সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের কোদুলা গ্রামে গত সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।আহত রত্না বেগম ও তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের কোদুলা গ্রামের মফিজ উদ্দিন এর ছেলে মুজিবুর রহমানের (৩৮) সঙ্গে পাশের উচ্চ গ্রামের মমতাজ আলীর মেয়ে রত্না বেগমের (৩২)সঙ্গে ১৭ বছর আগে বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকেই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকত। গত ৮ মাস আগে স্ত্রী রত্না বেগমকে স্বামী মুজিবুর রহমান তালাক দেন। গত ১৭ বছরে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দুইবার বিচ্ছেদ ঘটে ।
গত সোমবার রাতে তালাকপ্রাপ্ত রত্না বেগমের স্বামী মজিবর রহমান জেঠাতো ভাই আলতাফ হোসেনকে দিয়ে সন্তান অসুস্থ বলে নিজ বাড়িতে ডেকে আনেন। বাড়িতে আসলে রত্না বেগমের হাত-পা বেঁধে স্বামী মজিবুর রহমান ও তার পরিবারে লোকজন লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। খবর পেয়ে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ আহত রত্না বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
গুরুতর আহত রত্না বেগম বলেন, মজিবর রহমান আমাকে লোক দিয়ে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে হাত-পা রশি দিয়ে বেধে। এরপর মুজিবর ও তার পরিবারের লোকজন আমাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। আমি এর বিচার চাই।
আহত রত্না বেগমের বাবা মমতাজ আলী বলেন, আমার মেয়ে রত্না বেগমকে তার তালাক দেওয়া স্বামী ডাইকা নিয়ে পিটাইছে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই। থানায় মামলা করমু।
অভিযুক্ত মজিবর রহমান বলেন, আমার বাড়িতে তালাক দেওয়া বউ চুরি করতে আসে। এ সময় হাত-পা বেঁধে কিছু মারধর করা হয়েছে। পরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
সরিষাবাটি থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) আব্দুল খালেক বলেন, খবর পেয়ে কোদুলা এলাকার মজিবর রহমানের বাড়ি থেকে আহত রত্না বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, রত্না বেগমকে অমানবিক নির্যাতন করে আহত করা হয়েছে। হাসপাতলে ভর্তি রয়েছে।
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মহব্বত কবীর বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে মামলা নেওয়া হবে। পুলিশ আহত রত্না বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।




















