১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

পিরোজপুর জেলা স্বরূপকাঠিতে ভাসমান তরমুজ হাট বাজার

দক্ষিণাঞ্চলে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর দ্বিগুণেরও বেশি তরমুজের ফলন হওয়ায় চাষি ও বেপারী সবার মুখেই হাসি ফুটেছে।  সোমবার স্বরূপকাঠির মিয়ারহাট বন্দর সংলগ্ন খালের ভাসমান তরমুজের হাট বসে। তরমুজভর্তি ট্রলারে ঠাসা ওই খাল দিয়ে অন্য কোনো নৌকা বা নৌযান চলাচল দুরূহ হয়ে পড়ে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেনাবেচা হয় এই হাটে।
দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে চাষি ও বেপারীরা তরমুজ এনে বিক্রি করেন ওই হাটে। স্বরূপকাঠির চালানী বেপারী ছাড়াও ঢাকা, চাঁদপুর, সিলেট, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকার বেপারীরা এখান থেকে তরমুজ কিনে ট্রলার ও ট্রাকে নিয়ে যান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায়। খুচরা পাইকার ও বিক্রেতারা ওই হাট থেকে তরমুজ কিনে বিভিন্ন হাট-বাজারে নিয়ে যান। সেখান থেকে ফেরিওয়ালারা ভ্যানে, নৌকায় করে গ্রামে গ্রামে তরমুজ বিক্রি করেন। এ ছাড়াও নাজিরপুরের বৈঠাকাটা ও উজিরপুরের হারতারপাড়ায় রয়েছে একই ধরনের আরও দুটি হাট। বর্তমান  এই হাটে বড় একশত বড় সাইজের তরমুজ ২০-২৬ হাজার টাকা, মাঝারি সাইজে ১০-১৫  হাজার বিভিন্ন সাইজে দাম হয়ে থাকে।
নাজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা মিয়ারহাট, বৈঠাকাটা, হারতা হাটের বড় আড়তদার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, দক্ষিণাঞ্চলের জেলা পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা জেলার কলাপাড়া, মহিপুর, মুন্সিরহাট, কুয়াকাটা, রাঙ্গাবালি, গোলখালী,  তালতলী, গলাচিপা, গাজীপুর, সোনাখালী, ধানখালী, বাদুরা, বাংলাবাজার, নলুয়াবাগি, প্রভৃতি উপকূলীয় অঞ্চল থেকে চাষি ও বেপারীরা তরমুজ হাটে নিয়ে পাইকারি বিক্রি করেন। চাষি পাইকার ছাড়াও স্বরূপকাঠিসহ পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলার শত শত ব্যবসায়ী এ মৌসুমের শুরুতে ক্ষেতে তরমুজের ফুল ও গুটি হওয়া থেকে শুরু করে ওইসব অঞ্চল থেকে ক্ষেতমূলে তরমুজ কিনে স্বরূপকাঠির বৈঠাকাটা ও হারতারপাড়া মোকামে নিয়ে বিক্রি করেন। তরমুজ বাজারজাত করার সময় হলে বেপারীরা ট্রলার নিয়ে ক্ষেতের কাছে গেলে চাষিরা তাদের শ্রমিক দিয়ে ক্ষেত থেকে কেটে ট্রলারে ভরে দেন। এ ছাড়াও ক্ষেতের তরমুজের সাইজ দেখে কেনাবেচা হয়। এখান থেকে শুরু করে মোকামে বিক্রি পর্যন্ত ৮ স্তরে হাজার হাজার মানুষ কাজ করে। তিনি জানান, এক একটি ট্রলারে আড়াই হাজার থেকে ছয় হাজার তরমুজ নিয়ে আসেন বেপারীরা। মিয়ারহাটের ভাসমান হাটে প্রতিদিন গড়ে ৫০ লাখ থেকে কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়। ওই তিন হাটে ৬০-৭০ জন আড়তদার আছেন। চালানী বেপারীদের মধ্যে স্বরূপকাঠির সোহাগদল গ্রামের, মিয়ারহাটের জাহারুল, শহীদ, দাউদকান্দির মতিন মিয়া,  চিতলমারীর শুকুর মিয়া, গোপালগঞ্জের নিরঞ্জন, গৌরাঙ্গ, সন্দ্বীপের জাহাঙ্গীর,  বড় ব্যবসায়ী। তারা হাট থেকে তরমুজ কিনে ট্রলারে বা ট্রাকে করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠান।
মিয়ারহাট বন্দরের তরমুজ নিয়ে আসা পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার নতুন চরবাদুরা গ্রামের চাষি মো. মঞ্জু মিয়া ও মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, দক্ষিণাঞ্চলে এবার তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে চাষিরা লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, তরমুজের হাটে চাষি, বেপারী ও ক্রেতারা যার যার ইচ্ছে অনুযায়ী মাল কিনতে পারেন। বন্দর কমিটি তাদের সর্বাত্মক নিরাপত্তা বিধান করে। এখানে কোনো সিন্ডিকেট বা কোনো ছিঁচকে উপদ্রব নেই।
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহিদনগর এম. এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতিকে ফুলেল সংবর্ধনা

পিরোজপুর জেলা স্বরূপকাঠিতে ভাসমান তরমুজ হাট বাজার

প্রকাশিত : ০৪:২৮:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৩
দক্ষিণাঞ্চলে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর দ্বিগুণেরও বেশি তরমুজের ফলন হওয়ায় চাষি ও বেপারী সবার মুখেই হাসি ফুটেছে।  সোমবার স্বরূপকাঠির মিয়ারহাট বন্দর সংলগ্ন খালের ভাসমান তরমুজের হাট বসে। তরমুজভর্তি ট্রলারে ঠাসা ওই খাল দিয়ে অন্য কোনো নৌকা বা নৌযান চলাচল দুরূহ হয়ে পড়ে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেনাবেচা হয় এই হাটে।
দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে চাষি ও বেপারীরা তরমুজ এনে বিক্রি করেন ওই হাটে। স্বরূপকাঠির চালানী বেপারী ছাড়াও ঢাকা, চাঁদপুর, সিলেট, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকার বেপারীরা এখান থেকে তরমুজ কিনে ট্রলার ও ট্রাকে নিয়ে যান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায়। খুচরা পাইকার ও বিক্রেতারা ওই হাট থেকে তরমুজ কিনে বিভিন্ন হাট-বাজারে নিয়ে যান। সেখান থেকে ফেরিওয়ালারা ভ্যানে, নৌকায় করে গ্রামে গ্রামে তরমুজ বিক্রি করেন। এ ছাড়াও নাজিরপুরের বৈঠাকাটা ও উজিরপুরের হারতারপাড়ায় রয়েছে একই ধরনের আরও দুটি হাট। বর্তমান  এই হাটে বড় একশত বড় সাইজের তরমুজ ২০-২৬ হাজার টাকা, মাঝারি সাইজে ১০-১৫  হাজার বিভিন্ন সাইজে দাম হয়ে থাকে।
নাজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা মিয়ারহাট, বৈঠাকাটা, হারতা হাটের বড় আড়তদার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, দক্ষিণাঞ্চলের জেলা পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা জেলার কলাপাড়া, মহিপুর, মুন্সিরহাট, কুয়াকাটা, রাঙ্গাবালি, গোলখালী,  তালতলী, গলাচিপা, গাজীপুর, সোনাখালী, ধানখালী, বাদুরা, বাংলাবাজার, নলুয়াবাগি, প্রভৃতি উপকূলীয় অঞ্চল থেকে চাষি ও বেপারীরা তরমুজ হাটে নিয়ে পাইকারি বিক্রি করেন। চাষি পাইকার ছাড়াও স্বরূপকাঠিসহ পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলার শত শত ব্যবসায়ী এ মৌসুমের শুরুতে ক্ষেতে তরমুজের ফুল ও গুটি হওয়া থেকে শুরু করে ওইসব অঞ্চল থেকে ক্ষেতমূলে তরমুজ কিনে স্বরূপকাঠির বৈঠাকাটা ও হারতারপাড়া মোকামে নিয়ে বিক্রি করেন। তরমুজ বাজারজাত করার সময় হলে বেপারীরা ট্রলার নিয়ে ক্ষেতের কাছে গেলে চাষিরা তাদের শ্রমিক দিয়ে ক্ষেত থেকে কেটে ট্রলারে ভরে দেন। এ ছাড়াও ক্ষেতের তরমুজের সাইজ দেখে কেনাবেচা হয়। এখান থেকে শুরু করে মোকামে বিক্রি পর্যন্ত ৮ স্তরে হাজার হাজার মানুষ কাজ করে। তিনি জানান, এক একটি ট্রলারে আড়াই হাজার থেকে ছয় হাজার তরমুজ নিয়ে আসেন বেপারীরা। মিয়ারহাটের ভাসমান হাটে প্রতিদিন গড়ে ৫০ লাখ থেকে কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়। ওই তিন হাটে ৬০-৭০ জন আড়তদার আছেন। চালানী বেপারীদের মধ্যে স্বরূপকাঠির সোহাগদল গ্রামের, মিয়ারহাটের জাহারুল, শহীদ, দাউদকান্দির মতিন মিয়া,  চিতলমারীর শুকুর মিয়া, গোপালগঞ্জের নিরঞ্জন, গৌরাঙ্গ, সন্দ্বীপের জাহাঙ্গীর,  বড় ব্যবসায়ী। তারা হাট থেকে তরমুজ কিনে ট্রলারে বা ট্রাকে করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠান।
মিয়ারহাট বন্দরের তরমুজ নিয়ে আসা পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার নতুন চরবাদুরা গ্রামের চাষি মো. মঞ্জু মিয়া ও মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, দক্ষিণাঞ্চলে এবার তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে চাষিরা লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, তরমুজের হাটে চাষি, বেপারী ও ক্রেতারা যার যার ইচ্ছে অনুযায়ী মাল কিনতে পারেন। বন্দর কমিটি তাদের সর্বাত্মক নিরাপত্তা বিধান করে। এখানে কোনো সিন্ডিকেট বা কোনো ছিঁচকে উপদ্রব নেই।