মাদারীপুরের কালকিনিতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে উপজেলা মৎস্যলীগের সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান খুররাম শিকদার এবং তার স্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ।
এই হয়রানির প্রতিবাদ সভা করেছেন দক্ষিন রাজদী ও পাঙ্গাশিয়া গ্রামের স্থানীয় গণ্যমাণ্য ও এলাকাবাসী। গতকাল দুপুরে সৈয়দ আবুল হোসেন একাডেমী স্কুল এর হল রুমে এলাকাবাসীদের উপস্থিতিতে এই সভা করা হয় । অভিযোগ ও প্রতিবাদ সভায় জানা গেছে ,কালকিনি পৌর এলাকার পাঙ্গাসিয়া গ্রামের গফুর ঘরামীর পরিবারের সাথে দক্ষিণ রাজদী গ্রামের আজিজুর রহমান খুররাম শিকদার ও তার স্ত্রীর পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমিজামা নিয়ে শত্রুতা চলে আসছে । ৩১/১২/২১ ইং তারিখে গফুর ঘরামির ছেলে পলাশ ঘরামী পরিবারের লোকের বিশেষ করে ওর নিজের মা সেলিনা বেগম , বোন ও বোন জামাইয়ের মানসিক নির্যাতনের ফলে এবং ৩-৪ দিন না খাইয়ে রাখার ফলে পলাশকে বিষপানে বাধ্য করা হয়েছিল । সেলিনা বেগমের সামনে পলাশ বিষপান করে কিন্তু পলাশের মা কাউকে না ডেকে পলাশকে বিছানায় রেখে ঘরের সামনের দরজায় দাড়িয়ে থাকে এবং কালক্ষেপন করতে থাকে । পাশের ঘরের হুমায়ন ঘরামীর ছেলে আহাদ ঘরামী ( ১০ ) , ৪ র্থ শ্রেণির ছাত্র পলাশের আর্তনাদ ও বমির শব্দ শুনে পলাশের ঘরে ঢুকতে চাইলে পলাশের মা আহাদকে বাধা দেয় । আহাদ নিজেদের ঘরে গিয়ে তার দাদীকে জানায় । আহাদের দাদীকে আসতে দেখে পলাশের মা তার স্বামীকে কুয়েত প্রবাসী গফুর ঘরামীকে ফোন দিয়ে জানায় তোমার ছেলে বিষপান করেছে । গফুর ঘরামী এলাকায় ফোন দিলে এলাকা বাসীর মধ্যে জানাজানি হয়ে যায় । পরে বাড়ীর লোকজন পলাশকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে চাইলে পলাশের মা বাধা দেয় এবং বলে আমার জামাই মাইনুল কৃষ্ণনগর থেকে ভ্যান নিয়ে আসতেছে , যার দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার । ৩৫-৪০ মিনিট পর মাইনুল ভ্যান নিয়ে আসলে ততক্ষণে পলাশ জুহুরা বেগমের হাতের উপরে মাথা রেখে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে। কালকিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার দেখে , বুঝে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেলে রেফার করেন । সেখানে গিয়ে পলাশের মা নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করে । পলাশকে জরুরি বিভাগের ডাক্তার না দেখিয়ে , এক দালালের সাহায্যে টাকার বিনিময়ে পলাশকে জরুরি বিভাগের ভর্তির খাতায় নাম অন্তর্ভূক্ত করে ৩০-৩৫ মিনিট পরে পলাশকে এ্যাম্বুলেন্স থেকে সরাসরি ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয় হয় । ওয়ার্ডের কর্মরত ডাক্তার পলাশকে মৃত ঘোষণা করে । এলাকাবাসী জানায় সেলিনা বেগম একজন কুখ্যাত মামলাবাজ মহিলা নামে পরিচিত । ছেলে ও মেয়েকে দিয়ে মারামারি , ধর্ষণ ও জমিজামা সংক্রান্ত একাধিক মামলা পরিচালনা করেন এই মহিলা। এই মহিলা একজন অর্থলোভী ও উকিলের পরামর্শে এই সকল কুকর্ম করেন থাকে। পলাশের মৃত্যুর পর তার মা সেলিনা বেগম অন্যায়ের আশ্রয় নিয়ে তার প্রতিপক্ষ আজিজুর রহমান খুররাম শিকদার ও তার স্ত্রী বিউটি বেগমের বিরুদ্ধে কালকিনি থানায় একটি মিথ্যা আত্মহত্যা প্ররোচণা মামলা দায়ের করে । পরে থানা পুলিশ একাধিক তদন্ত করে এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাদের নাম বাদ দিয়ে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন । পরে সেলিনা বেগম কোর্টে না রাজি দিলে কোর্ট সি.আই.ডি. কে তদন্তের জন্য প্রেরণ করেন । এরপর আশেপাশে মানুষের কাছ থেকে সেলিনা বেগমের কু – কর্মের কথা থানা পুলিশ ও সি.আই.ডি যাতে বিশ্বাস না করে সেই জন্য আশেপাশের সকলকেই তার শত্রু বলে আখ্যায়িত করে রাখে । এজন্য সে পলাশের মৃত্যুর পর বাড়ির চারপাশে কঠিন বেড়া দিয়ে দিয়ে সি.আই.ডি কে বুঝাইতে চাইছেন বাড়ির আশেপাশের লোকজন তার শত্রু। প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত থেকে সাবেক পৌরপ্রশাসক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ – সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বলেন , “ পলাশ ধণাঢ্য পরিবারের সন্তান ছিল । পলাশ বিষপান করেছে পারিবারিক দ্বন্দ্বের ফলে ও পরিবারের লোকদের মানসিক নির্যাতনের ফলে । পলাশের মা পলাশকে হাসপাতালে নিতে বিলম্ব করেছে এবং পাশের লোকদের কেন ডাকলো না । মা চাইলে ছেলেকে বাঁচাতে পারতো । কিন্তু দুঃখের বিষয় পলাশের বাবার এত বিশাল বাড়ি ও ধন – সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও পলাশের মা চক্রান্ত করে কালকিনিতে লাশ দাফন না করে তার বাবার বাড়ি গৌরনদীর কসবা গ্রামে দাফন করেছে । তার জন্মভূমির বাড়ি কি দোষ করেছে । কেন পলাশের লাশ কালকিনিতে দাফন করা হলো না । এখন সে বরিশাল বসে ঢিল ছুড়ে নিজেকে বাঁচানোর জন্য নিরীহ খুররম শিকদার ও তার স্ত্রীকে ফাঁসিয়ে দিয়ে হয়রানি করে আসছে আমি ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই । ” সৈয়দ আবুল হোসেন একাডেমীর প্রধান শিক্ষক বি.এম হেমায়েত হোসেন বলেন , “ নিহত পলাশ আমার ছাত্র ছিল । ছেলে হিসেবে ভালোই ছিল । যাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে আজিজুর রহমান ও বিউটি তারা এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিতি। এলাকায় তাদের নামে কোনো খারাপ অভিযোগ নেই । কি কারণে পলাশের মা মিথ্যা মামলা দিয়েছে কিছুই বুঝতেছি না । এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই । ” নিহতের প্রতিবেশী সাবেক কাউন্সিলর মোস্তফা ঘরামী ও নিহতের চাচাতো ভাই নিপুল ঘরামী বলেন , খুরারম শিকদার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলাটি করা হয়েছে সেটা আসলেই খুবই দুঃখজনক। ” ভূক্তাভোগী আজিজুর রহমান খুররাম শিকদার বলেন ,“ পলাশের মা , দুই বোন ও বোন জামাই মিলে এই পরিকল্পিত হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে । পলাশের মৃত্যুতে কারা বেশি লাভবান , এটাও এলাকাবাসি সকলেই অবগত আছে । পলাশের মৃত্যুর পর তার কুয়েত প্রবাসী বাবা গফুর ঘরামী ছেলের মৃত্যুর পরও দেশে না এসে প্রায় এক বছর পর তিন মাসের ছুটি নিয়ে দেশে আসেন এবং ঘর থেকে বেড় হওয়ার সাথে সাথে বড় মেয়েও সাথে থেকে তাকে পাহাড়া দেয় যাতে সে সত্য ঘটনা জানতে না পারে । এক মাস পরেই তরিঘরি করে পালাশের বাবাকে কুয়েতে পাঠিয়ে দেন । আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই । ” সেলিনা বেগম এলাকায় খারাপ লোক হিসেবে পরিচিত । পলাশ যেদিন ৩-৪ দিন না খেয়ে থাকার পর বিষপান করেছিল , সেদিন আশেপাশের লোকজনকে কেন ডাকেনি । সে সময় মতো হাসপাতালে না নিয়ে কেন,কালক্ষেপন করেছেন । কালক্ষেপন করে অনেক পরে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে । মামলার অভিযোগকারী সেলিনা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেনি। বি.এম .
০৭:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম :
বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ
-
হানিফ , কালকিনি - প্রকাশিত : ০৯:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল ২০২৩
- 70
ট্যাগ :
জনপ্রিয়




















