০২:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘দখিন দুয়ার’ সিনেমায় অভিনয় করতে এসে শিবচরের প্রশংসা পঞ্চমুখ ফেরদৌস

পদ্মাপারের মানুষসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনসংগ্রাম, পদ্মা সেতুর আগের দৃশ্যপট-বর্তমান দৃশ্যপট ও উন্নয়নচিত্র নিয়ে ‘দখিন দুয়ার’ সিনেমার শুটিং চলছে মাদারীপুরের শিবচরের পদ্মার পাড়ে।

সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ডের পরিচালনায় নির্মিত সিনেমাটিতে অভিনয় করছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ফেরদৌস, অভিনেত্রী সিমলা, অধরা খানসহ অনেক গুণী শিল্পী। সিনেমায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনধারা তুলে ধরতে পদ্মাপারের শিবচর উপজেলাকে বেছে নিয়েছেন পরিচালক। শুটিং স্পট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে নদীপারের একটি বাড়িকে। গত কয়েক দিন ধরে পদ্মার পাড়ে চলা শুটিং দেখতে আশপাশের মানুষ ভিড় করছেন শুটিং স্পটে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে পদ্মা নদীর পারের শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সিনেমাটির শুটিং চলছে। এ সিনেমায় পদ্মা সেতু চালুর আগে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দুর্দশা, পরের দৃশ্যপট, উন্নয়নচিত্র ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে। সিনেমায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় পদক্ষেপ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দখিন দুয়ার খুলে উত্তর ও দক্ষিণের সংযোগের চিত্র ফুটে উঠবে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনধারা তুলে ধরতে পদ্মাপারের শিবচর উপজেলাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ফুটিয়ে তোলা হবে শিবচরের উন্নয়নচিত্রকেও।

কাঠালবাড়ি পুরাতন ফেরিঘাট সংলগ্ন গ্রামের সিদ্দিক ফকিরের বাড়িতে সিনেমাটির দৃশ্যায়নের কাজ করছেন পরিচালক, অভিনেতা ফেরদৌস, অভিনেত্রী সিমলা, অধরাসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দুই শিফটে চলছে সিনেমাটির শুটিং। এর আগে সিনেমাটির শুটিং চলে পদ্মার বুকে ফেরি, স্পিডবোটসহ নৌযানগুলোতে। দক্ষিণবঙ্গগামী মানুষের কিংবা নদী পারাপার হওয়া মানুষের শীতকালীন দুর্দশার চিত্র শুটিং হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দুর্দশা নিয়েই ছবির গল্প এগোবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সিনেমাটির প্রায় পুরোভাগের দৃশ্যই নির্মিত হবে শিবচরের পদ্মার পাড়ে। প্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের খুব কাছ থেকে দেখতে ওসমান বেপারীকান্দি গ্রামে প্রতিদিনই ভিড় করে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিশু, কিশোর, নারী, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ।

স্থানীয় এক দর্শনার্থী আলীম মিয়া বলেন, আজ পদ্মা সেতু হওয়ার কারণেই আমাদের এলাকায় সিনেমার শুটিং হচ্ছে। আমরাও দল বেঁধে শুটিং দেখতে এসেছি। এত কাছ থেকে প্রিয় নায়ক-নায়িকাদের দেখে খুব ভালো লাগছে।

আরেক দর্শনার্থী বললেন, প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু করে দিয়ে আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দূর করেছেন। আজ এই পদ্মা সেতু হওয়ার কারণেই সিনেমার নায়ক-নায়িকারা আমাদের এলাকায় সহজেই আসতে পারছেন বলেই শুটিং হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য গর্বের ব্যাপার।

সিনেমাটির অভিনেত্রী অধরা খান বলেন, পদ্মা সেতু পার হয়ে এখানে শুটিং করতে এসে খুব ভালো লাগছে। ভালো একটি সিনেমার শুটিং করছি। পরিচালক ডায়মন্ড ভাইও ভালো মানুষ। তার সঙ্গে কাজ করতেও ভালো লাগে।

চিত্রনায়িকা শিমলা বলেন, অনেক দিন পর ভালো একটি সিনেমার শুটিং করছি পদ্মার পাড়ে। সিনেমাটির গল্প অনেক ভালো। আমার চরিত্রটিও আমার খুবই পছন্দ হয়েছে। শিবচরে গত কয়েক দিন হলো আছি। এখানকার মানুষগুলো খুবই ভালো। আমরা মাটির মানুষ। আর এখানকার মাটির ঘ্রাণ খুবই সুন্দর।

চিত্রনায়ক ফেরদৌস বলেন, অসাধারণ লাগছে। এই প্রথম পদ্মা সেতু পার হয়ে পদ্মার পাড়ে শুটিং করতে আসলাম। আগে আমরা আরিচাঘাট দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে গিয়েছি। এ রুট দিয়ে আসাটা ছিল খুবই ভোগান্তির। যেখানে আমরা আছি, এই শিবচরকে আমার কাছে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের মধ্যে একটি বেস্ট উপজেলা। এত সাজানোগোছানো উপজেলা আর দেখিনি। কয়েক দিন হলো এখানে আমরা ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ড ভাইয়ের ‘দখিন দুয়ার’ সিনেমার শুটিং করছি। ডায়মন্ড ভাইয়ের সঙ্গে এটা আমার তৃতীয় সিনেমা। সিনেমাটির এমনই একটা গল্প যে দখিন দুয়ার খুলে গেল। বাকিটা সিনেমা হলেও দেখা যাবে।

সিনেমাটির পরিচালক সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড বলেন, দখিন দুয়ার সিনেমাটি আসলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কথাই বলবে। এই শিবচরের মানুষের কথা বলবে। আপনাদের সহযোগিতায় এখানে সুন্দরভাবে কাজ করতে পারছি, এ জন্য আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞ। এখানে আমরা সহযোগিতা পাচ্ছি। পদ্মার পাড়ে বসে কাজ করছি, খুবই ভালো লাগছে। আর দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কথা বলতে গেলে প্রথমেই পদ্মা সেতুর কথা আসবে, এটাই স্বাভাবিক।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ

ট্যাগ :

ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তপু রায়হানের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় দায়িত্ববোধ, উত্তরাধিকার ও নাগরিক প্রত্যাশার রাজনীতি

‘দখিন দুয়ার’ সিনেমায় অভিনয় করতে এসে শিবচরের প্রশংসা পঞ্চমুখ ফেরদৌস

প্রকাশিত : ০৪:১৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ মার্চ ২০২৩

পদ্মাপারের মানুষসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনসংগ্রাম, পদ্মা সেতুর আগের দৃশ্যপট-বর্তমান দৃশ্যপট ও উন্নয়নচিত্র নিয়ে ‘দখিন দুয়ার’ সিনেমার শুটিং চলছে মাদারীপুরের শিবচরের পদ্মার পাড়ে।

সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ডের পরিচালনায় নির্মিত সিনেমাটিতে অভিনয় করছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ফেরদৌস, অভিনেত্রী সিমলা, অধরা খানসহ অনেক গুণী শিল্পী। সিনেমায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনধারা তুলে ধরতে পদ্মাপারের শিবচর উপজেলাকে বেছে নিয়েছেন পরিচালক। শুটিং স্পট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে নদীপারের একটি বাড়িকে। গত কয়েক দিন ধরে পদ্মার পাড়ে চলা শুটিং দেখতে আশপাশের মানুষ ভিড় করছেন শুটিং স্পটে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে পদ্মা নদীর পারের শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সিনেমাটির শুটিং চলছে। এ সিনেমায় পদ্মা সেতু চালুর আগে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দুর্দশা, পরের দৃশ্যপট, উন্নয়নচিত্র ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে। সিনেমায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় পদক্ষেপ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দখিন দুয়ার খুলে উত্তর ও দক্ষিণের সংযোগের চিত্র ফুটে উঠবে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনধারা তুলে ধরতে পদ্মাপারের শিবচর উপজেলাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ফুটিয়ে তোলা হবে শিবচরের উন্নয়নচিত্রকেও।

কাঠালবাড়ি পুরাতন ফেরিঘাট সংলগ্ন গ্রামের সিদ্দিক ফকিরের বাড়িতে সিনেমাটির দৃশ্যায়নের কাজ করছেন পরিচালক, অভিনেতা ফেরদৌস, অভিনেত্রী সিমলা, অধরাসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দুই শিফটে চলছে সিনেমাটির শুটিং। এর আগে সিনেমাটির শুটিং চলে পদ্মার বুকে ফেরি, স্পিডবোটসহ নৌযানগুলোতে। দক্ষিণবঙ্গগামী মানুষের কিংবা নদী পারাপার হওয়া মানুষের শীতকালীন দুর্দশার চিত্র শুটিং হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দুর্দশা নিয়েই ছবির গল্প এগোবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সিনেমাটির প্রায় পুরোভাগের দৃশ্যই নির্মিত হবে শিবচরের পদ্মার পাড়ে। প্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের খুব কাছ থেকে দেখতে ওসমান বেপারীকান্দি গ্রামে প্রতিদিনই ভিড় করে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিশু, কিশোর, নারী, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ।

স্থানীয় এক দর্শনার্থী আলীম মিয়া বলেন, আজ পদ্মা সেতু হওয়ার কারণেই আমাদের এলাকায় সিনেমার শুটিং হচ্ছে। আমরাও দল বেঁধে শুটিং দেখতে এসেছি। এত কাছ থেকে প্রিয় নায়ক-নায়িকাদের দেখে খুব ভালো লাগছে।

আরেক দর্শনার্থী বললেন, প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু করে দিয়ে আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দূর করেছেন। আজ এই পদ্মা সেতু হওয়ার কারণেই সিনেমার নায়ক-নায়িকারা আমাদের এলাকায় সহজেই আসতে পারছেন বলেই শুটিং হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য গর্বের ব্যাপার।

সিনেমাটির অভিনেত্রী অধরা খান বলেন, পদ্মা সেতু পার হয়ে এখানে শুটিং করতে এসে খুব ভালো লাগছে। ভালো একটি সিনেমার শুটিং করছি। পরিচালক ডায়মন্ড ভাইও ভালো মানুষ। তার সঙ্গে কাজ করতেও ভালো লাগে।

চিত্রনায়িকা শিমলা বলেন, অনেক দিন পর ভালো একটি সিনেমার শুটিং করছি পদ্মার পাড়ে। সিনেমাটির গল্প অনেক ভালো। আমার চরিত্রটিও আমার খুবই পছন্দ হয়েছে। শিবচরে গত কয়েক দিন হলো আছি। এখানকার মানুষগুলো খুবই ভালো। আমরা মাটির মানুষ। আর এখানকার মাটির ঘ্রাণ খুবই সুন্দর।

চিত্রনায়ক ফেরদৌস বলেন, অসাধারণ লাগছে। এই প্রথম পদ্মা সেতু পার হয়ে পদ্মার পাড়ে শুটিং করতে আসলাম। আগে আমরা আরিচাঘাট দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে গিয়েছি। এ রুট দিয়ে আসাটা ছিল খুবই ভোগান্তির। যেখানে আমরা আছি, এই শিবচরকে আমার কাছে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের মধ্যে একটি বেস্ট উপজেলা। এত সাজানোগোছানো উপজেলা আর দেখিনি। কয়েক দিন হলো এখানে আমরা ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ড ভাইয়ের ‘দখিন দুয়ার’ সিনেমার শুটিং করছি। ডায়মন্ড ভাইয়ের সঙ্গে এটা আমার তৃতীয় সিনেমা। সিনেমাটির এমনই একটা গল্প যে দখিন দুয়ার খুলে গেল। বাকিটা সিনেমা হলেও দেখা যাবে।

সিনেমাটির পরিচালক সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড বলেন, দখিন দুয়ার সিনেমাটি আসলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কথাই বলবে। এই শিবচরের মানুষের কথা বলবে। আপনাদের সহযোগিতায় এখানে সুন্দরভাবে কাজ করতে পারছি, এ জন্য আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞ। এখানে আমরা সহযোগিতা পাচ্ছি। পদ্মার পাড়ে বসে কাজ করছি, খুবই ভালো লাগছে। আর দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কথা বলতে গেলে প্রথমেই পদ্মা সেতুর কথা আসবে, এটাই স্বাভাবিক।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ