০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে অটোরিক্সা ইজিবাইক চার্জ

 নরসিংদী সদর উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নস্থ রসুলপুর গ্রামের গ্যারেজ মালিক শাহ আলম। ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা রাখতে গ্যারেজের জন্য নিয়েছেন বানিজ্যিক বৈদ্যুতিক মিটার। কিন্তু নামে বাণিজ্যিক মিটার হলেও এ গ্যারেজে ব্যাটারি চালিত ৬০ থেকে ৭০টি রিক্সা, ইজিবাইক চার্জ দিয়ে থাকেন প্রতিদিন। এজন্য তিনি মিটারটি সু-হিসেবে দেখালেও রাতের আধাঁরে পাশ্ববর্তী বিদ্যুতের পোল থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে থাকেন।

আর এ কাজে তাকে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করে আসছেন পল্লিবিদ্যুৎ বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মচারী। শুধু মাত্র শাহ আলমের গ্যারেজই নয় সন্ধ্যার পর থেকে প্রতিটি অবৈধ ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা ও ইজিবাইক গ্যারেজের চিত্র এমনটিই বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে হলেও এ যেন দেখার কেউ নেই। অভিযোগ রয়েছে গ্যারেজপ্রতি মাসিক চুক্তিভিত্তিক মোটা অংকের টাকা নিয়ে দিনের পর দিন এসব অবৈধ কর্মকান্ড চলে আসছে। এতে করে সরকার প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর লাভবান হচ্ছে কতিপয় গ্যারাজ মালিকরা এবং পল্লী বিদ্যুতের এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মচারীরা। আর লোডশেডিং এর কবলে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তারা প্রতিনিয়ত বিদ্যুতের লোডশেডিং এর কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, নরসিংদী জেলার ৬টি উপজেলায় এ ধরনের অটোরিক্সা, ইজিবাইকের সংখ্যা ৫ লাখেরও বেশী। শুধু মাত্র নরসিংদী সদর উপজেলায়ই ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা ও ইজিবাইকের সংখ্যা ১ লাখেরও বেশী।

যার বেশীরভাগ শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, জেলখানা মোড়, ভেলানগর বাজার, সংগীতা, ঘোড়াদিয়া, বাসাইল, পুটিয়া, দাসপাড়া, সাটিরপাড়া, সাহেপ্রতাব, করিমপুর, নজরপুর, শ্রীনগর, বাউশিয়া, বুধিয়ামারা এলাকায় চলাচল করে থাকে। আর অটোরিক্সা ও ইজিবাইকগুলো রাখার জন্য শুধুমাত্র নরসিংদী সদর এবং রায়পুরা উপজেলার আশপাশ এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে কয়েকশত গ্যারেজ। এসকল গ্যারেজে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে ব্যাটারি চালিত রিক্সা ও ইজিবাইক প্রকাশ্যেই চার্জ দেয়া হচ্ছে। নরসিংদী ইজিবাইক আমদানী ও সরবরাহ কারী ব্যবসায়ী সমিতির দেয়া তথ্য মতে নরসিংদী শহর, মাধবদী এবং সকল উপজেলার গ্রাম পর্যায়ে ৫ লাখেরও বেশী ইজিবাইক ও ব্যাটারী চালিত রিক্সা, ভ্যান চলাচল করছে। আর এসকল যানবাহন চার্জ দিতে দৈনিক ৫শত মেগাওয়ার্ড বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে।

নরসিংদী শহরের সাটিরপাড়া মহল্লার আব্দুল আজিজ মিয়ার নিজেরই ১৫টি অটোরিক্সা ও ইজিবাইক রয়েছে। তার সাথে আলাপ করে জানা গেছে, সাধারণত একটি ইজিবাইকের জন্য চার থেকে পাঁচটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি প্রয়োজন। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বানিজ্যিক হারে ৮টাকা দরে ৫ লাখ ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ও অটোরিক্সা। প্রতিদিন গড়ে ৪০ লাখ টাকারও বেশী বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। প্রতি মাসে খরচ হয় এক কোটি ২০ লাখ টাকা। কিন্তু নরসিংদী সদর উপজেলার বেশ কয়েকজন গ্যারেজ মালিকের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, প্রকৃতপক্ষে একটি অটোরিক্সা ও ইজিবাইক চার্জের জন্য প্রতিদিন নেয়া হচ্ছে দুইশত টাকা থেকে দুই শত বিশ টাকা। একশটি ইজিবাইকের জন্য নেয়া হয় ২০ হাজার টাকা। সেই হিসেবে প্রতিমাসে দাঁড়ায় ৬ লাখ টাকা। গ্যারেজ মালিকদের তথ্য অনুযায়ী নরসিংদী সদরেই রয়েছে শাতাধিক গ্যারেজ। এ হিসেবে মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকা নেয়া হচ্ছে চালকদের কাছ থেকে। এতে দেখা যায় গ্যারেজ মালিকদের তথ্য অনুযায়ী ৪ কোটি টাকার গড়মিল রয়েছে। আর এসব টাকাতে পকেট ভারী করছেন গ্যারেজ মালিক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মচারীরা। ঘোড়াদিয়া এলাকার বাসিন্দা গ্যারেজ মালিক মোঃ রমিজ উদ্দিন এর সাথে চার্জ সিস্টেম্প সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিসেট ব্যাটারি ৮ ঘন্টা চার্জের জন্য নেয়া হয় দুই শত টাকা।

ব্রাহ্মন্দী মহল্লার বাসিন্দা অটোরিক্সা চালক সাহাজ উদ্দিন জানান, রাতে প্রায় ৭৫ভাগ গাড়ী চার্জ হয় অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে। আর বাকী ২৫ ভাগ গাড়ী চার্জ হয় বৈধ সংযোগের মাধ্যমে। দিনের বেলায় খুব একটা চার্জ হয়না। রাতে চার্জ দেয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, সারা রাত চার্জ দিয়ে সারা দিন চলে। রাতে অবৈধ সংযোগ চার্জ দেয়া নিরাপদ।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে গ্যারেজ মালিক এ প্রতিনিধিকে বলেন, এইযে বিদ্যুৎ লাইন দেখছেন? এগুলো দিয়ে রাতে চার্জ দেয়া হয়। যার বেশীরভাগই অবৈধ সংযোগ। তিনি হাসতে হাসতে আরো বলেন, সব যদি বৈধভাবে চার্জ দেয়া হয় তা হলে গ্যারেজ মালিক বিদ্যুৎ বিল দিতে দিতে ফকির হয়ে যাবে। পল্লী বিদ্যুতের লোকজন এসে কোনো জামেলা করেনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেন ঝামেলা করবে? প্রতিমাসে তাদেরকে মোটা অংকের টাকা দিতে হয়। তবে বড় বড় অফিসার পরিদর্শন করতে এলে পূর্ব থেকেই যারা মাসোহারা নেন তারা আগে থেকেই গ্যারেজ মালিকদের বলে দেন। ওই সময় গ্যারেজ তালাবদ্ধ থাকে, না হয় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগটি খুলে রাখা হয়।

নরসিংদী শহর এবং আশপাশের এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে বেশীরভাগ গ্যারেজেই মূলত খালি জায়গায় টিনসেট ঘর তৈরী করে এখানে গাড়ী চার্জ দেয়া হচ্ছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর অধিনে এপর্যন্ত নরসিংদী সদর উপজেলায় ১৩০টি এবং সদর জোনাল অফিসের অধিনে ২৬টি ব্যাটারি চার্জ গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। এছাড়া শিবপুর ৪টি, মনোহরদীতে ১৮টি, পলাশে ১৬টি, বেলাবতে ২১টি এবং রায়পুরাতে ৪৪টি গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, এসমস্ত বৈধ গ্যারেজের আশপাশ এলাকায় অসংখ অবৈধ গ্যারেজ গড়ে উঠেছে।
অপর একটি সূত্র জানায় যে, নরসিংদী সদর উপজেলার এবং রায়পুরা উপজেলার সুদুর চরাঞ্চলে ইজিবাইক এবং অটোরিক্সার সংখ্যা সবচেয়ে বেশী।
বিষয়টি নিয়ে নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর এজিএম (অর্থ রাজস্ব) মোঃ সাব্বির পাঠানের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, অবৈধভাবে গড়ে উঠা গ্যারেজগুলোর খবর তাদের কাছে রয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ প্রতিনিয়ত এগুলোর ব্যাপারে অভিযান চালাচ্ছে এবং অবৈধ গ্যারেজগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এব্যাপারে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।দেশ জুড়ে দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ সংকট। বিদ্যুতের অপচয় রোধে নানা রকমের নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। সেখানে দেয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ ব্যবহারে নানা নিষেধাজ্ঞা। সরকারের এমন আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে অবৈধ বিদ্যুতের রমরমা ব্যবসা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইউরেনিয়াম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ইরানের

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে অটোরিক্সা ইজিবাইক চার্জ

প্রকাশিত : ০৪:৪৬:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ মার্চ ২০২৩

 নরসিংদী সদর উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নস্থ রসুলপুর গ্রামের গ্যারেজ মালিক শাহ আলম। ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা রাখতে গ্যারেজের জন্য নিয়েছেন বানিজ্যিক বৈদ্যুতিক মিটার। কিন্তু নামে বাণিজ্যিক মিটার হলেও এ গ্যারেজে ব্যাটারি চালিত ৬০ থেকে ৭০টি রিক্সা, ইজিবাইক চার্জ দিয়ে থাকেন প্রতিদিন। এজন্য তিনি মিটারটি সু-হিসেবে দেখালেও রাতের আধাঁরে পাশ্ববর্তী বিদ্যুতের পোল থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে থাকেন।

আর এ কাজে তাকে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করে আসছেন পল্লিবিদ্যুৎ বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মচারী। শুধু মাত্র শাহ আলমের গ্যারেজই নয় সন্ধ্যার পর থেকে প্রতিটি অবৈধ ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা ও ইজিবাইক গ্যারেজের চিত্র এমনটিই বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে হলেও এ যেন দেখার কেউ নেই। অভিযোগ রয়েছে গ্যারেজপ্রতি মাসিক চুক্তিভিত্তিক মোটা অংকের টাকা নিয়ে দিনের পর দিন এসব অবৈধ কর্মকান্ড চলে আসছে। এতে করে সরকার প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর লাভবান হচ্ছে কতিপয় গ্যারাজ মালিকরা এবং পল্লী বিদ্যুতের এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মচারীরা। আর লোডশেডিং এর কবলে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তারা প্রতিনিয়ত বিদ্যুতের লোডশেডিং এর কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, নরসিংদী জেলার ৬টি উপজেলায় এ ধরনের অটোরিক্সা, ইজিবাইকের সংখ্যা ৫ লাখেরও বেশী। শুধু মাত্র নরসিংদী সদর উপজেলায়ই ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা ও ইজিবাইকের সংখ্যা ১ লাখেরও বেশী।

যার বেশীরভাগ শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, জেলখানা মোড়, ভেলানগর বাজার, সংগীতা, ঘোড়াদিয়া, বাসাইল, পুটিয়া, দাসপাড়া, সাটিরপাড়া, সাহেপ্রতাব, করিমপুর, নজরপুর, শ্রীনগর, বাউশিয়া, বুধিয়ামারা এলাকায় চলাচল করে থাকে। আর অটোরিক্সা ও ইজিবাইকগুলো রাখার জন্য শুধুমাত্র নরসিংদী সদর এবং রায়পুরা উপজেলার আশপাশ এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে কয়েকশত গ্যারেজ। এসকল গ্যারেজে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে ব্যাটারি চালিত রিক্সা ও ইজিবাইক প্রকাশ্যেই চার্জ দেয়া হচ্ছে। নরসিংদী ইজিবাইক আমদানী ও সরবরাহ কারী ব্যবসায়ী সমিতির দেয়া তথ্য মতে নরসিংদী শহর, মাধবদী এবং সকল উপজেলার গ্রাম পর্যায়ে ৫ লাখেরও বেশী ইজিবাইক ও ব্যাটারী চালিত রিক্সা, ভ্যান চলাচল করছে। আর এসকল যানবাহন চার্জ দিতে দৈনিক ৫শত মেগাওয়ার্ড বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে।

নরসিংদী শহরের সাটিরপাড়া মহল্লার আব্দুল আজিজ মিয়ার নিজেরই ১৫টি অটোরিক্সা ও ইজিবাইক রয়েছে। তার সাথে আলাপ করে জানা গেছে, সাধারণত একটি ইজিবাইকের জন্য চার থেকে পাঁচটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি প্রয়োজন। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বানিজ্যিক হারে ৮টাকা দরে ৫ লাখ ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ও অটোরিক্সা। প্রতিদিন গড়ে ৪০ লাখ টাকারও বেশী বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। প্রতি মাসে খরচ হয় এক কোটি ২০ লাখ টাকা। কিন্তু নরসিংদী সদর উপজেলার বেশ কয়েকজন গ্যারেজ মালিকের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, প্রকৃতপক্ষে একটি অটোরিক্সা ও ইজিবাইক চার্জের জন্য প্রতিদিন নেয়া হচ্ছে দুইশত টাকা থেকে দুই শত বিশ টাকা। একশটি ইজিবাইকের জন্য নেয়া হয় ২০ হাজার টাকা। সেই হিসেবে প্রতিমাসে দাঁড়ায় ৬ লাখ টাকা। গ্যারেজ মালিকদের তথ্য অনুযায়ী নরসিংদী সদরেই রয়েছে শাতাধিক গ্যারেজ। এ হিসেবে মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকা নেয়া হচ্ছে চালকদের কাছ থেকে। এতে দেখা যায় গ্যারেজ মালিকদের তথ্য অনুযায়ী ৪ কোটি টাকার গড়মিল রয়েছে। আর এসব টাকাতে পকেট ভারী করছেন গ্যারেজ মালিক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মচারীরা। ঘোড়াদিয়া এলাকার বাসিন্দা গ্যারেজ মালিক মোঃ রমিজ উদ্দিন এর সাথে চার্জ সিস্টেম্প সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিসেট ব্যাটারি ৮ ঘন্টা চার্জের জন্য নেয়া হয় দুই শত টাকা।

ব্রাহ্মন্দী মহল্লার বাসিন্দা অটোরিক্সা চালক সাহাজ উদ্দিন জানান, রাতে প্রায় ৭৫ভাগ গাড়ী চার্জ হয় অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে। আর বাকী ২৫ ভাগ গাড়ী চার্জ হয় বৈধ সংযোগের মাধ্যমে। দিনের বেলায় খুব একটা চার্জ হয়না। রাতে চার্জ দেয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, সারা রাত চার্জ দিয়ে সারা দিন চলে। রাতে অবৈধ সংযোগ চার্জ দেয়া নিরাপদ।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে গ্যারেজ মালিক এ প্রতিনিধিকে বলেন, এইযে বিদ্যুৎ লাইন দেখছেন? এগুলো দিয়ে রাতে চার্জ দেয়া হয়। যার বেশীরভাগই অবৈধ সংযোগ। তিনি হাসতে হাসতে আরো বলেন, সব যদি বৈধভাবে চার্জ দেয়া হয় তা হলে গ্যারেজ মালিক বিদ্যুৎ বিল দিতে দিতে ফকির হয়ে যাবে। পল্লী বিদ্যুতের লোকজন এসে কোনো জামেলা করেনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেন ঝামেলা করবে? প্রতিমাসে তাদেরকে মোটা অংকের টাকা দিতে হয়। তবে বড় বড় অফিসার পরিদর্শন করতে এলে পূর্ব থেকেই যারা মাসোহারা নেন তারা আগে থেকেই গ্যারেজ মালিকদের বলে দেন। ওই সময় গ্যারেজ তালাবদ্ধ থাকে, না হয় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগটি খুলে রাখা হয়।

নরসিংদী শহর এবং আশপাশের এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে বেশীরভাগ গ্যারেজেই মূলত খালি জায়গায় টিনসেট ঘর তৈরী করে এখানে গাড়ী চার্জ দেয়া হচ্ছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর অধিনে এপর্যন্ত নরসিংদী সদর উপজেলায় ১৩০টি এবং সদর জোনাল অফিসের অধিনে ২৬টি ব্যাটারি চার্জ গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। এছাড়া শিবপুর ৪টি, মনোহরদীতে ১৮টি, পলাশে ১৬টি, বেলাবতে ২১টি এবং রায়পুরাতে ৪৪টি গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, এসমস্ত বৈধ গ্যারেজের আশপাশ এলাকায় অসংখ অবৈধ গ্যারেজ গড়ে উঠেছে।
অপর একটি সূত্র জানায় যে, নরসিংদী সদর উপজেলার এবং রায়পুরা উপজেলার সুদুর চরাঞ্চলে ইজিবাইক এবং অটোরিক্সার সংখ্যা সবচেয়ে বেশী।
বিষয়টি নিয়ে নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর এজিএম (অর্থ রাজস্ব) মোঃ সাব্বির পাঠানের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, অবৈধভাবে গড়ে উঠা গ্যারেজগুলোর খবর তাদের কাছে রয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ প্রতিনিয়ত এগুলোর ব্যাপারে অভিযান চালাচ্ছে এবং অবৈধ গ্যারেজগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এব্যাপারে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।দেশ জুড়ে দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ সংকট। বিদ্যুতের অপচয় রোধে নানা রকমের নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। সেখানে দেয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ ব্যবহারে নানা নিষেধাজ্ঞা। সরকারের এমন আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে অবৈধ বিদ্যুতের রমরমা ব্যবসা।