টাঙ্গাইলে মুজিববর্ষ উপলক্ষে তিন ধাপে দুই হাজার ৯৬২ টি পরিবারের মাঝে জমিসহ পাকা দালান গৃহ ও ভূমিহীনদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখানের বাসিন্ধাদারে স্বাবলম্বী করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্যান গাড়ি, সেলাই মেশিন বিতরণ ও মুদিদোকানসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করা হচ্ছে। এতে বাসিন্দারা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। অপর দিকে বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের তিন উপজেলা ভূমি ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণাসহ ২৩৮ টি ঘরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নিয়ে সোমবার দুপুরে প্রেসব্রিফিং করেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ওলিউজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবুল হাশেম, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর নায়িান নুরেন প্রমুখ।
জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১২ টি উপজেলায় তিন হাজার ৬৩২টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবার চিহ্নিত করা হয়। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে দুই হাজার ৯৬২ টি পরিবারের মাঝে জমিসহ পাকা দালান গৃহ ও ভূমিহীনদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টাঙ্গাইলের মধুপুর, ধনবাড়ী ও দেলদুয়ার উপজেলা ভূমি ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণাসহ ২৩৮ টি ঘরের উদ্বোধন করবেন। আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের স্বাবলম্বী করতে ভ্যান গাড়ি, সেলাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকা ব্যক্তিদের স্ব স্ব কাজ নিশ্চিত করা হয়েছে। গোপালপুর উপজেলায় ১৮৪ জন ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে মুজিববর্ষের ঘর প্রদান করা হয়েছে। গত বছর ২১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ উপজেলাকে ভূমি ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করেছেন। গোপাপুর উপজেলার ঝাওয়াইল গ্রামের মডেল আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৭ টি পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছেন।
ওই প্রকল্পের বাসিন্দা চা দোকানদার নাসিমা বেগম বলেন, জন্মের পর বাবার অভাবের সংসারে কষ্টে বড় হয়েছি। বিয়ের পর স্বামীর সংসারে শান্তিতে বসবাস করলেও তার মৃত্যুতে আমার জীবনে আবার অন্ধকার নেমে আসে। দুই তিন দিনও না খেয়ে থাকতে হয়েছে। দোকানের আয়ে এখন আমার সংসার ভাল চলছে। বর্তমানে আমার বাড়িতে শান্তিতেই আছি।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে জমিসহ পাকা দালান পাওয়া নিজের কাছে স্বপ্নের মতো মনে হয়। এই চায়ের দোকান না থাকলে আমার ছেলে ও মাকে নিয়ে পথে বসা ছাড়া আর কোন উপায় ছিলো না। আজ পর্যন্ত কখনও উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে খালি হাতে ফিরে আসিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তার উদ্যোগে কারণে আমার মতো আশ্রয়হীন মানুষের ঠিকানা হয়েছে। এছাড়াও ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের খাদ্য সামগ্রী, টাকা, জামা কাপড় দিয়ে সহযোগিতা করে।
ভ্যান পাওয়া মন্টু চন্দ্র রায় বলেন, আগে শ্রমিকের কাজ করতাম। এক দিন কাজ করলে আরেক দিন বসে থাকতে হতো। নিয়োমিত কাজ না হওয়ায় ঘর পাওয়ার পরও খুব কষ্টে চলতে হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে ভ্যান পাওয়ার পর প্রতিদিন ভ্যান চালাই। যা আয় হয়, তা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শান্তিতে বসবাস করি।
অপর বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, আগে দোকান ভাড়া নিয়ে মুরগীর ব্যবসার করতাম। সে সময় তেমন বিক্রি হতো না। উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ভ্যান পাওয়ার পর বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে মুরগী বিক্রি করতে পারছি। এতে আমার বিক্রি বেশি হওয়ায় লাভ বেশি হচ্ছে। সব মিলিয়ে আগের চেয়ে আমরা বেশি স্বাবলম্বী হচ্ছি। ইতিপূর্বে আশ্রয়ণ প্রকল্পে যেতে আমাদের অনেক কষ্ট হতো। নতুন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন করে নতুন পাকা রাস্তা করে দেয়ায় আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য ৭৬ একর ১৬ শতাংশ জমি উদ্ধার করা হয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৪০ কোটি ৫৭ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। এছাড়াও ফসলিসহ বিভিন্ন শ্রেণীর ২১৮ দশমিক ৭২ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের স্বাবলম্বী করতে নানা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন জাতীয় দিবস, ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে আশ্রয়নের বাসিন্দা পরিবারের শিশুদের নতুন কাপড় খাদ্য সহায়তা দিয়ে তাদের পাশে প্রশাসন সর্বদা রয়েছে।
০৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম :
তিন উপজেলা ভূমি ও গৃহহীণ মুক্ত ঘোষণাসহ ২৩৮টি ঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
-
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি - প্রকাশিত : ০৭:১৫:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মার্চ ২০২৩
- 70
ট্যাগ :
জনপ্রিয়




















