বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
চলতি শুকনো মৌসুম শুরু হওয়ার পর আমাদের পৌলি নদী থেকে অবৈধভাবে একাধিক ভেকু বসিয়ে মাটি তুলে বিক্রি করছে প্রভাবশালীরা। মাঝে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হয়েছে। ট্রাক-ড্রাম ট্রাক চলাচল করায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সড়কটি চলাচলের অনুপযোগি। অপর দিকে মাটির বিক্রির কারণে বসতভিটা ও সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া ধুলা বালুর কারনে বাড়িতেও থাকতে পারি না। আমাদের দুর্দশা দুর্ভোগ দেখার কি কেউ নেই। এভাবেই কথা ৭০ বছর বয়সী হারেজ আলী (ছদ্দ নাম)। তিনি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার মহেলা গ্রামের বাসিন্দা। শুধু হারেজ আলী নয়, পৌলি নদী থেকে অবৈধভাবে মহেলা ও শালিনা গ্রামের শত শত মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অবৈধভাবে মাটি বিক্রির বন্ধের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের পৌলি সেতুর পশ্চিম পাশে ও পৌলি রেল সেতুর পূর্ব পাড়ে থেকে অবৈধভাবে মাটি বিক্রি করছে প্রভাবশালীরা। দুই সেতুর পাশ থেকে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির কারণে ২০১৭ সালে ২০ আগস্ট রেল সেতুর অ্যাপ্রোচ ধসে যায়। এতে ঢাকার সাথে উত্তরবঙ্গের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তারপরও দুই সেতুর পাশ থেকে অবৈধভাবে মাটি বিক্রি বন্ধ হচ্ছে না। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে প্রাণ নাশের হুমকি দেয় মাটি উত্তোলনকারীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ মাটি বিক্রি বন্ধে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও তার পরেই আমার মাটি বিক্রি শুরু হয়।
এলাকাবাসী জানান, মহেলা এলাকার পূর্বপাশে অবৈধভাবে দুটি ভেকু বসিয়ে বিএনপি নেতা শাহ আলমের নেতৃত্বে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। তার দুইশ মিটার পাশে মিয়া, সিকদার ও খানের নেতৃত্বে চারটি ভেকু বসিয়ে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে।
সরেজমিন মঙ্গলবার গিয়ে দেখা যায়, পৌলি সেতুর দক্ষিণ পাশ দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাধ দিয়ে তিনটি ট্রাক মাটির জন্য ঘাটে যাচ্ছে। ধুলার কারণে সামনে কিছু দেখা যায় না। এছাড়াও বড় বড় গর্তের কারণে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগি। সড়কের এক পাশে শ্রমিকরা পানি দিয়ে ধূলা নিরসনের চেষ্টা করছে। কথা হয় মহেলা গ্রামের রাজিব মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, দিনের পর দিন এই দুর্ভোগে আমাদের চলতে হয়। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে প্রভাবশালীদের লালিত সন্ত্রাসীরা প্রাণনাশের হুমকি দেয়। প্রশাসনকে অবগত করলেও কোন লাভ নেই। সকালে অভিযান করলে বিকেলে আবার বিকেলে অভিযান করলে রাতে আবার অবৈধভাবে মাটি বিক্রি শুরু হয়।
ওই এলাকার হাসনা বেগম বলেন, বালু উড়ে এসে বাড়িতে ও ঘরে প্রবেশ করে। এতে স্বাভাবিক চলাচলে আমাদের বিঘœ সৃষ্টি হয়। কার কাছে বলবে এর স্থায়ী সমাধান হবে আমার জানা নেই। তবে অবৈধ মাটি বিক্রি বন্ধের জন্য স্থায়ী সমাধান চাই।
ঘাটে গিয়ে দেখা যায় বিএনপি নেতা শাহআলম কয়েক জন ব্যক্তিকে নিয়ে জমি পরিমাপ করছে। শাহআলম বলেন, বিএনপি সমর্থন করার পরও বর্তমানে আমি মোটামুটি ভালই আছি। আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ঘাট চালানোর কারনে আমার ভাল দিন কাটছে। আপনারা আসছেন ছবি তুইলেন না। নিউজও করার প্রয়োজন নেই। আপনারা কিছু টাকা নিয়ে চলে যান। অপর জন মনির মিয়া বলেন, প্রশাসন ম্যানেজ করা আছে বলেই মঙ্গল সকালে অভিযান হয়েছে। তারপরও দুপুরের পর আবার ঘাট চালু করেছি।
পাশের ঘাটে কথা হয় টাঙ্গাইল শহরের আদালতপাড়া ছাপড়া মসজিদ সংলগ্ন কাওছার মিয়ার সাথে। তিনি চেয়ার টেবিল নিয়ে মহেলা এলাকার ঘাটে বসে ট্রাক চালকদের রিসিট দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ট্রাক ও ভেকুর কাছে গিয়ে ছবি তুলেন, তাহলে স্পষ্ট আসবে। আর ছবি তুলেও লাভ নেই। সাংবাদিক ও প্রশাসন ম্যানেজ করা আছে।
শালিনা গ্রামের আলামিন বলেন, প্রতিদিন শত শত ট্রাক চলার কারনে শালিনা ও মহেলা গ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় দুই কিলোমিটার বাঁধ চলাচলের অনুপযোগি। আমাদের দুভোগের সীমা নেই। আমরা শাস্তিতে বসবাস করতে চাই।
কালিহাতী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসেইন বলেন, অবৈধ মাটি বিক্রি বন্ধে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পুলিশকে বলেছি তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনে মামলা নিতে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এখানে অভিযানের জন্য জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বাঁধটি হুমকির মুখেই থেকে যাবে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া খুব জরুরি।




















