০৭:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

কুষ্টিয়ার মিরপুরে দুদিনের অগ্নিকান্ডে বসত বাড়ীসহ মাঠের পর মাঠ পান বরজ ধ্বংশ

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের হিন্দু পাড়া ও আহম্মদপুর নতুন পাড়া গ্রামে গত দু’দিনে ভয়াবহ অগ্নি কান্ডে বসবাড়ীসহ শতশত বিঘা পানের বরজ পুড়ে ভুষ্মিভুত হয়েছে। অগ্নিকান্ডে ১১ টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুর ২টার সময় আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে ১১টি ঘর এবং ১২০০ পিলি পান বরজ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। বুধবার আবারো দুপুরে আহম্মদপুর গ্রামের নতুন পাড়ার মাঠের পান বরজে আগুন লাগে। প্রচন্ড তাপদহে মুহুর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের পান বরজে ছড়িয়ে পড়ে। মাঠের মধ্যে শুধুই আগুনের অগ্নি শিখা আর কালো ধুয়া। চাষীদের আহাজারীতে আকাশ বাতাশ ভারী হয়ে উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, মোঃ ইসলামের বাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ইসলামের ত্রী বলেন কিভাবে আগুন লেগেছে বুজতে পারছি না, দৌড়ে গিয়ে দেখি আমার বাড়ির পাশে পানের বরজের মাঝখানে আগুন জ্বলছে। ধারনা করছি পানের বরজ থেকে আগুন লেগেছে। আমি দৌঁড়ে গিয়ে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বালছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমিরের পরিবার। কুরবান মির্জার ছেলে আমির (৩০) বলেন, আমি পাউরুটি, বিস্কিট, চানাচুর, হকারি করি, বাড়িতে একটি ঘরে আমার ব্যবসার দুই লক্ষ টাকার মালামাল ছিল সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, সুধু ঘড়বাড়ি নয় পুড়ে গেছে আমার স্বপ্নও। কিছুই বের করতে পারিনি সব পুড়ে গেছে। এমন কি দলীলপত্রসহ ঘরের মধ্যে যা আছে সব পুড়ে গেছে।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ, স্কুল-কলেজের সার্টিফিকেট, জমির দলিলসহ সরকারি-বেসরকারি প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র পুড়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন আমির আলী (৩০) পিতা কোরবান আলী, সোহেল রানা (৩২) পিতা আমেজেদ আছমা খাতুন, আসলাম (৩০) মাতা আসমা খাতুন, কুদ্দুস (৫০) পিতা দিদার আলী, সুজন (৩০) পিতা কুদ্দুস ফেরদৌস (৩৫) পিতা কুদ্দুস আবু বকর (৪৫) পিতা গনি,. আতিয়ার (৪৭) পিতা দিদার মনোয়ারা বেগম (৫০) স্বামী গনি, ইসলাম (৪০) পিতা কাশেম।

মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হারুন অর রশিদ বলেন, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় প্রায় ১১টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে ৫০ লক্ষাধিক টাকার পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে । তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতি পরিবারের মাঝে ২০ কেজি চাউল ও ৩ টি করে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে, এবং পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের সহায়তায়, তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। তবে বুধবার যে অগ্নিকান্ডে ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নিরূপন করা না গেলেও অনুমান করা যাচ্ছে প্রায় ১০০ বিঘা পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহিদনগর এম. এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতিকে ফুলেল সংবর্ধনা

কুষ্টিয়ার মিরপুরে দুদিনের অগ্নিকান্ডে বসত বাড়ীসহ মাঠের পর মাঠ পান বরজ ধ্বংশ

প্রকাশিত : ০৩:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ এপ্রিল ২০২৩

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের হিন্দু পাড়া ও আহম্মদপুর নতুন পাড়া গ্রামে গত দু’দিনে ভয়াবহ অগ্নি কান্ডে বসবাড়ীসহ শতশত বিঘা পানের বরজ পুড়ে ভুষ্মিভুত হয়েছে। অগ্নিকান্ডে ১১ টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুর ২টার সময় আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে ১১টি ঘর এবং ১২০০ পিলি পান বরজ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। বুধবার আবারো দুপুরে আহম্মদপুর গ্রামের নতুন পাড়ার মাঠের পান বরজে আগুন লাগে। প্রচন্ড তাপদহে মুহুর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের পান বরজে ছড়িয়ে পড়ে। মাঠের মধ্যে শুধুই আগুনের অগ্নি শিখা আর কালো ধুয়া। চাষীদের আহাজারীতে আকাশ বাতাশ ভারী হয়ে উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, মোঃ ইসলামের বাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ইসলামের ত্রী বলেন কিভাবে আগুন লেগেছে বুজতে পারছি না, দৌড়ে গিয়ে দেখি আমার বাড়ির পাশে পানের বরজের মাঝখানে আগুন জ্বলছে। ধারনা করছি পানের বরজ থেকে আগুন লেগেছে। আমি দৌঁড়ে গিয়ে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বালছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমিরের পরিবার। কুরবান মির্জার ছেলে আমির (৩০) বলেন, আমি পাউরুটি, বিস্কিট, চানাচুর, হকারি করি, বাড়িতে একটি ঘরে আমার ব্যবসার দুই লক্ষ টাকার মালামাল ছিল সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, সুধু ঘড়বাড়ি নয় পুড়ে গেছে আমার স্বপ্নও। কিছুই বের করতে পারিনি সব পুড়ে গেছে। এমন কি দলীলপত্রসহ ঘরের মধ্যে যা আছে সব পুড়ে গেছে।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ, স্কুল-কলেজের সার্টিফিকেট, জমির দলিলসহ সরকারি-বেসরকারি প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র পুড়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন আমির আলী (৩০) পিতা কোরবান আলী, সোহেল রানা (৩২) পিতা আমেজেদ আছমা খাতুন, আসলাম (৩০) মাতা আসমা খাতুন, কুদ্দুস (৫০) পিতা দিদার আলী, সুজন (৩০) পিতা কুদ্দুস ফেরদৌস (৩৫) পিতা কুদ্দুস আবু বকর (৪৫) পিতা গনি,. আতিয়ার (৪৭) পিতা দিদার মনোয়ারা বেগম (৫০) স্বামী গনি, ইসলাম (৪০) পিতা কাশেম।

মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হারুন অর রশিদ বলেন, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় প্রায় ১১টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে ৫০ লক্ষাধিক টাকার পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে । তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতি পরিবারের মাঝে ২০ কেজি চাউল ও ৩ টি করে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে, এবং পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের সহায়তায়, তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। তবে বুধবার যে অগ্নিকান্ডে ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নিরূপন করা না গেলেও অনুমান করা যাচ্ছে প্রায় ১০০ বিঘা পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব