০৮:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি ছাত্রলীগের কমিটিতে সহ-সভাপতি

জুলহাস আহমেদ,বরগুনা:
বরগুনার বামনা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে পদ পেল স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি৷ অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম মো. শেখ রাসেল। তিনি বামনা উপজেলার জাফ্রাখালী গ্রামের শুক্কুর হাজীর ছেলে। অভিযুক্ত শেখ রাসেল সদ্য ঘোষিত বামনা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি পদ পেয়েছেন।

গতকাল (৯ এপ্রিল) রাতে বামনা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রলীগ। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক সাক্ষরিত এ কমিটির সহ সভাপতির পদ পেয়েছেন শেখ রাসেল নামে একজন। সে বামনার চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত। এছাড়াও বিএনপি পরিবারের সন্তান বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২০১৮ সালে বরগুনার বামনা উপজেলার জাফ্রাখালী গ্রামের এক ৫ম শ্রেনী পড়ুয়া স্কুলছাত্রীকে বিভিন্ন সময় ভয়-ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করতেন সদ্য ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে পদ পাওয়া শেখ রাসেল। এতে ওই স্কুলছাত্রী গর্ভবতী হয় এবং সন্তান প্রসব করে৷ এদিকে উপায়ান্তর না পেয়ে স্কুলছাত্রীর মা এলাকা ছেড়ে চলে যায়। পরে গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল গিয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে।

এদিকে একজন ধর্ষণ মামলার আসামী কি করে ছাত্রলীগের সহ সভাপতি পদ পেল, তা নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে। নাম না প্রকাশ শর্তে একাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জানান, ত্যাগীরা কমিটিতে যায়গা পায়না, আর ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী হয় উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।

বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট হারুন অর রশীদ বলেন, এই অভিযুক্ত ছেলেকে আমি চিনি না। তিনি এর আগে ছাত্রলীগ করেছেন কিনা তাও আমার জানা নেই। তার বিরুদ্ধে যদি ধর্ষণ মামলা থেকে থাকে তাহলে ছাত্রলীগের সভাপতি তো দূরের কথা তাকে দলের সদস্য পদেও রাখা উচিত হবে না। তবে আমার জানামতে তার বাবা শুক্কুর হাজী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন।

এবিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে কল করা হয়। তবে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এবিষয়ে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল করিম রেজা বলেন, ওই ছেলের নাম প্রস্তাব করেছেন বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বামনা উপজেলা চেয়ারম্যান সাইতুল ইসলাম লিটু৷ তাদের সাথে সমন্বয় করেই তাকে কমিটিতে পদ দেয়া হয়েছে। মামলার বিষয়টি জানা ছিল না, বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখে ব্যবস্থা নেব।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহিদনগর এম. এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতিকে ফুলেল সংবর্ধনা

প্রকাশিত : ০৯:৪৮:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ এপ্রিল ২০২৩

স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি ছাত্রলীগের কমিটিতে সহ-সভাপতি

জুলহাস আহমেদ,বরগুনা:
বরগুনার বামনা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে পদ পেল স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি৷ অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম মো. শেখ রাসেল। তিনি বামনা উপজেলার জাফ্রাখালী গ্রামের শুক্কুর হাজীর ছেলে। অভিযুক্ত শেখ রাসেল সদ্য ঘোষিত বামনা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি পদ পেয়েছেন।

গতকাল (৯ এপ্রিল) রাতে বামনা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রলীগ। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক সাক্ষরিত এ কমিটির সহ সভাপতির পদ পেয়েছেন শেখ রাসেল নামে একজন। সে বামনার চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত। এছাড়াও বিএনপি পরিবারের সন্তান বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২০১৮ সালে বরগুনার বামনা উপজেলার জাফ্রাখালী গ্রামের এক ৫ম শ্রেনী পড়ুয়া স্কুলছাত্রীকে বিভিন্ন সময় ভয়-ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করতেন সদ্য ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে পদ পাওয়া শেখ রাসেল। এতে ওই স্কুলছাত্রী গর্ভবতী হয় এবং সন্তান প্রসব করে৷ এদিকে উপায়ান্তর না পেয়ে স্কুলছাত্রীর মা এলাকা ছেড়ে চলে যায়। পরে গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল গিয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে।

এদিকে একজন ধর্ষণ মামলার আসামী কি করে ছাত্রলীগের সহ সভাপতি পদ পেল, তা নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে। নাম না প্রকাশ শর্তে একাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জানান, ত্যাগীরা কমিটিতে যায়গা পায়না, আর ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী হয় উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।

বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট হারুন অর রশীদ বলেন, এই অভিযুক্ত ছেলেকে আমি চিনি না। তিনি এর আগে ছাত্রলীগ করেছেন কিনা তাও আমার জানা নেই। তার বিরুদ্ধে যদি ধর্ষণ মামলা থেকে থাকে তাহলে ছাত্রলীগের সভাপতি তো দূরের কথা তাকে দলের সদস্য পদেও রাখা উচিত হবে না। তবে আমার জানামতে তার বাবা শুক্কুর হাজী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন।

এবিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে কল করা হয়। তবে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এবিষয়ে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল করিম রেজা বলেন, ওই ছেলের নাম প্রস্তাব করেছেন বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বামনা উপজেলা চেয়ারম্যান সাইতুল ইসলাম লিটু৷ তাদের সাথে সমন্বয় করেই তাকে কমিটিতে পদ দেয়া হয়েছে। মামলার বিষয়টি জানা ছিল না, বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখে ব্যবস্থা নেব।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ