০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

সংবাদিকের নামে মামলা করা কাউন্সিলর শিপলু কারাগারে

রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও তাজহাট থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া আলম শিপলুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশের জেরে যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক সরকার মাজহারুল মান্নানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার আবেদন করেন জাকারিয়া।শনিবার (৮ এপ্রিল) বেলা সোয়া একটার দিকে রংপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আহসানুল হক রানার আদালতে তোলা হয় তাকে। সেখানে তার বিরুদ্ধে থাকা চারটি ওয়ারেন্টভুক্ত মামলার মধ্যে তিনটিতে জামিন হলেও চাঁদাবাজির একটি মামলায় জামিন পাননি তিনি। কাউন্সিলর জাকারিয়া আলম শিপলু সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি জাল দলিল করে বিক্রির মামলায় এক বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত এবং ৪টি মামলার ওয়ারেন্টসহ একাধিক মামলার আসামি। শুক্রবার (৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় তাকে নগরীর বিনোদপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আজ দুপুর সোয়া একটার দিকে আদালতে তোলা হয় তাকে।
শিপলুর আইনজীবী মাহমুদুল হক সেলিম জানান, তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকা চারটি মামলার মধ্যে তিনটি মামলায় আদালত জামিন মঞ্জুর হয়েছে। একটি মামলা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে থাকায় সেটির শুনানি করা সম্ভব হয়নি। সেই মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটনের কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহফুজ রহমান বলেন, কোতোয়ালি থানার তিনটি, তাজহাট থানায় একটিসহ চারটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় পুলিশ জাকারিয়াকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানায় নেয়। এর মধ্যে বিদ্যুতের বিল বকেয়া রাখার অভিযোগে দুটি এবং জমি দখল ও মারামারি সংক্রান্ত দুটি মামলা আছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, মামলার ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে জাকারিয়া আলম শিপলুকে। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, বাড়ি নির্মাণে বাধা দেয়া, ভাঙচুর, মারপিট, চাঁদাবাজির অভিযোগে চারটি মামলার ওয়ারেন্ট ছিল। ওয়ারেন্টগুলো আদালত আগে জারি করলেও প্রক্রিয়াগতভাবে ওয়ারেন্টগুলো আমাদের কাছে না থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে আদালত থেকে প্রাপ্ত হওয়ার পর পরই তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এর আগে গতকাল বিকেলে নগরের দর্শনা মোড় রেলগেট এলাকায় জাকারিয়ার ভগ্নিপতির বাড়িতে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে দলের নেতাকর্মীরা পুরো বাড়ি ঘিরে ফেলে। পরে রাত সাড়ে নয়টার দিকে নেতাকর্মীদের বাধার মুখেই জাকারিয়াকে গ্রেফতার করে থানায় নেয়া হয়। উল্লেখ্য, সংবাদ প্রকাশের জেরে গত বুধবার যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক সরকার মাজহারুল মান্নানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার আবেদন করেন জাকারিয়া। আদালতের বিচারক ড. আবদুল মজিদ অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন স্থানীয় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ (৫৫) ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাফিউল ইসলাম শাফি (৫০)। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১ এপ্রিল রাত ৯টায় যমুনা টেলিভিশনের অপরাধ অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠান ‘ক্রাইম সিনে’ কাউন্সিলর জাকারিয়া আলমকে ভূমিদস্যু আখ্যায়িত করে, সরকারি দলের নামে সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরি, সাধারণ মানুষকে হয়রানিসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আসামিরা যোগসাজশ করে কাউন্সিলর জাকারিয়ার মানহানি, সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে বর্তমান সরকার তথা স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তিকে দুর্বল ও জনবিচ্ছিন্ন করতে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে মামলার পরদিন পরোয়ানাভুক্ত আসামি জাকারিয়াকে গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলন করেন স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা।
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহিদনগর এম. এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতিকে ফুলেল সংবর্ধনা

সংবাদিকের নামে মামলা করা কাউন্সিলর শিপলু কারাগারে

প্রকাশিত : ০৬:০০:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ এপ্রিল ২০২৩
রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও তাজহাট থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া আলম শিপলুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশের জেরে যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক সরকার মাজহারুল মান্নানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার আবেদন করেন জাকারিয়া।শনিবার (৮ এপ্রিল) বেলা সোয়া একটার দিকে রংপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আহসানুল হক রানার আদালতে তোলা হয় তাকে। সেখানে তার বিরুদ্ধে থাকা চারটি ওয়ারেন্টভুক্ত মামলার মধ্যে তিনটিতে জামিন হলেও চাঁদাবাজির একটি মামলায় জামিন পাননি তিনি। কাউন্সিলর জাকারিয়া আলম শিপলু সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি জাল দলিল করে বিক্রির মামলায় এক বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত এবং ৪টি মামলার ওয়ারেন্টসহ একাধিক মামলার আসামি। শুক্রবার (৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় তাকে নগরীর বিনোদপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আজ দুপুর সোয়া একটার দিকে আদালতে তোলা হয় তাকে।
শিপলুর আইনজীবী মাহমুদুল হক সেলিম জানান, তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকা চারটি মামলার মধ্যে তিনটি মামলায় আদালত জামিন মঞ্জুর হয়েছে। একটি মামলা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে থাকায় সেটির শুনানি করা সম্ভব হয়নি। সেই মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটনের কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহফুজ রহমান বলেন, কোতোয়ালি থানার তিনটি, তাজহাট থানায় একটিসহ চারটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় পুলিশ জাকারিয়াকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানায় নেয়। এর মধ্যে বিদ্যুতের বিল বকেয়া রাখার অভিযোগে দুটি এবং জমি দখল ও মারামারি সংক্রান্ত দুটি মামলা আছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, মামলার ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে জাকারিয়া আলম শিপলুকে। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, বাড়ি নির্মাণে বাধা দেয়া, ভাঙচুর, মারপিট, চাঁদাবাজির অভিযোগে চারটি মামলার ওয়ারেন্ট ছিল। ওয়ারেন্টগুলো আদালত আগে জারি করলেও প্রক্রিয়াগতভাবে ওয়ারেন্টগুলো আমাদের কাছে না থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে আদালত থেকে প্রাপ্ত হওয়ার পর পরই তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এর আগে গতকাল বিকেলে নগরের দর্শনা মোড় রেলগেট এলাকায় জাকারিয়ার ভগ্নিপতির বাড়িতে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে দলের নেতাকর্মীরা পুরো বাড়ি ঘিরে ফেলে। পরে রাত সাড়ে নয়টার দিকে নেতাকর্মীদের বাধার মুখেই জাকারিয়াকে গ্রেফতার করে থানায় নেয়া হয়। উল্লেখ্য, সংবাদ প্রকাশের জেরে গত বুধবার যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক সরকার মাজহারুল মান্নানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার আবেদন করেন জাকারিয়া। আদালতের বিচারক ড. আবদুল মজিদ অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন স্থানীয় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ (৫৫) ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাফিউল ইসলাম শাফি (৫০)। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১ এপ্রিল রাত ৯টায় যমুনা টেলিভিশনের অপরাধ অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠান ‘ক্রাইম সিনে’ কাউন্সিলর জাকারিয়া আলমকে ভূমিদস্যু আখ্যায়িত করে, সরকারি দলের নামে সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরি, সাধারণ মানুষকে হয়রানিসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আসামিরা যোগসাজশ করে কাউন্সিলর জাকারিয়ার মানহানি, সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে বর্তমান সরকার তথা স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তিকে দুর্বল ও জনবিচ্ছিন্ন করতে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে মামলার পরদিন পরোয়ানাভুক্ত আসামি জাকারিয়াকে গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলন করেন স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা।