০৩:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

ভুয়া সনদপত্র তৈরী করে ‘চাকুরির অভিযোগে দুদকের মামলা

  • মাসুদ রানা
  • প্রকাশিত : ০৯:২২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মার্চ ২০২৩
  • 127

গত ২৭ জুন ২০১১ ইং হতে ১২ মে ২০১৩ ইং পযর্ন্ত অসৎ উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত লাভবান হওয়ার আশায় পরস্পর যোগসাজসে প্রতারনা,জালিয়াতি ও অসদাচরনের মাধ্যমে প্রকৃত জন্ম তারিখ গোপন করে ভুয়া বয়স সম্বলিত সনদপত্র সৃজন ও ব্যবহার করে ‘টেকনিক্যাল এ্যাটেনডেন্ট’ পদে পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অব বাংলাদেশ লিঃ ঢাকায় চাকুরির ব্যবস্থা ও গ্রহণ করে দন্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় শান্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটন করেছেন বিধায় দুদকের সহকারী পরিচালক জি এম আহসানুল কবীর অদ্য ২৯ মার্চ ২০২৩ ইং দুদক সজেকা ঢাকা-১ এ একটি মামলা দায়ের করেছেন।মামলা তদন্তকালে ঘটনার সাথে অন্য কারোর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তা আইনামলে আনা হবে বলে জানান তিনি। উক্ত জালিয়াত চক্রের এক নম্বর আসামী হলেন,আসামী মোঃ শামছুর রহমান (৪৩ ), জুনিয়র তড়িৎবিদ, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানী অব বাংলাদেশ লিঃ (পিজিসিবি) বর্তমানে নিয়োগ পত্র ও চাকুরী চুক্তি বাতিল করা হয়েছে)মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান (৫৯), প্রধান শিক্ষক, বেণীপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও এ্যাড. সালাউদ্দিন জোয়াদ্দার মামুন (৪৮), চেয়ারম্যান, ৫নং কাঁচেরকোল ইউনিয়ন পরিষদ, শৈলকুপা, ঝিনাইদহ। ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরনী নিম্মে দেওয়া হলো আসামী মোঃ শামছুর রহমান ১৯৯০ সালে বেণীপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শৈলকুপা, ঝিনাইদহে ৬ষ্ট শ্রেণিতে ভর্তি হন। তিনি উক্ত বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক শিক্ষা (নবম-দশম শ্রেণি) এর ১৯৯৩-১৯৯৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার কোন break of study ছিল না। তিনি ১৯৯৫ সালে উক্ত বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে যশোর বোর্ড থেকে প্রথম শ্রেণিতে এসএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি ২০০৪ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাওয়ার গ্রিড কোম্পানী অব বাংলাদেশ লিঃ (পিজিসিবি) এর বিভিন্ন প্রকল্পে ‘কাজ নাই, বেতন নাই’ ভিত্তিতে গাড়ি চালক পদে চাকুরি করেন। পিজিসিবি’র জিএমডি, চট্টগ্রাম (উত্তর) দপ্তরে ড্রাইভার পদে যোগদানকালীন তিনি জীবন-বৃত্তান্তের সাথে এসএসসি পাসের সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি কর্তৃপক্ষ বরাবর দাখিল করেন। মোঃ শামছুর রহমানের বয়স ৩০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ায় তিনি সাহাপুর আবুল কাশেম উচ্চ বিদ্যালয়, ডাকঘর: সাহাপুর, থানাঃ ঈশ্বরদী, জেলা: পাবনা এর ৮ম শ্রেণি পাসের একটি ভুয়া সনদপত্র দাখিলের মাধ্যমে পিজিসিবিতে চাকুরির জন্য আবেদন করেন। উক্ত সনদপত্রে তার জন্ম তারিখ উল্লেখ ছিল ২৪ জুন ১৯৮২ খ্রি.। পরবর্তীতে পিজিসিবি’র নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় গত ২২ এপ্রিল ২০১৩ ইং তার নামে নিয়োগ পত্র ইস্যু করা হয়। নিয়োগ পত্রের নির্দেশনা মোতাবেক তিনি গত ১২ এপ্রিল ২০১৩ খ্রি. তারিখে পিজিসিবি’র জিএমডি, ঢাকা সেন্ট্রাল দপ্তরে টেকনিক্যাল এ্যাটেনডেন্ট পদে যোগদান করেন। মোঃ শামছুর রহমান তার নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেণীপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব ওয়াহিদুজ্জামানের কাছ থেকে গত ২৭ জুন ২০১১ তারিখের স্বাক্ষরে ১৯৯৪ সালে ৯ম শ্রেণিতে উত্তীর্ণের একটি ভুয়া সনদ সংগ্রহ করেন।তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হলে পিজিসিবি’র বিভাগীয় তদন্ত কমিটির তদন্তকালে তার চাকুরি আবেদনের সঙ্গে দাখিলকৃত সাহাপুর আবুল কাশেম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদটি ভুয়া প্রমাণিত হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইউরেনিয়াম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ইরানের

ভুয়া সনদপত্র তৈরী করে ‘চাকুরির অভিযোগে দুদকের মামলা

প্রকাশিত : ০৯:২২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মার্চ ২০২৩

গত ২৭ জুন ২০১১ ইং হতে ১২ মে ২০১৩ ইং পযর্ন্ত অসৎ উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত লাভবান হওয়ার আশায় পরস্পর যোগসাজসে প্রতারনা,জালিয়াতি ও অসদাচরনের মাধ্যমে প্রকৃত জন্ম তারিখ গোপন করে ভুয়া বয়স সম্বলিত সনদপত্র সৃজন ও ব্যবহার করে ‘টেকনিক্যাল এ্যাটেনডেন্ট’ পদে পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অব বাংলাদেশ লিঃ ঢাকায় চাকুরির ব্যবস্থা ও গ্রহণ করে দন্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় শান্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটন করেছেন বিধায় দুদকের সহকারী পরিচালক জি এম আহসানুল কবীর অদ্য ২৯ মার্চ ২০২৩ ইং দুদক সজেকা ঢাকা-১ এ একটি মামলা দায়ের করেছেন।মামলা তদন্তকালে ঘটনার সাথে অন্য কারোর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তা আইনামলে আনা হবে বলে জানান তিনি। উক্ত জালিয়াত চক্রের এক নম্বর আসামী হলেন,আসামী মোঃ শামছুর রহমান (৪৩ ), জুনিয়র তড়িৎবিদ, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানী অব বাংলাদেশ লিঃ (পিজিসিবি) বর্তমানে নিয়োগ পত্র ও চাকুরী চুক্তি বাতিল করা হয়েছে)মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান (৫৯), প্রধান শিক্ষক, বেণীপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও এ্যাড. সালাউদ্দিন জোয়াদ্দার মামুন (৪৮), চেয়ারম্যান, ৫নং কাঁচেরকোল ইউনিয়ন পরিষদ, শৈলকুপা, ঝিনাইদহ। ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরনী নিম্মে দেওয়া হলো আসামী মোঃ শামছুর রহমান ১৯৯০ সালে বেণীপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শৈলকুপা, ঝিনাইদহে ৬ষ্ট শ্রেণিতে ভর্তি হন। তিনি উক্ত বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক শিক্ষা (নবম-দশম শ্রেণি) এর ১৯৯৩-১৯৯৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার কোন break of study ছিল না। তিনি ১৯৯৫ সালে উক্ত বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে যশোর বোর্ড থেকে প্রথম শ্রেণিতে এসএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি ২০০৪ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাওয়ার গ্রিড কোম্পানী অব বাংলাদেশ লিঃ (পিজিসিবি) এর বিভিন্ন প্রকল্পে ‘কাজ নাই, বেতন নাই’ ভিত্তিতে গাড়ি চালক পদে চাকুরি করেন। পিজিসিবি’র জিএমডি, চট্টগ্রাম (উত্তর) দপ্তরে ড্রাইভার পদে যোগদানকালীন তিনি জীবন-বৃত্তান্তের সাথে এসএসসি পাসের সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি কর্তৃপক্ষ বরাবর দাখিল করেন। মোঃ শামছুর রহমানের বয়স ৩০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ায় তিনি সাহাপুর আবুল কাশেম উচ্চ বিদ্যালয়, ডাকঘর: সাহাপুর, থানাঃ ঈশ্বরদী, জেলা: পাবনা এর ৮ম শ্রেণি পাসের একটি ভুয়া সনদপত্র দাখিলের মাধ্যমে পিজিসিবিতে চাকুরির জন্য আবেদন করেন। উক্ত সনদপত্রে তার জন্ম তারিখ উল্লেখ ছিল ২৪ জুন ১৯৮২ খ্রি.। পরবর্তীতে পিজিসিবি’র নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় গত ২২ এপ্রিল ২০১৩ ইং তার নামে নিয়োগ পত্র ইস্যু করা হয়। নিয়োগ পত্রের নির্দেশনা মোতাবেক তিনি গত ১২ এপ্রিল ২০১৩ খ্রি. তারিখে পিজিসিবি’র জিএমডি, ঢাকা সেন্ট্রাল দপ্তরে টেকনিক্যাল এ্যাটেনডেন্ট পদে যোগদান করেন। মোঃ শামছুর রহমান তার নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেণীপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব ওয়াহিদুজ্জামানের কাছ থেকে গত ২৭ জুন ২০১১ তারিখের স্বাক্ষরে ১৯৯৪ সালে ৯ম শ্রেণিতে উত্তীর্ণের একটি ভুয়া সনদ সংগ্রহ করেন।তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হলে পিজিসিবি’র বিভাগীয় তদন্ত কমিটির তদন্তকালে তার চাকুরি আবেদনের সঙ্গে দাখিলকৃত সাহাপুর আবুল কাশেম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদটি ভুয়া প্রমাণিত হয়।