০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

পরকীয়ার জেরে স্বামীকে হত্যা, স্ত্রীসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

কুমিল্লায় পরকীয়া প্রেমের জেরে পরিবহন নেতা রেজাউল করিম রাজা মিয়াকে হত্যার দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় দেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ সতানন্দি গ্রামের শান্তি রঞ্জন শীলের ছেলে তাপস চন্দ্র শীল, ভুক্তভোগী রেজাউল করিমের স্ত্রী মোসা. আলো আক্তার এবং চান্দিনা উপজেলার দক্ষিণ গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মো. রাসেদ।

জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. রেজাউল করিম মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার পুরাতন চরচাষি এলাকার ছোয়াব আলী বেপারীর ছেলে। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ সতানন্দি গ্রামে শ্বশুরবাড়ির পাশে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করতেন। ২০১৪ সালের ১৩ জুন রাতে ঐ বাড়ির উঠানে ছুরিকাঘাতে তাকে হত্যা করে আসামিরা। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. খাজা মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে দাউদকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দাউদকান্দি থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত শেষে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর নিহতের স্ত্রী মোসা. আলো আক্তারসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। বাকি দুই আসামি হলেন- দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ সতানন্দি শীলবাড়ী গ্রামের শান্তি রঞ্জন শীলের ছেলে তাপস চন্দ্র শীল এবং চান্দিনা উপজেলার বশিকপুর দক্ষিণ গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মো. রাসেদ।

পুলিশ ভুক্তভোগী রেজাউল করিমের স্ত্রী আলো আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে অপর দুই আসামী তাপস চন্দ্র শীল ও রাসেদের নাম বলেন। এরপর পুলিশ অপর দুই আসামিকে গ্রেফতার করলে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। আদালত এ মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি রাসেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মোসা. আলো আক্তার ও তাপস চন্দ্র শীল পলাতক রয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহিদনগর এম. এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতিকে ফুলেল সংবর্ধনা

পরকীয়ার জেরে স্বামীকে হত্যা, স্ত্রীসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত : ০৫:০৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ এপ্রিল ২০২৩

কুমিল্লায় পরকীয়া প্রেমের জেরে পরিবহন নেতা রেজাউল করিম রাজা মিয়াকে হত্যার দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় দেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ সতানন্দি গ্রামের শান্তি রঞ্জন শীলের ছেলে তাপস চন্দ্র শীল, ভুক্তভোগী রেজাউল করিমের স্ত্রী মোসা. আলো আক্তার এবং চান্দিনা উপজেলার দক্ষিণ গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মো. রাসেদ।

জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. রেজাউল করিম মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার পুরাতন চরচাষি এলাকার ছোয়াব আলী বেপারীর ছেলে। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ সতানন্দি গ্রামে শ্বশুরবাড়ির পাশে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করতেন। ২০১৪ সালের ১৩ জুন রাতে ঐ বাড়ির উঠানে ছুরিকাঘাতে তাকে হত্যা করে আসামিরা। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. খাজা মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে দাউদকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দাউদকান্দি থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত শেষে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর নিহতের স্ত্রী মোসা. আলো আক্তারসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। বাকি দুই আসামি হলেন- দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ সতানন্দি শীলবাড়ী গ্রামের শান্তি রঞ্জন শীলের ছেলে তাপস চন্দ্র শীল এবং চান্দিনা উপজেলার বশিকপুর দক্ষিণ গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মো. রাসেদ।

পুলিশ ভুক্তভোগী রেজাউল করিমের স্ত্রী আলো আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে অপর দুই আসামী তাপস চন্দ্র শীল ও রাসেদের নাম বলেন। এরপর পুলিশ অপর দুই আসামিকে গ্রেফতার করলে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। আদালত এ মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি রাসেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মোসা. আলো আক্তার ও তাপস চন্দ্র শীল পলাতক রয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।