধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য।

ড্রাগ লাইসেন্স, নিবন্ধিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র এবং প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট ব্যতীত জীবনরক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ ঔষধসহ অ্যান্টিবায়োটিকও বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে, জনগণ রয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। যেখানে সেখানে গজিয়ে ওঠা বেশিরভাগ ঔষধ দোকানি নিজেরাই ডাক্তারের মতো অহরহ চিকিৎসা করছে, বিশেষ করে অভাবী ও নিম্নবিত্ত লোকজনকে। সরকারের ঔষধ প্রশাসনের নীতিমালা মোতাবেক, বৈধ ফার্মেসিরও প্রত্যেকটিতে ঔষধ বিক্রি করার জন্য প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট থাকতে হবে। কিন্তু এসব দোকানে এ ধরনের নিয়ম-নীতির কোনো বালাই নেই। অবৈধ ফার্মেসি এবং ভেজাল ও নিষিদ্ধ ঔষধের ছড়াছড়ি সংক্রান্ত প্রতিবেদন কিছুদিন পরপরই জনস্বার্থে প্রকাশিত হয় সংবাদমাধ্যমে। সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সাময়িকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। কিছু ঔষধ কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করা হয়। প্রশাসন অর্থদণ্ড দেওয়া হয় অপরাধীদের। তারপর আবার শুরু হয় একই ধরনের বিপজ্জনক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য নিয়মিত কঠোর মনিটরিং এবং বিশেষ অভিযানের ধারাবাহিকতা অত্যাবশ্যক।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব