০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

তিস্তার পানি শূন্যতায় ,জীবন জীবিকা থমকে গেছে !

বর্ষার যৌবন ভরা সর্বনাশা তিস্তা এখন শুধু বালুচর ,দুই কুল উঁপচিয়ে দাপিয়ে চলা তিস্তা নদী ফাল্গুনের শুকিয়ে যাওয়ায় হেঁটেই পারাপার হচ্ছেন স্থানীয়রা ।বর্তমানে শুধু নৌকায় নয তিস্তা সড়ক রেল সেতুর প্রহসনের মতো দাঁড়িয়ে আছে।

জানা গেছে ,ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর নীলফামারী জেলার কালিগঞ্জ সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে তিস্তা নদী। এরপর লালমনিরহাট নীলফামারী রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী বন্দর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে মিশে গেছে এই নদী। তবে বর্ষা শেষ হতেই পানি শুকিয়ে মরুভূমিতে পরিণত হয় তিস্তা নদী। ঢেউ ইন তিস্তার বুকে জেগে ওঠে অসংখ্য বালুচর। উজানে গজল ডোবার বাদ নির্মাণ করে প্রতিবেশী দেশ ভারত একতরফা নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ করা বর্ষা শেষেই বাংলাদেশ অংশের তিস্তা মরুভূমিতে পরিণত হয় ।ফলে লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম,ও নীলফামারী জেলার ১২৫ কিলোমিটার তিস্তার অববাহিকায় জীবন বৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ে। দেশের অন্যতম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ভাটিতে বালুচরে এখন হেঁটেই নদী পাড়ি দিচ্ছে মানুষ।

নদী টির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার হলেও বাংলাদেশ অংশ রয়েছে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার। বর্ষাকালে বন্যা আর নদী ভাঙ্গনের মুখে পড়ে তিস্তা পাড়ের বাসিন্দারা। ভাঙ্গনে ও প্রবল স্রোতে ভেসে যায় ফসলের জমি বসতভিটা সহ সব স্থাপনা। ফলে ব্যারেজ সহ তিস্তা নদীর উপর নির্মিত তিস্তা রেল সেতু তিস্তা সড়ক সেতু ও গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতু যেন প্রহসনের মূলকভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে ধু-ধু বালুচরে।

এদিকে শুটকির অভাবে তিস্তা বন্দরের আরদ দারিদের ও নেই আগের মৌসুম। যা আছে তা বাইরের শুটকি। পানি শূন্য তিস্তার মাছের আকাল পড়েছে ।মাছ না থাকায় অনেক জেলে তাদের পেশা পরিবর্তন করছেন ।যারা রয়েছেন তাদেরকে সংসার চলে অনাহারে -অর্ধ হারে।

স্টার ডান তীরে কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের গদাই গ্রামের জেলে ফখরুল ইসলাম জানান, আগে এ নদীতে দিনভর মাছ ধরে বিক্রি করে সংসার সুখেই চলত। মাছের শুটকি করেও সারা বছর বিক্রি করতাম। এখন নিজের খাবার মাছ টুকুও নেই। আশপাশের গর্তে থাকা মাছ ধরে কোনরকমে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে। অনেকেই পেশা বদল করেছেন। অন্য কাজের অভিজ্ঞতা না থাকায় এ পেশাতেই রয়েছি। পানির ন্যায্য হিসাব আদায় করে তিস্তার যৌবন ফেরাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিস্তা চলাঞ্চলের চর ডুব মারা গ্রামের কৃষ ক লিয়াকত আলী জানান বর্ষাকালে পানির প্রয়োজন নেই। তখন ব্যাপক হারে পানির ছেড়ে ভারত সরকার আমাদের ফসল ও ঘর বাড়ি ধ্বংস করে। আবার শুষ্ক মৌসুমে যখন চাষাবাদের জন্য পানির প্রয়োজন তখন এক ফোঁটা পানী ও পাইনা আমরা। ন্যায্য হিসাব পেলে শুষ্ক ও মৌসুমেও পানি থাকত তিস্তায়। তখন শুধু মাশুই না নদীর পানি ব্যবহার করে চরাঞ্চলের অন্যবাদী জমিগুলোতে চাষাবাদ করা যেত। এখন অনেক টাকা খরচ ও প্রচুর পরিশ্রম করে কোন রকম চাষাবাদ করছি। যার উৎপাদন খরচে ওঠেনা।

তিস্তা ব্রিজ ঘাটের মাঝি শহিদুল জানান ,মূল স্রোত ধারার হাঁটুর নিচে পানি। যায় হেঁটে পাড়ি দেওয়া যায় ।বাকি পুরো তিস্তা নদীর ধুধু বালুচর। ফলে নৌকা চালানোর মতো কোন সুযোগ নেই এখন। সামান্য হাঁটু পানি ,সবাই হেঁটেই ই পারি দিচ্ছে ।তাই যাত্রের অভাবে নৌকা তুলে রেখেছি।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউ দৌলা জানান, নদীতে মাত্র ২০০০ কিউসেক পানি রয়েছে। যা দিয়ে ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। পানি কম থাকায় নিয়ম অনুযায়ী মূল স্রোত ধারার সব জল কপটি বন্ধ রয়েছে। ফলে পানি শূন্য রয়েছে মূল নদী।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহিদনগর এম. এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতিকে ফুলেল সংবর্ধনা

তিস্তার পানি শূন্যতায় ,জীবন জীবিকা থমকে গেছে !

প্রকাশিত : ০২:২৮:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৩

বর্ষার যৌবন ভরা সর্বনাশা তিস্তা এখন শুধু বালুচর ,দুই কুল উঁপচিয়ে দাপিয়ে চলা তিস্তা নদী ফাল্গুনের শুকিয়ে যাওয়ায় হেঁটেই পারাপার হচ্ছেন স্থানীয়রা ।বর্তমানে শুধু নৌকায় নয তিস্তা সড়ক রেল সেতুর প্রহসনের মতো দাঁড়িয়ে আছে।

জানা গেছে ,ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর নীলফামারী জেলার কালিগঞ্জ সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে তিস্তা নদী। এরপর লালমনিরহাট নীলফামারী রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী বন্দর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে মিশে গেছে এই নদী। তবে বর্ষা শেষ হতেই পানি শুকিয়ে মরুভূমিতে পরিণত হয় তিস্তা নদী। ঢেউ ইন তিস্তার বুকে জেগে ওঠে অসংখ্য বালুচর। উজানে গজল ডোবার বাদ নির্মাণ করে প্রতিবেশী দেশ ভারত একতরফা নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ করা বর্ষা শেষেই বাংলাদেশ অংশের তিস্তা মরুভূমিতে পরিণত হয় ।ফলে লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম,ও নীলফামারী জেলার ১২৫ কিলোমিটার তিস্তার অববাহিকায় জীবন বৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ে। দেশের অন্যতম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ভাটিতে বালুচরে এখন হেঁটেই নদী পাড়ি দিচ্ছে মানুষ।

নদী টির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার হলেও বাংলাদেশ অংশ রয়েছে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার। বর্ষাকালে বন্যা আর নদী ভাঙ্গনের মুখে পড়ে তিস্তা পাড়ের বাসিন্দারা। ভাঙ্গনে ও প্রবল স্রোতে ভেসে যায় ফসলের জমি বসতভিটা সহ সব স্থাপনা। ফলে ব্যারেজ সহ তিস্তা নদীর উপর নির্মিত তিস্তা রেল সেতু তিস্তা সড়ক সেতু ও গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতু যেন প্রহসনের মূলকভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে ধু-ধু বালুচরে।

এদিকে শুটকির অভাবে তিস্তা বন্দরের আরদ দারিদের ও নেই আগের মৌসুম। যা আছে তা বাইরের শুটকি। পানি শূন্য তিস্তার মাছের আকাল পড়েছে ।মাছ না থাকায় অনেক জেলে তাদের পেশা পরিবর্তন করছেন ।যারা রয়েছেন তাদেরকে সংসার চলে অনাহারে -অর্ধ হারে।

স্টার ডান তীরে কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের গদাই গ্রামের জেলে ফখরুল ইসলাম জানান, আগে এ নদীতে দিনভর মাছ ধরে বিক্রি করে সংসার সুখেই চলত। মাছের শুটকি করেও সারা বছর বিক্রি করতাম। এখন নিজের খাবার মাছ টুকুও নেই। আশপাশের গর্তে থাকা মাছ ধরে কোনরকমে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে। অনেকেই পেশা বদল করেছেন। অন্য কাজের অভিজ্ঞতা না থাকায় এ পেশাতেই রয়েছি। পানির ন্যায্য হিসাব আদায় করে তিস্তার যৌবন ফেরাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিস্তা চলাঞ্চলের চর ডুব মারা গ্রামের কৃষ ক লিয়াকত আলী জানান বর্ষাকালে পানির প্রয়োজন নেই। তখন ব্যাপক হারে পানির ছেড়ে ভারত সরকার আমাদের ফসল ও ঘর বাড়ি ধ্বংস করে। আবার শুষ্ক মৌসুমে যখন চাষাবাদের জন্য পানির প্রয়োজন তখন এক ফোঁটা পানী ও পাইনা আমরা। ন্যায্য হিসাব পেলে শুষ্ক ও মৌসুমেও পানি থাকত তিস্তায়। তখন শুধু মাশুই না নদীর পানি ব্যবহার করে চরাঞ্চলের অন্যবাদী জমিগুলোতে চাষাবাদ করা যেত। এখন অনেক টাকা খরচ ও প্রচুর পরিশ্রম করে কোন রকম চাষাবাদ করছি। যার উৎপাদন খরচে ওঠেনা।

তিস্তা ব্রিজ ঘাটের মাঝি শহিদুল জানান ,মূল স্রোত ধারার হাঁটুর নিচে পানি। যায় হেঁটে পাড়ি দেওয়া যায় ।বাকি পুরো তিস্তা নদীর ধুধু বালুচর। ফলে নৌকা চালানোর মতো কোন সুযোগ নেই এখন। সামান্য হাঁটু পানি ,সবাই হেঁটেই ই পারি দিচ্ছে ।তাই যাত্রের অভাবে নৌকা তুলে রেখেছি।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউ দৌলা জানান, নদীতে মাত্র ২০০০ কিউসেক পানি রয়েছে। যা দিয়ে ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। পানি কম থাকায় নিয়ম অনুযায়ী মূল স্রোত ধারার সব জল কপটি বন্ধ রয়েছে। ফলে পানি শূন্য রয়েছে মূল নদী।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব