০৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর গলা কেটে স্ত্রীর স্বীকারোক্তি!

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় পুটিয়াখালি গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাত পা বেধে ঘুমন্ত স্বামীকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। গতকাল রবিবার রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহতের স্ত্রী সাপিয়া বেগমকে আটক করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে সে।

নিহত আউয়াল তালুকদার পেশায় অটোবাইক চালক। তিনি দুই সন্তানের জনক ও ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান তালুকদারের ছেলে। আটককৃত সাপিয়া বেগম শরিয়তপুরের নুরিয়া উপজেলার মৃত নজরুল ইসলাম মুন্সির মেয়ে।

পুলিশ জানায়, আউয়াল তালুকদার তিন মাস আগে উপজেলার আঙ্গারিয়া গ্রামে গোপনে এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর প্রথম স্ত্রী সাপিয়া বেগমের চার কাঠা জমি দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে লিখে দেন স্বামী। এ নিয়ে প্রথম স্ত্রী সাপিয়ার সঙ্গে স্বামী আউয়াল তালুকদারের মধ্যে কলহ চলছিল। এরই জেরে রবিবার রাতে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাত পা বেধে রাত দেড়টার দিকে স্বামী আউয়াল তালুকদারকে ছুরি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে স্ত্রী। হত্যার পরে স্ত্রী ৯৯৯ নাইনে কল দিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্ত্রীকে আটক করে।

নিহতের ছেলে রাফিন তালুকদার বলেন, গত তিন মাস আগে আঙ্গারিয়া গ্রামের এক নারীকে গোপনে বিয়ে আমার বাবা। পরে এনজিও থেকে ঋণ নেওয়ার কথা বলে আমার মা সাপিয়া বেগমের স্বাক্ষর নেয় বাবা। পরে মা জানতে পারে দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে চার শতাংশ জমি লিখে দেন বাবা। বিষয়টি জানার পরে এনিয়ে প্রায়ই বাবা মায়ের মধ্যে মারামারি হতো। রবিবার ছাগলে গাছ খাওয়া নিয়ে রাতে ১০ টার দিকে মাকে মারধর করে বাবা। পরে রাতে খাবার খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে গেলে বাবাকে জবাই করে মেরে ফেলে মা।

ঝালকাঠির সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মাসুদ রানা বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার এবং স্ত্রীকে আটক করেছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আবুল হোসেন তালুকদার বাদী হয়ে সাপিয়া বেগমের নামে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সরওয়ার আলমগীরের প্রতীক বরাদ্দ বৈধ, অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি গোষ্ঠী

পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর গলা কেটে স্ত্রীর স্বীকারোক্তি!

প্রকাশিত : ০২:৫০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মার্চ ২০২৩

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় পুটিয়াখালি গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাত পা বেধে ঘুমন্ত স্বামীকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। গতকাল রবিবার রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহতের স্ত্রী সাপিয়া বেগমকে আটক করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে সে।

নিহত আউয়াল তালুকদার পেশায় অটোবাইক চালক। তিনি দুই সন্তানের জনক ও ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান তালুকদারের ছেলে। আটককৃত সাপিয়া বেগম শরিয়তপুরের নুরিয়া উপজেলার মৃত নজরুল ইসলাম মুন্সির মেয়ে।

পুলিশ জানায়, আউয়াল তালুকদার তিন মাস আগে উপজেলার আঙ্গারিয়া গ্রামে গোপনে এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর প্রথম স্ত্রী সাপিয়া বেগমের চার কাঠা জমি দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে লিখে দেন স্বামী। এ নিয়ে প্রথম স্ত্রী সাপিয়ার সঙ্গে স্বামী আউয়াল তালুকদারের মধ্যে কলহ চলছিল। এরই জেরে রবিবার রাতে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাত পা বেধে রাত দেড়টার দিকে স্বামী আউয়াল তালুকদারকে ছুরি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে স্ত্রী। হত্যার পরে স্ত্রী ৯৯৯ নাইনে কল দিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্ত্রীকে আটক করে।

নিহতের ছেলে রাফিন তালুকদার বলেন, গত তিন মাস আগে আঙ্গারিয়া গ্রামের এক নারীকে গোপনে বিয়ে আমার বাবা। পরে এনজিও থেকে ঋণ নেওয়ার কথা বলে আমার মা সাপিয়া বেগমের স্বাক্ষর নেয় বাবা। পরে মা জানতে পারে দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে চার শতাংশ জমি লিখে দেন বাবা। বিষয়টি জানার পরে এনিয়ে প্রায়ই বাবা মায়ের মধ্যে মারামারি হতো। রবিবার ছাগলে গাছ খাওয়া নিয়ে রাতে ১০ টার দিকে মাকে মারধর করে বাবা। পরে রাতে খাবার খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে গেলে বাবাকে জবাই করে মেরে ফেলে মা।

ঝালকাঠির সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মাসুদ রানা বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার এবং স্ত্রীকে আটক করেছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আবুল হোসেন তালুকদার বাদী হয়ে সাপিয়া বেগমের নামে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব