০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

ফেনীতে পানিশূন্য খাল বোরো খেত চৌচির

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরাঞ্চলের খালগুলো এখন পানিশূন্য। খাল খননে অনিয়ম ও ইরিগেশন প্রকল্পের পানির লাইন চালু না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে কৃষক জানিয়েছেন। মৌসুমের শুরুতে খালে পানি পেয়ে কৃষক ধানের চারা রোপণ করলেও এখন পানির অভাবে খেত শুকিয়ে চৌচির। ফলে বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক। শিগগিরই খেতে পানি দিতে না পারলে আবাদকৃত ফসল নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন  তারা। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করেও কোনো কাজ হচ্ছে না বলে কৃষক অভিযোগ করেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজী উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত এক হাজার হেক্টর বোরো রয়েছে সোনাগাজী সদর, চরছান্দিয়া ও চরদরবেশ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে। এ তিনটি ইউনিয়নে সোনাগাজীর ডাঙ্গি খাল, বামনখালী খাল ও  ঝালিয়ার ডাঙ্গি খাল এবং ইরিগেশন প্রকল্পের পানির লাইন থেকে আবাদি জমিতে পানি সরবরাহ করা হয়। চলতি মৌসুমের শুরুর দিকে খালে পানি পেয়ে কৃষক বোরো আবাদ শুরু করেন। অনেকেই জমিতে ধানের চারা লাগিয়েছেন। কিন্তু কয়েকদিন ধরে হঠাৎ খালগুলোয় পানি দেয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় পানি সংকটে আবাদকৃত বোরো খেত শুকিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। শুধু তা-ই নয়, চলতি মৌসুমে নানা কারণে এসব এলাকায় ইরিগেশন প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত পানির লাইনগুলোও চালু করা যায়নি। দ্রুত খালে পানি দেয়া এবং ইরিগেশন প্রকল্পের পানির লাইন চালুর জন্য বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টদের কাছে ধরনা দিয়েও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখছেন না কৃষক। এতে আবাদকৃত বোরো নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা। শিগগিরই জমিতে পানি দিতে না পারলে ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাবে। ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমের আগেই এসব খাল সংস্কার করা হয়েছে। সংস্কারের সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে দায়সারা কাজ করেছে। ওই সময় কৃষক খালের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও কেউ কর্ণপাত করেননি। বর্তমানে খালের তলদেশে সমতা না থাকায় বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের দিকে পানি যাচ্ছে না। মৌসুমের শুরুর দিকে পানি পাওয়া গেলেও এখন খালগুলো পুরোপুরি শুকিয়ে গেছে। প্রয়োজনমতো পানি দিতে না পারায় বোরো খেতও শুকিয়ে গেছে।
চরছান্দিয়া ইউনিয়নের আদর্শ কৃষক আবু সাইদ রুবেল জানান, বোরোর সঙ্গে এবার প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ করেছেন তিনি। খালে পানি না পাওয়ায় ধান ও ভুট্টা খেতে প্রয়োজনমতো পানি দেয়া যাচ্ছে না। দ্রুত পানির ব্যবস্থা করা না গেলে ফসল বাঁচানো যাবে না।
উপজেলা পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেন জানান, বেশ কয়েকদিন খালে পানির ব্যবস্থা করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড  কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু কার্যত তাদের তৎপরতা দৃশ্যমান না হওয়ায় কৃষকের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
সোনাগাজী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উম্মে রুমা ও চরছান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, ‘খালে ১৫ দিন ধরে পানি নেই, বিষয়টি আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের জানিয়েছি, তারা বিষয়টি দেখছি দেখছি বলে সময়ক্ষেপণ করছেন।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন মজুমদার বলেন, ‘‌এ ধরনের ঘটনা কৃষকের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পানি সঞ্চালনের দায়িত্ব হলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের। তারা কেন হঠাৎ করে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে সে বিষয়ে আমরাও খোঁজখবর নেয়ার চেষ্টা করছি।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুর রহমার বলেন, ‘পানি সংকটের বিষয়টি আমরা জেনেছি। তবে ঠিক কী কারণে খালে পানি যাচ্ছে না তা খতিয়ে দেখতে হবে। শিগগিরই খাল পরিদর্শন করে পানির ব্যবস্থা করা হবে।
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইউরেনিয়াম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ইরানের

ফেনীতে পানিশূন্য খাল বোরো খেত চৌচির

প্রকাশিত : ০৯:৫৯:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ মার্চ ২০২৩
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরাঞ্চলের খালগুলো এখন পানিশূন্য। খাল খননে অনিয়ম ও ইরিগেশন প্রকল্পের পানির লাইন চালু না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে কৃষক জানিয়েছেন। মৌসুমের শুরুতে খালে পানি পেয়ে কৃষক ধানের চারা রোপণ করলেও এখন পানির অভাবে খেত শুকিয়ে চৌচির। ফলে বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক। শিগগিরই খেতে পানি দিতে না পারলে আবাদকৃত ফসল নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন  তারা। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করেও কোনো কাজ হচ্ছে না বলে কৃষক অভিযোগ করেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজী উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত এক হাজার হেক্টর বোরো রয়েছে সোনাগাজী সদর, চরছান্দিয়া ও চরদরবেশ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে। এ তিনটি ইউনিয়নে সোনাগাজীর ডাঙ্গি খাল, বামনখালী খাল ও  ঝালিয়ার ডাঙ্গি খাল এবং ইরিগেশন প্রকল্পের পানির লাইন থেকে আবাদি জমিতে পানি সরবরাহ করা হয়। চলতি মৌসুমের শুরুর দিকে খালে পানি পেয়ে কৃষক বোরো আবাদ শুরু করেন। অনেকেই জমিতে ধানের চারা লাগিয়েছেন। কিন্তু কয়েকদিন ধরে হঠাৎ খালগুলোয় পানি দেয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় পানি সংকটে আবাদকৃত বোরো খেত শুকিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। শুধু তা-ই নয়, চলতি মৌসুমে নানা কারণে এসব এলাকায় ইরিগেশন প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত পানির লাইনগুলোও চালু করা যায়নি। দ্রুত খালে পানি দেয়া এবং ইরিগেশন প্রকল্পের পানির লাইন চালুর জন্য বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টদের কাছে ধরনা দিয়েও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখছেন না কৃষক। এতে আবাদকৃত বোরো নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা। শিগগিরই জমিতে পানি দিতে না পারলে ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাবে। ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমের আগেই এসব খাল সংস্কার করা হয়েছে। সংস্কারের সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে দায়সারা কাজ করেছে। ওই সময় কৃষক খালের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও কেউ কর্ণপাত করেননি। বর্তমানে খালের তলদেশে সমতা না থাকায় বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের দিকে পানি যাচ্ছে না। মৌসুমের শুরুর দিকে পানি পাওয়া গেলেও এখন খালগুলো পুরোপুরি শুকিয়ে গেছে। প্রয়োজনমতো পানি দিতে না পারায় বোরো খেতও শুকিয়ে গেছে।
চরছান্দিয়া ইউনিয়নের আদর্শ কৃষক আবু সাইদ রুবেল জানান, বোরোর সঙ্গে এবার প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ করেছেন তিনি। খালে পানি না পাওয়ায় ধান ও ভুট্টা খেতে প্রয়োজনমতো পানি দেয়া যাচ্ছে না। দ্রুত পানির ব্যবস্থা করা না গেলে ফসল বাঁচানো যাবে না।
উপজেলা পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেন জানান, বেশ কয়েকদিন খালে পানির ব্যবস্থা করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড  কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু কার্যত তাদের তৎপরতা দৃশ্যমান না হওয়ায় কৃষকের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
সোনাগাজী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উম্মে রুমা ও চরছান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, ‘খালে ১৫ দিন ধরে পানি নেই, বিষয়টি আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের জানিয়েছি, তারা বিষয়টি দেখছি দেখছি বলে সময়ক্ষেপণ করছেন।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন মজুমদার বলেন, ‘‌এ ধরনের ঘটনা কৃষকের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পানি সঞ্চালনের দায়িত্ব হলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের। তারা কেন হঠাৎ করে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে সে বিষয়ে আমরাও খোঁজখবর নেয়ার চেষ্টা করছি।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুর রহমার বলেন, ‘পানি সংকটের বিষয়টি আমরা জেনেছি। তবে ঠিক কী কারণে খালে পানি যাচ্ছে না তা খতিয়ে দেখতে হবে। শিগগিরই খাল পরিদর্শন করে পানির ব্যবস্থা করা হবে।