০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

শিল্পপতির কোমরে রশি বেঁধে আদালতে নেওয়া ফেসবুকে ভাইরাল

সীতাকুণ্ডে কদমরসুল এলাকায় অক্সিজেন প্ল্যান্ট বিস্ফোরণে হতাহতের মামলায় সীমা গ্রুপের পরিচালক পারভেজ উদ্দীন সান্টুর একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন নাহার রুমীর আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপরদিকে কোমরে রশি বেঁধে শিল্পপতি পারভেজ উদ্দীনকে আদালতে হাজির করার ঘটনার জন্য দায়ী পুলিশের এসআই অরুন কান্তি বিশ্বাসকে ক্লোজড করে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

বুধবার, ১৫ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রাম জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম নাজমুন নাহারের আদালতে হাজির করার সময় হাতে হাতকড়া ও কোমরে দড়ি বাঁধা হয় শিল্পপতি পারভেজ উদ্দীনের।

আদালতে নেওয়ার সময় পারভেজ উদ্দীনের এমন একটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এনিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান অনেকে।

এরপর শিল্পপতি পারভেজ উদ্দীনকে আদালতে হাজির করার দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) অরুণ কান্তি বিশ্বাস শোকজ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের এসপি মোহাম্মদ সুলাইমান বলেন, সীমা অক্সিজেন লিমিটেডের পরিচালক পারভেজ উদ্দীনের কোমরে দড়ি বেঁধে আদালতে হাজির করার সময় দায়িত্ব থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) অরুণ কান্তি বিশ্বাসকে শোকজ করা হয়েছে।

অন্য পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মূল দায়িত্ব ছিলেন অরুণ কান্তি, সে হিসেবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

জসিম উদ্দিন নামে একজন লিখেছেন, ‘কোমরে এ দড়ি মানে দেশের হাজারো শিল্প প্রতিষ্ঠানের কোমরে দড়ি। তিনি একজন উদ্যোক্তা। এ হিসেবে হাজারো উদ্যোক্তার কোমড়ে দড়ি। যেহেতু তিনি মামলায় এজহার নামীয় আসামি, তাকে দাগি আসামির মতো দড়ি বেঁধে না নিয়ে ভিন্নভাবে নেয়া যেত।’ সরওয়ার্দী নামক একজন লিখেছেন, ‘করোনার সময় যখন মানুষ অক্সিজেনের অভাবে মরে যাচ্ছে, তখন এই মানুষটা বিনামূল্যে অক্সিজেন দিয়ে মানুষের পাশে ছিলেন। আমি বলছি না তার দোষ নেই, তাদের ভুলের কারণে হয়ত এমন দুর্ঘটনা হয়েছে, বিপরীতে ক্ষমা চেয়েছেন তারা। আইন অনুযায়ী দুই লাখ টাকার পাশাপাশি আরো আট লাখসহ মোট ১০লাখ টাকা করে নিহতদের পরিবারের হাতে তুলে দেন ও আহতদের যাবতীয় চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করেন। ঘটনার পাঁচ দিনের মধ্যে সব কিছু দিয়ে দেয়ার পরেও তাকে জেলে যেতে হবে কেন? আগে একটি কন্টেনার ডিপোতে ৫১জন নিহত হওয়ার পরেও তাদের কেন জেলে নেয়া হল না?’

অ্যাডভোকেট এএম জিয়া হাবীব আহসান বলেন, অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া, দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত অপরাধী হিসেবে আচরণ না করা, অ্যাডভোকেট নিয়োগের সুযোগ দেওয়া প্রভৃতি আটক বন্দীদের মানবাধিকার। যেকোনো বন্দীর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন, অপমানজনক আচরণ মানবাধিকার এর চরম লংঘন। বন্দী নাগরিকদের প্রতি সদাচরণ প্রদর্শন করতে মহামান্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে।

বুধবার চট্টগ্রাম জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম নাজমুন নাহারের আদালত পারভেজ উদ্দীনকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরের জিইসি মোড় থেকে পারভেজ উদ্দীনকে গ্রেফতার করে শিল্প পুলিশ চট্টগ্রাম ইউনিট।

গত ৬ মার্চ সীতাকুণ্ড থানায় সীমা অক্সিজেন কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। গত ৪ মার্চ বিকালে কদমরসুলপুর এলাকায় সীমা অক্সিজেন লিমিটেড কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঐদিন ৬ জন নিহত হয়৷ বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট ৭ জন নিহত হয়েছে। বিস্ফোরণে নিহতরা হলেন- শামছুল আলম (৫৬), মো. ফরিদ (৩৬), রতন লকরেট (৪৫), আবদুল কাদের (৫৮), মো. সালাহ উদ্দিন (৩০), সেলিম রিচিল (৪০) ও প্রবেশ লাল শর্মা (৫৫)। আহত হন অন্তত ২৫ জন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইউরেনিয়াম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ইরানের

শিল্পপতির কোমরে রশি বেঁধে আদালতে নেওয়া ফেসবুকে ভাইরাল

প্রকাশিত : ১১:০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ ২০২৩

সীতাকুণ্ডে কদমরসুল এলাকায় অক্সিজেন প্ল্যান্ট বিস্ফোরণে হতাহতের মামলায় সীমা গ্রুপের পরিচালক পারভেজ উদ্দীন সান্টুর একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন নাহার রুমীর আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপরদিকে কোমরে রশি বেঁধে শিল্পপতি পারভেজ উদ্দীনকে আদালতে হাজির করার ঘটনার জন্য দায়ী পুলিশের এসআই অরুন কান্তি বিশ্বাসকে ক্লোজড করে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

বুধবার, ১৫ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রাম জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম নাজমুন নাহারের আদালতে হাজির করার সময় হাতে হাতকড়া ও কোমরে দড়ি বাঁধা হয় শিল্পপতি পারভেজ উদ্দীনের।

আদালতে নেওয়ার সময় পারভেজ উদ্দীনের এমন একটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এনিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান অনেকে।

এরপর শিল্পপতি পারভেজ উদ্দীনকে আদালতে হাজির করার দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) অরুণ কান্তি বিশ্বাস শোকজ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের এসপি মোহাম্মদ সুলাইমান বলেন, সীমা অক্সিজেন লিমিটেডের পরিচালক পারভেজ উদ্দীনের কোমরে দড়ি বেঁধে আদালতে হাজির করার সময় দায়িত্ব থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) অরুণ কান্তি বিশ্বাসকে শোকজ করা হয়েছে।

অন্য পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মূল দায়িত্ব ছিলেন অরুণ কান্তি, সে হিসেবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

জসিম উদ্দিন নামে একজন লিখেছেন, ‘কোমরে এ দড়ি মানে দেশের হাজারো শিল্প প্রতিষ্ঠানের কোমরে দড়ি। তিনি একজন উদ্যোক্তা। এ হিসেবে হাজারো উদ্যোক্তার কোমড়ে দড়ি। যেহেতু তিনি মামলায় এজহার নামীয় আসামি, তাকে দাগি আসামির মতো দড়ি বেঁধে না নিয়ে ভিন্নভাবে নেয়া যেত।’ সরওয়ার্দী নামক একজন লিখেছেন, ‘করোনার সময় যখন মানুষ অক্সিজেনের অভাবে মরে যাচ্ছে, তখন এই মানুষটা বিনামূল্যে অক্সিজেন দিয়ে মানুষের পাশে ছিলেন। আমি বলছি না তার দোষ নেই, তাদের ভুলের কারণে হয়ত এমন দুর্ঘটনা হয়েছে, বিপরীতে ক্ষমা চেয়েছেন তারা। আইন অনুযায়ী দুই লাখ টাকার পাশাপাশি আরো আট লাখসহ মোট ১০লাখ টাকা করে নিহতদের পরিবারের হাতে তুলে দেন ও আহতদের যাবতীয় চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করেন। ঘটনার পাঁচ দিনের মধ্যে সব কিছু দিয়ে দেয়ার পরেও তাকে জেলে যেতে হবে কেন? আগে একটি কন্টেনার ডিপোতে ৫১জন নিহত হওয়ার পরেও তাদের কেন জেলে নেয়া হল না?’

অ্যাডভোকেট এএম জিয়া হাবীব আহসান বলেন, অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া, দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত অপরাধী হিসেবে আচরণ না করা, অ্যাডভোকেট নিয়োগের সুযোগ দেওয়া প্রভৃতি আটক বন্দীদের মানবাধিকার। যেকোনো বন্দীর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন, অপমানজনক আচরণ মানবাধিকার এর চরম লংঘন। বন্দী নাগরিকদের প্রতি সদাচরণ প্রদর্শন করতে মহামান্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে।

বুধবার চট্টগ্রাম জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম নাজমুন নাহারের আদালত পারভেজ উদ্দীনকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরের জিইসি মোড় থেকে পারভেজ উদ্দীনকে গ্রেফতার করে শিল্প পুলিশ চট্টগ্রাম ইউনিট।

গত ৬ মার্চ সীতাকুণ্ড থানায় সীমা অক্সিজেন কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। গত ৪ মার্চ বিকালে কদমরসুলপুর এলাকায় সীমা অক্সিজেন লিমিটেড কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঐদিন ৬ জন নিহত হয়৷ বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট ৭ জন নিহত হয়েছে। বিস্ফোরণে নিহতরা হলেন- শামছুল আলম (৫৬), মো. ফরিদ (৩৬), রতন লকরেট (৪৫), আবদুল কাদের (৫৮), মো. সালাহ উদ্দিন (৩০), সেলিম রিচিল (৪০) ও প্রবেশ লাল শর্মা (৫৫)। আহত হন অন্তত ২৫ জন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব