০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

বাশঁ-বেত শিল্পের দুর্দিনেও এ শিল্পকে আকড়ে ধরে রেখেছেন

বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য বাশঁ-বেত শিল্প আজ বিলুপ্তির দ্ধারপ্রান্তে। নান্দনিক কুটির শিল্পের এ দুর্দিনেও বাপ-দাদার পেশাকে আকড়ে ধরে রেখেছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কয়েক ঘড় কারিগর ।কালের বিবর্তনে আধুনিক সভ্যতার দাপটে প্লাস্টিক সামগ্রীর বাজার দখল,প্রয়োজনীয় কাঁচা মাল দুস্প্রাপ্য ও মুল্য বৃদ্ধির সাথে বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় মানুষ এ শিল্পের গৃহস্থালী পন্যের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। তবে কিছু কারিগর বাঁশ থেকে মাছ বহনের খাড়ি তৈরী করে বাপ দাদার পেশাকে টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করেেছন।

জানাযায়, একসময় গ্রামের ঘরে ঘরে বাঁশ-বেত শিল্প বাংলার ঐতিহ্যের আসনে ছিল।ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রামীণ পল্লিতে বাঁশে-বেত দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা হতো। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এ কাজে সামিল হতো। আর হাটবারে স্থানীয় বাজারে এমনকি বাড়ি বাড়ি ফেরি করে এসব বাঁশ-বেতের পণ্য বিক্রি হতো । কিন্তু আদুনিক প্রযুক্তির যোগে প্লাস্টিক,লোহা,সহ অন্যান্য উপাদানে তৈরী জিনিসের সাথে প্রতিযোগিতা বাজারে টিকতে না পেওে মূখ থুবরে পরেছে এ শিল্প। গৃহস্থালির কাজে বাঁশ ও বেতর তৈরিকৃত নান্দনিক উপকরণ বিলুপ্তির দ্ধারপ্রান্তে এসে পৌচেঁছে। তাই বাংলার ঐতিহ্য বাশ-বেতের সামগ্রীর চাহিদা কমায় উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের এলাকার নগড়পাড়া জিয়সতলা এলাকায় বেশ কয়েক ঘর কারিগর বাঁশ দিয়ে মাছের খাড়ি তৈরী করে বাপ-দাদার পেশাকে টিকিয়ে রাখতে আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বাশঁ-বেত শিল্প থেকে গৃহস্থালী পন্য তৈরী করে কারিগরদের পর্যাপ্ত আর্থিক যোগান না আসায় জীবন জীবিকার তাগিদে কয়েক ঘর কারিগর পন্য বদল করে মাছের খাড়ি প্রস্তুতের মাধ্যমে এ পেশাকে আকড়ে ধরেছেন। আবার অনেকেই বেছেঁ নিয়েছেন অন্য পেশা।দিন দিন বিভিন্ন জিনিস-পত্রের মূল্য বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে খাড়ি বানাতে খরচ বাড়লেও বাড়েনি এই শিল্পের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের মূল্য।যার কারণে কারিগররা অর্থাভাবে জীবন সংসারে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন ।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ উপজেলায় এক যুগ আগেও তিন শতাধিকের বেশি পরিবার এ পেশায় সম্পৃক্ত ছিল। আধুনিক সভ্যতার দাপটে প্লাস্টিক সামগ্রীর বাজার দখলসহ নানা কারণে লাভজনক না হওয়ায় অনেকেই এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন। গৃহস্থালির কাজে বাঁশ ও বেতের তৈরিকৃত নান্দনিক উপকরণ সামগ্রী শিশুদের দোলনা, র‌্যাগ, পাখা, ঝাড়ু, টোপা, সাজি, ওরা, কুলা, মোরা, পুরা, দাড়িপাল্লা, ঝাঁপিসহ গৃহস্থালী পন্য এখন কদর হারিয়েছে।

চাহিদা কমে যাওয়ায় গৃহস্থালী পন্য তৈরী করে প্রতিযোগিতা বাজারে টিকতে না পেরে এসব বাঁশ শিল্পের কারিগররা তাদের পূর্ব পুরুষের এ পেশা ধরে রাখতে মাছ বহনের খাড়ি তৈরীতে ঝুকে পড়েন। কিন্তু এখানেও ঘটে বিপত্তি। প্রয়োজনীয় কাঁচা মাল দুস্প্রাপ্য ও মুল্য বাড়লেও বাড়েনি উৎপাদিত পন্য মুল্য। এতে করে কারিগররা পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক হারিয়েছে। ফলে মানবেতর জীবন-যাপন করছে এই পেশার লোকজন। একদিকে যেমন সংকটে পড়েছেন কারিগররা অপরদিকে মানুষ হারাতে বসেছে প্রাচীন ঐতিহ্য। বাশঁ-বেত শিল্পের এ দুর্দিনেও উপজেলার কায়েতপাড়া ও গুতিয়াব এলাকার ৩৫ থেকে ৪০টি পরিবার জীবন ও জীবিকার তাগিদে বাঁশ দিয়ে মাছের খাড়ি তৈরী করে এ শিল্পকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। খরচ বাড়ায় পর্যাপ্ত লরাভের মুখ না দেখতে পেয়ে কারিগররা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

খাড়ি তৈরী কারিগররা বাঁশ থেকে বেত কেটে মাছের খাড়ি প্রস্থুত করে। এই খাড়ি গুলো ছোট-বড় বিভিন্ন মাপের হয়ে থাকে। একটি বাশঁ থেকে বড় মাপের ২টি ও ছোট মাপের ৩টি খাড়ি তৈরী করা যায়। একজন কারিগর প্রতিদিন ২টি বড় মাপের অথবা ৩টি ছোট্র মাপের খাড়ি তৈরী করতে পারে।পাইকারী বাজারে ১টা ছোট্র মাপের খাড়ির দাম ২২০ টাকা। বাঁশ ও আনুসাঙ্গিক অন্যান্য খরচসহ মোট ১২০ টাকা খরচ হয়। একটি বড় মাপের খাড়ির পাইকারি দাম ৪০০ টাকা। বাঁশ ও আনুসাঙ্গিক অন্যান্য খরচসহ মোট ২৮০টাকা খরচ হয়। মাছের খাড়ি তৈরী করে একজন শ্রমিক দিন শেষে পায় মাত্র ৩০০ টকা। তাও বর্ষাকালে কাজকর্ম একদম থাকেই না। তখন সংসারের খাবার জোটানোই কঠিন হয়ে পড়ে।
বেশ কয়েকজন পাইকার উপজেলায় তৈরীকৃত এই খাড়িগুলো কিনে নিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করছেন, বিশেষ করে যেসব এলাকায় মাছের আড়ত রয়েছে সেখানেই বিক্রি হচ্ছে এসব খাড়িগুলো। বিভিন্ন সাইজের তৈরি খাড়িগুলো তারা বিভিন্ন দামে বিক্রি করে থাকে। পাইকাররা আড়তে নিয়ে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করলেও কারিগররা ন্যায্য মজুড়ি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আগে যে বাঁশ ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় পাওয়া যেত সেই বাঁশ বর্তমান বাজারে কিনতে হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। এর উপড়ে রয়েছে পরিবহনের খরচ। পাশা-পাশি বেড়েছে আনুসাঙ্গিক অন্যান্য খরচ।এ পেশা সংশ্লিষ্টদের দাবি সরকারী ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাংলার ঐতিহ্যবাহি বাঁশ-বেত শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সহজ হবে।

নগড়পাড়ার জিয়সতলায় খাড়ি তৈরী কারিগর কার্তিক সরকারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, কিন্তু কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোয়ায়, প্লাস্টিক, লোহা সহ বিভিন্ন উপাদানের তৈরী সামগ্রীর সাথে প্রতিযোগিতা বাজারে টিকতে না পেরে ধীরে ধীরে এই শিল্পে ধস নামতে শুরু করে। আমরা কয়েকটি পরিবার বাঁশ দিয়ে মাছের খাড়ি তৈরীর কাজ করে সংসার চলত।কিন্তু সম্প্রতি পন্য তৈরীতে খরচ বাড়ার সাথে মুল্য না বাড়ায় বাপ-দাদার পেশাকে টিকিয়ে রাখতে ও সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।

খাড়ি তৈরীর কারিগর বিমল সরকার জানান, এখন উৎপাদন খরচ বেড়েছে কিন্ত পন্যের মুল্য বাড়েনি। যে বাঁশ আগে ১৫০ থেকে ২০০টাকায় যে বাশঁ পাওয়া যেত এখন সেটা ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০টাকায় কিনতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাঁচা মাল দুস্প্রাপ্য ও মুল্য বৃদ্ধির পাশা-পাশি বেড়েছে আনুসাঙ্গিক অন্যান্য খরচ। সে অনুপাতে বাড়েনি আমাদের তৈরী পন্যের মুল্য। সারাদিন পরিশ্রম করেও ৩শ টাকার কাজ করতেই কষ্টকর হয়ে পরে। এতে অর্থাভাবে মানবেতর জীবন-যাপন করছে বাশঁ-বেত শিল্পের কারিগররা।

বাশঁ-বেত শিল্পের কারিগর শংকর রায় জানান, আলাপ কালে তারা জানালেন পরদাদার আমল থেকে বংশ পরম্পরায় তারা সকলে এ পেশায় যুক্ত। এ পেশার আনুমানিক বয়স প্রায় ২শ বৎসর। একদশক আগেও নগড়পাড়া, জিয়সতলা, নাওড়া,বাগবের সহ উপজেলার বেশকিছু এলাকায় প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০টি পরিবার বাশঁ-বেত শিল্পের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। অনেকে এ পেশায় দীর্ঘ দিন যুক্ত থাকলেও কাল ক্রমে তা মাত্র ৩৫-৪০ পরিবারে এসে ঠেকেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে টিকতে না পেরে ইতিমধ্যে অনেকেই পেশা বদলেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যন শাহাহান ভূইয়া বলেন, এক সময় বাঁশ-বেত শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের বেশ চাহিদা ছিল। সময়ের বিবর্তনে প্রযুক্তির ছোয়ায় প্রতিযোগিতা বাজারে টিকতে না পেরে এ শিল্পটি হাড়িয়ে যেতে বসেছে। বাশঁ বেত শিল্পের দুর্দিনেও উপজেলার কায়েতপাড়া ,বাগবের এলাকার কয়েকটি পরিবার এ পেষাকে আকড়ে ধরে রেখেছেন। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সুদমুক্ত ঋণের ব্যাবস্থা করা গেলে কারিগরদের জন্য সহায়ক হতো। ঋণ সহায়তার মাধ্যমে এ শিল্পের পাশে দাড়ানোর জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা সহ বিভিন্ন সেবা মুলক প্রতিষ্ঠানের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেহা নুর বলেন, ‘বাঁশ ও বেত শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া প্রয়োজন। আর্থিক সহযোগিতা এ পেশা টিকিয়ে রাখতে সহায়ক ভুমিকা রাখবে। গ্রামীন অর্থনীতির চালিকা শক্তি ক্ষুদ্র কুটির শিল্প রক্ষার্থে উপজেলা কৃষি অফিস কাজ করছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহিদনগর এম. এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতিকে ফুলেল সংবর্ধনা

বাশঁ-বেত শিল্পের দুর্দিনেও এ শিল্পকে আকড়ে ধরে রেখেছেন

প্রকাশিত : ১০:৫৪:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৩

বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য বাশঁ-বেত শিল্প আজ বিলুপ্তির দ্ধারপ্রান্তে। নান্দনিক কুটির শিল্পের এ দুর্দিনেও বাপ-দাদার পেশাকে আকড়ে ধরে রেখেছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কয়েক ঘড় কারিগর ।কালের বিবর্তনে আধুনিক সভ্যতার দাপটে প্লাস্টিক সামগ্রীর বাজার দখল,প্রয়োজনীয় কাঁচা মাল দুস্প্রাপ্য ও মুল্য বৃদ্ধির সাথে বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় মানুষ এ শিল্পের গৃহস্থালী পন্যের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। তবে কিছু কারিগর বাঁশ থেকে মাছ বহনের খাড়ি তৈরী করে বাপ দাদার পেশাকে টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করেেছন।

জানাযায়, একসময় গ্রামের ঘরে ঘরে বাঁশ-বেত শিল্প বাংলার ঐতিহ্যের আসনে ছিল।ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রামীণ পল্লিতে বাঁশে-বেত দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা হতো। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এ কাজে সামিল হতো। আর হাটবারে স্থানীয় বাজারে এমনকি বাড়ি বাড়ি ফেরি করে এসব বাঁশ-বেতের পণ্য বিক্রি হতো । কিন্তু আদুনিক প্রযুক্তির যোগে প্লাস্টিক,লোহা,সহ অন্যান্য উপাদানে তৈরী জিনিসের সাথে প্রতিযোগিতা বাজারে টিকতে না পেওে মূখ থুবরে পরেছে এ শিল্প। গৃহস্থালির কাজে বাঁশ ও বেতর তৈরিকৃত নান্দনিক উপকরণ বিলুপ্তির দ্ধারপ্রান্তে এসে পৌচেঁছে। তাই বাংলার ঐতিহ্য বাশ-বেতের সামগ্রীর চাহিদা কমায় উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের এলাকার নগড়পাড়া জিয়সতলা এলাকায় বেশ কয়েক ঘর কারিগর বাঁশ দিয়ে মাছের খাড়ি তৈরী করে বাপ-দাদার পেশাকে টিকিয়ে রাখতে আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বাশঁ-বেত শিল্প থেকে গৃহস্থালী পন্য তৈরী করে কারিগরদের পর্যাপ্ত আর্থিক যোগান না আসায় জীবন জীবিকার তাগিদে কয়েক ঘর কারিগর পন্য বদল করে মাছের খাড়ি প্রস্তুতের মাধ্যমে এ পেশাকে আকড়ে ধরেছেন। আবার অনেকেই বেছেঁ নিয়েছেন অন্য পেশা।দিন দিন বিভিন্ন জিনিস-পত্রের মূল্য বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে খাড়ি বানাতে খরচ বাড়লেও বাড়েনি এই শিল্পের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের মূল্য।যার কারণে কারিগররা অর্থাভাবে জীবন সংসারে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন ।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ উপজেলায় এক যুগ আগেও তিন শতাধিকের বেশি পরিবার এ পেশায় সম্পৃক্ত ছিল। আধুনিক সভ্যতার দাপটে প্লাস্টিক সামগ্রীর বাজার দখলসহ নানা কারণে লাভজনক না হওয়ায় অনেকেই এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন। গৃহস্থালির কাজে বাঁশ ও বেতের তৈরিকৃত নান্দনিক উপকরণ সামগ্রী শিশুদের দোলনা, র‌্যাগ, পাখা, ঝাড়ু, টোপা, সাজি, ওরা, কুলা, মোরা, পুরা, দাড়িপাল্লা, ঝাঁপিসহ গৃহস্থালী পন্য এখন কদর হারিয়েছে।

চাহিদা কমে যাওয়ায় গৃহস্থালী পন্য তৈরী করে প্রতিযোগিতা বাজারে টিকতে না পেরে এসব বাঁশ শিল্পের কারিগররা তাদের পূর্ব পুরুষের এ পেশা ধরে রাখতে মাছ বহনের খাড়ি তৈরীতে ঝুকে পড়েন। কিন্তু এখানেও ঘটে বিপত্তি। প্রয়োজনীয় কাঁচা মাল দুস্প্রাপ্য ও মুল্য বাড়লেও বাড়েনি উৎপাদিত পন্য মুল্য। এতে করে কারিগররা পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক হারিয়েছে। ফলে মানবেতর জীবন-যাপন করছে এই পেশার লোকজন। একদিকে যেমন সংকটে পড়েছেন কারিগররা অপরদিকে মানুষ হারাতে বসেছে প্রাচীন ঐতিহ্য। বাশঁ-বেত শিল্পের এ দুর্দিনেও উপজেলার কায়েতপাড়া ও গুতিয়াব এলাকার ৩৫ থেকে ৪০টি পরিবার জীবন ও জীবিকার তাগিদে বাঁশ দিয়ে মাছের খাড়ি তৈরী করে এ শিল্পকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। খরচ বাড়ায় পর্যাপ্ত লরাভের মুখ না দেখতে পেয়ে কারিগররা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

খাড়ি তৈরী কারিগররা বাঁশ থেকে বেত কেটে মাছের খাড়ি প্রস্থুত করে। এই খাড়ি গুলো ছোট-বড় বিভিন্ন মাপের হয়ে থাকে। একটি বাশঁ থেকে বড় মাপের ২টি ও ছোট মাপের ৩টি খাড়ি তৈরী করা যায়। একজন কারিগর প্রতিদিন ২টি বড় মাপের অথবা ৩টি ছোট্র মাপের খাড়ি তৈরী করতে পারে।পাইকারী বাজারে ১টা ছোট্র মাপের খাড়ির দাম ২২০ টাকা। বাঁশ ও আনুসাঙ্গিক অন্যান্য খরচসহ মোট ১২০ টাকা খরচ হয়। একটি বড় মাপের খাড়ির পাইকারি দাম ৪০০ টাকা। বাঁশ ও আনুসাঙ্গিক অন্যান্য খরচসহ মোট ২৮০টাকা খরচ হয়। মাছের খাড়ি তৈরী করে একজন শ্রমিক দিন শেষে পায় মাত্র ৩০০ টকা। তাও বর্ষাকালে কাজকর্ম একদম থাকেই না। তখন সংসারের খাবার জোটানোই কঠিন হয়ে পড়ে।
বেশ কয়েকজন পাইকার উপজেলায় তৈরীকৃত এই খাড়িগুলো কিনে নিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করছেন, বিশেষ করে যেসব এলাকায় মাছের আড়ত রয়েছে সেখানেই বিক্রি হচ্ছে এসব খাড়িগুলো। বিভিন্ন সাইজের তৈরি খাড়িগুলো তারা বিভিন্ন দামে বিক্রি করে থাকে। পাইকাররা আড়তে নিয়ে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করলেও কারিগররা ন্যায্য মজুড়ি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আগে যে বাঁশ ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় পাওয়া যেত সেই বাঁশ বর্তমান বাজারে কিনতে হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। এর উপড়ে রয়েছে পরিবহনের খরচ। পাশা-পাশি বেড়েছে আনুসাঙ্গিক অন্যান্য খরচ।এ পেশা সংশ্লিষ্টদের দাবি সরকারী ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাংলার ঐতিহ্যবাহি বাঁশ-বেত শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সহজ হবে।

নগড়পাড়ার জিয়সতলায় খাড়ি তৈরী কারিগর কার্তিক সরকারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, কিন্তু কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোয়ায়, প্লাস্টিক, লোহা সহ বিভিন্ন উপাদানের তৈরী সামগ্রীর সাথে প্রতিযোগিতা বাজারে টিকতে না পেরে ধীরে ধীরে এই শিল্পে ধস নামতে শুরু করে। আমরা কয়েকটি পরিবার বাঁশ দিয়ে মাছের খাড়ি তৈরীর কাজ করে সংসার চলত।কিন্তু সম্প্রতি পন্য তৈরীতে খরচ বাড়ার সাথে মুল্য না বাড়ায় বাপ-দাদার পেশাকে টিকিয়ে রাখতে ও সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।

খাড়ি তৈরীর কারিগর বিমল সরকার জানান, এখন উৎপাদন খরচ বেড়েছে কিন্ত পন্যের মুল্য বাড়েনি। যে বাঁশ আগে ১৫০ থেকে ২০০টাকায় যে বাশঁ পাওয়া যেত এখন সেটা ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০টাকায় কিনতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাঁচা মাল দুস্প্রাপ্য ও মুল্য বৃদ্ধির পাশা-পাশি বেড়েছে আনুসাঙ্গিক অন্যান্য খরচ। সে অনুপাতে বাড়েনি আমাদের তৈরী পন্যের মুল্য। সারাদিন পরিশ্রম করেও ৩শ টাকার কাজ করতেই কষ্টকর হয়ে পরে। এতে অর্থাভাবে মানবেতর জীবন-যাপন করছে বাশঁ-বেত শিল্পের কারিগররা।

বাশঁ-বেত শিল্পের কারিগর শংকর রায় জানান, আলাপ কালে তারা জানালেন পরদাদার আমল থেকে বংশ পরম্পরায় তারা সকলে এ পেশায় যুক্ত। এ পেশার আনুমানিক বয়স প্রায় ২শ বৎসর। একদশক আগেও নগড়পাড়া, জিয়সতলা, নাওড়া,বাগবের সহ উপজেলার বেশকিছু এলাকায় প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০টি পরিবার বাশঁ-বেত শিল্পের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। অনেকে এ পেশায় দীর্ঘ দিন যুক্ত থাকলেও কাল ক্রমে তা মাত্র ৩৫-৪০ পরিবারে এসে ঠেকেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে টিকতে না পেরে ইতিমধ্যে অনেকেই পেশা বদলেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যন শাহাহান ভূইয়া বলেন, এক সময় বাঁশ-বেত শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের বেশ চাহিদা ছিল। সময়ের বিবর্তনে প্রযুক্তির ছোয়ায় প্রতিযোগিতা বাজারে টিকতে না পেরে এ শিল্পটি হাড়িয়ে যেতে বসেছে। বাশঁ বেত শিল্পের দুর্দিনেও উপজেলার কায়েতপাড়া ,বাগবের এলাকার কয়েকটি পরিবার এ পেষাকে আকড়ে ধরে রেখেছেন। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সুদমুক্ত ঋণের ব্যাবস্থা করা গেলে কারিগরদের জন্য সহায়ক হতো। ঋণ সহায়তার মাধ্যমে এ শিল্পের পাশে দাড়ানোর জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা সহ বিভিন্ন সেবা মুলক প্রতিষ্ঠানের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেহা নুর বলেন, ‘বাঁশ ও বেত শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া প্রয়োজন। আর্থিক সহযোগিতা এ পেশা টিকিয়ে রাখতে সহায়ক ভুমিকা রাখবে। গ্রামীন অর্থনীতির চালিকা শক্তি ক্ষুদ্র কুটির শিল্প রক্ষার্থে উপজেলা কৃষি অফিস কাজ করছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব