উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলা হয় সিরাজগঞ্জকে। আর সেই জেলাই ছিল এক সময় ছিল অবহেলিত , কিন্তু আজ জেলার গ্রামীণ অবাকাঠামো উন্নয়ন চিত্র এখন দৃশ্যমান। ২০০৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাস্তাঘাট-ব্রীজ কালর্ভাট, স্কুল কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, সবই সৌর্ন্দয্য ও শোভা পাচ্ছে। এক সময়ের অবহেলিত গ্রামের মোড়গুলোতে, এখন চায়ের দোকান, অতিসহজে নিত্যপণ্য পাওয়া যায়, এলাকার সাধারণ জনগন এখন আনন্দিত।
আওমীলীগ সরকার ২০০৯ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর সারাদেশের ন্যায় সিরাজগঞ্জেও ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করে যা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আর কোন সরকার করেনি। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর উন্নত বিশে^র সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ করার ঘোষণা দেয়, সেই সঙ্গে দেশকে মধ্যম আয়ের (উন্নয়নশীল) দেশে পরিনত করা পরিকল্পরা হাতে নেয়। দেশের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন করতে শুরু করে। দেশের বিদ্যুৎ, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ কালর্ভাট, শিক্ষা, চিকিৎসা, নদ নদী খনন, দেশকে মাছে স্বয়ং সর্ম্পূণ করণ, বেকার সমস্যার সমাধান, শিল্প উন্নয়ন, কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি সহ নানাবিধ উন্নয়ন কার্যক্রম নির্দিষ্ট সময়ের আগেই অর্জন করায়, দেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌছে যায়, সরকার এরপর হাতে নিয়েছে উন্নত দেশ গড়ার মহা পরিকল্পনা। ২০৪১ সালের মধ্যেই উন্নত দেশ গড়ার পাশাপাশি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছে।
সংশি¬ষ্ট অফিস সুত্রে জানা যায়, প্রধান মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি,প্রত্যেকটা গ্রামই, শহরের সুযোগ সুবিধা পাবে । সেই অঙ্গীকার সামনে রেখে, সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের মাধ্যমে জেলার কাজিপুর, সদর, কামারখন্দ, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, উল্লাপাড়া, বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে সমান তালে উন্নয়ন কার্যক্রম গুলো করছে।
জেলায় গত ১৪ বছরে প্রায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গুলোর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য প্রকল্প হচ্ছে :
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিবাড়ীতে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মন্দির নির্মাণ, সদর উপজেলায় প্রায় ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে স্বাধীনতা বিজয় সৌধ নির্মাণ এবং প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে স্বাধীনতা স্কয়ারে মুক্তমঞ্চ, ওয়াশরুম ও গ্রীনরুম নির্মাণ, সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জন্য প্রায় ৯৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাস ভবন নির্মাণ, সয়দাবাদে প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে যাত্রী ছাউনী নির্মাণ প্রায় ৪৫ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে সদর ডাকবাংলো ভবন নির্মান, প্রায় ৩৮ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয়ে সদর ডাকবাংলোর গ্যারেজ পার্কিংওয়ে, ড্রেন নির্মান, প্রায় ৫৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সিরাজগঞ্জ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিষ্টিক বিদ্যালয় নির্মাণ। কাজিপুর উপজেলায় প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজিপুর ডাকবাংলো নির্মাণ, এছাড়া প্রায় ৯ কোটি ৪৯ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা ব্যয়ে কাজিপুর উপজেলায় জেলা পরিষদের জমিতে ৫০০ আসন বিশিষ্ট শহীদ এম মনসুর আলী আধুনিক অডিটরিয়াম নির্মাণ। শাহজাদপুরে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বারিয়াপুর সুপার মার্কেট নির্মাণ। তাড়াশ উপজেলায় প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ক্ষিরশীন আটচালা মন্দির নির্মাণ
উল্লাপাড়া উপজেলায় উল্লাপাড়া প্রেস ক্লাব প্রায় ৩১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ, প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কানসোনা মুক্তিযুদ্দ সংগ্রহশালার ঘর নির্মাণ, উল্লাপাড়া, বেলকুচি উপজেলায় দেলুয়ায় প্রায় ২২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সেবাশ্রম নির্মাণ, বেলকুচিতে প্রায় ২১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্বশান নির্মাণ, প্রায় ৩৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মুকুন্দগাতী যাত্রী ছাউনি নির্মাণ, বেলকুচিতে তালুকদার মেটুয়ানী শীতলমারী খালের উপর প্রায় ২২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আরসিসি বক্স/কালভার্ট নির্মাণ, বেলকুচি মেঘুল্লা শোলাকুড়ায় প্রায় ৪৯ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে কবরস্থানের বাউন্ডারীওয়াল নির্মাণ, বেলকুচি সুবর্ণসাড়া সাহাপুর বাজার হয়ে ডাকহ্যাচারী পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে রাস্তা নির্মাণ
চৌহালী উপজেলাধীন এনায়েতপুর বায়তুল নুর জামে মসজিদের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করণ মেঝে টাইলস বাবদ প্রায় ৫৭ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ। এছাড়া জেলার ০৯টি উপজেলায় প্রায় ৬৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গৃহহীনদের মাঝে ২২টি গৃহ নির্মাণ, ছাড়াও জেলায় প্রতি বছর এডিপি ও অন্যান্য আয় থেকে মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, কবরস্তান, সেবা শ্রম, আর সিসি রাস্তা, কালভার্টসহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করে থাকে।
সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এবং বর্তমানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো: আব্দুল লতিফ বিশ্বাস জানান, আওয়ামীলীগ সরকার যে উন্নয়ন করেছে, তা অতীতের কোন সরকার করতে পারেনি। সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পর ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ নিয়ে কাজ করছে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ।
সিরাজগঞ্জ -১ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় বলেন, কাজিপুর উপজেলায় উন্নয়নের ছোঁয়া লেগে আছে। আপনারা দেখবেন, শহর রক্ষা বাঁধ, জেলার রাস্তাঘাট, থানা স্থাপন ও তার আধুনিকায়ন, পাসপোর্ট অফিস, ভূমি অফিস, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও জেলায় সকল স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ঠ হাসপাতল এবং এর প্রকৌশল অফিস ও স্থাপন করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদক্ষ নেতৃত্বের কারণে জেলার সকল কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাক্তার হাবিবে মিল্লাত মুন্না বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে মধ্যে অতীতের সকল সরকারের আমলে যে উন্নয়ন হয়েছে তার চেয়ে বর্তমান সরকার ১৪ বছরে দেশে বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ ও কামারখন্দে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন কাজ হয়েছে এবং আর কিছু কাজ চলমান রয়েছে। যেমন বঙ্গবন্ধু রেল সেতু, ইর্কোনোমিক জোন, বিসিক শিল্পপার্ক, শেখ হাসিনা ট্রমা সেন্টার, শেখ হাসিনা নাসিং কলেজ, সিরাজগঞ্জ ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি, শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ ও ৫শ শয্যার হাসপাতাল , চীফজুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ সহ জেলায় বিভিন্ন রাস্তা ঘাট, ব্রীজ কালভার্ট সহ অসংখ্য স্থাপনা।
সিরাজগঞ্জ জেলা আ.লীগের সভাপতি কেএম হোসেন আলী হাসান জানান, সিরাজগঞ্জের উন্নয়ন সব হয়েছে বর্তমান আওমীলীগ সরকারের অধীনেই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বের কারণে সারা দেশের ন্যায় সিরাজগঞ্জ জেলাতেও সকল উন্নয়ন কাজ হয়েছে আর কিছু কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এর আগে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ২১ বছর পর ক্ষমতাসীন হয়। সেই সরকারে মোহাম্মদ নাসিম প্রথমে ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। খুলে যায় সিরাজগঞ্জবাসীর ভাগ্যের চাকা। নদীভাঙনের হাত থেকে সিরাজগঞ্জ শহরবাসীকে রক্ষার জন্য নির্মাণ করা হয় আড়াই কিলোমিটার শহর রক্ষা বাঁধ। যে বাঁধটি নির্মাণে দুই যুগ ধরে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে সিরাজগঞ্জ শহর। মন্ত্রী থাকার প্রথম মেয়াদের ৫ বছরে নাসিমের প্রচেষ্টায় সিরাজগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত হয় সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ভবন, সোনালী ব্যাংক ভবন, অত্যাধুনিক শহীদ এম মনসুর আলী অডিটোরিয়ামসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। শহরের প্রধান সড়ক এস এস রোড ও মুজিবসড়ক প্রশস্তকরণসহ নির্মিত হয় নতুন নতুন সড়ক, সেতু স্কুল-কলেজ ভবন। আইনশৃংখলা রক্ষার স্বার্থে জেলার এনায়েতপুর ও সলঙ্গায় দুটি থানা প্রতিষ্ঠা করেন নাসিম। ভাঙনকবলিত দুস্থ মানুষের পুনর্বাসনের জন্য সয়দাবাদ ও একডালায় দুটি পুরনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ করেন নাসিম।
লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারি শিল্পপার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। শিশুদের বিনোদনের জন্য দৃষ্টিনন্দন শেখ রাসেল শিশু পার্ক প্রকল্প হাতে নেন তিনি।
এর পর আসে সেই কালো দিন ২০০১ সালে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে থমকে যায় চলমান এসব উন্নয়ন কর্মকান্ড। আওয়ামী লীগ সরকার যে উন্নয়ন চিত্র রেখে গিয়ে ছিল, তা সম্পূর্ন বন্ধ করে দিয়ে সারা দেশে চলে হত্যা, টেন্ডারবাজী, দুর্নীতির মহাযজ্ঞ। যার ফলে দেশ এক অস্থিতিশীল পরিস্থির মধ্যে পড়ে যায়।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায়নের পর, সারা দেশের ন্যায় সিরাজগঞ্জেও উন্নয়নের ধারা অবাহত ভাবে শুরু করে সরকার।




















