দশ বছর আগেও যে জমি ছিল পরিত্যক্ত, এখন সেখানে রাশি রাশি সূর্যমুখীর হাসি। এই হাসিতেই স্বপ্ন বুনছেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কৃষাণী নার্গিস বেগম। অপেক্ষা করছেন নতুন দিনের, উপজেলা সদরের চৌ মথা সংলগ্ন সাদুল্লাপর-পলাশবাড়ী পাকা সড়কের পার্শে পরিত্যক্ত ৩ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন তিনি।
প্রথমবারের মতো ওই জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে সাড়া ফেলেছেন অন্য কৃষকদের মধ্যেও। কৃষকেরা তাঁদের কাছে জানতে চাইছেন চাষের পদ্ধতি ও লাভের পরিমাণ সম্পর্কে। মাত্র ৩০ হাজার টাকা খরচে সূর্যমুখী চাষে এখন স্বপ্ন দেখছেন লাখ টাকার ।
কৃষাণী নার্গিস বেগম জানান, তার আবাদি জমি তেমন নেই। এ মৌসুমে ৩ বিঘা পরিত্যক্ত জমি বর্গা নিয়ে তিনি সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন।
তিনি বলেন, “সূর্যমুখী যেমন সৌন্দর্য বাড়াচ্ছে, শোভা ছড়াচ্ছে তেমনি এই ফুল থেকে উৎপাদিত তেলে লাভবান হওয়া যায়। স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে সূর্যমুখীর বীজ দেওয়া হয়েছিল। এই বীজ রোপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় সব গাছে ফুল ফুটেছে। আর মাসখানেকের মধ্যে সূর্যমুখী ফুল থেকে ফল পাওয়া যাবে।
এলাকার বাসিন্দা স্থানীয় পশু চিকিৎসক রেজাউল ইসলাম জানান, জায়গাটি নিচু এবং চারপাশ আবাসিক ভবন গড়ে উঠার কারণে গত ১০ বছর থেকে পরিত্যক্ত আবস্থায় পড়ে ছিল। প্রথম বার প্রকৃতির শোভাবর্ধনকারী এ সূর্যমুখী চাষে ব্যাপক ফুল হয়েছে ।তাছারাও শহরের কাছাকাছি হওয়ার কারণে এ বাগানে এসে অনেকেই নিজে, বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারসহ ছবি তুলছেন। ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার ফলে বাগানের ছবিতে এখন ফেসবুক ভাইরাল। এইসব পোস্ট দেখে সৌন্দর্য প্রেমীরা এখানে দল বেঁধে আসছেন এবং অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মতিউল আলম বলেন, তেল যেন বিদেশ থেকে আমদানি করতে না হয় সেজন্য সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। সে দিক বিবেচনা করে পরিত্যক্ত জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। কৃষকদের সূর্যমুখী চাষের জন্য বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে।এবার আরবিএস-২২৭ হাইব্রিড জাতের সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। বাম্পার ফলনও হয়েছে। এলাকার মধ্যে এমন মনলোভা দৃশ্য দেখতে অনেকেই আসছেন।
তিনি আরও বলেন, সূর্যমুখী বীজ পুষ্টির একটি মহান উৎস এবং অসংখ্য উপকারিতা রয়েছে। যার কারণে বেশ কিছু পরিত্যাক্ত জমিতে এবার সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব




















