১০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

মোংলায় এক ব্যবসায়ী ২০ দিন ধরে নিখোঁজ, অপহরণ করে  হত্যার অভিযোগ পরিবারের

মোংলায় এক মৎস্য ব্যবসায়ী মাহে আলম (৬৫) গত ২০ দিন যাবত নিখোজ রয়েছে। তবে পরিবারের দাবী পরিকল্পিত ভাবে অপহরণ করে হত্যার করা হয়েছে । অপহৃতের বড় ছেলে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ’র প্লানিং এন্ড মনিটরিং কর্মকর্তা সোহেল রানা এই অভিযোগ করেন। ২৯ এপ্রিল শনিবার সকালে মোংলা প্রেস ক্লাবে মাহে আলম’র পরিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ তুলে ধরেন। এসময় তার বাবাকে অপহরণের ভিডিও ফুটেজও দেখান সংবাদকর্মীদের। তার দাবি এই ফুটেজ এবং অপহরণের যাবতীয় তথ্য উপাত্ত মোংলা থানায় দিলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। বাবা হত্যার বিচার না পেয়ে তাই সাংবাদিকদের দারস্থ হয়েছেন। অপহৃত মাহে আলম পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আততায়ীর গুলিতে নিহত মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ আব্দুল বাতেনের ছোট ভাই ও মাহে আলম মোংলা বাজারের একজন মৎস্য ব্যবসায়ী। 
শনিবার সকাল ১১টায়  সংবাদ সম্মেলনে মাহে আলমের ছোট ছেলে সুমন রানা বলেন, গত ১০ এপ্রিল বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি তার বাবা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে মোংলা থানায় সাধারণ ডায়রী করা হয়। এরপর ২০ এপ্রিলে মোংলা পোর্ট পৌরসভার সিসিটিভি ক্যামেরার ১০ এপ্রিলের সংরক্ষিত ফুটেজে দেখা যায় তার বাবা মাহে আলমকে ট্রলার মাঝি মোশাররফ হোসেন বানিশান্তা ট্রলার ঘাটে নিয়ে যাচ্ছেন। ওই ফুটেজের সুত্র ধরে ঘাটের অন্যান্য মাঝি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলেন, সুন্দরবনের করমজলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মাহে আলমকে। লিখিত বক্তব্যে সুমন ৩৬২ ও ৩৬৪ ধারায় তার বাবা মাহে আলমকে অপহরণ করার জন্য মোংলা থানায় মামলা গ্রহণের জোর দাবী জানান। সুমন রানা আরও বলেন, গত ১৩ এপ্রিল সুন্দরবনের করমজল থেকে পুলিশ অর্ধগলিত একটি লাশ উদ্ধার করে। ওই লাশটি তার বাবার। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত লাশটির পরনে প্যান্ট শার্ট তার বাবার অপহরণের প্রাক্কালে পরিহিত প্যান্ট শার্টের সাথে মিল রয়েছে। আবেগ আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এসময় বাবার অপহরণের বিচার চান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে মাহে আলমের তিন ভাই জসিম উদ্দিন, ছরোয়ার হোসেন, বিল্লাল হোসেন ও জামাই মোঃ জাহিদ হোসেন, মোঃ নূর আলম শেখসহ আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন। এদিকে সিসি টিভির ফুটেজ ও অপহরণের সব রকমের তথ্য উপাত্ত নিয়ে থানায় গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি পরিবারের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি বিকাশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, অপহরণের যে প্রমাণ তারা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহনযোগ্য না এবং যে লাশটির কথা বলা হচ্ছে তার ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ টেষ্টের রিপোর্ট হাতে না পেলে মামলা নেয়া সম্ভব নয় বলে অভিযোগ করেণ নিখোঁজ মাহে আলমের স্বজনরা।
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহিদনগর এম. এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতিকে ফুলেল সংবর্ধনা

মোংলায় এক ব্যবসায়ী ২০ দিন ধরে নিখোঁজ, অপহরণ করে  হত্যার অভিযোগ পরিবারের

প্রকাশিত : ০৮:০২:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৩
মোংলায় এক মৎস্য ব্যবসায়ী মাহে আলম (৬৫) গত ২০ দিন যাবত নিখোজ রয়েছে। তবে পরিবারের দাবী পরিকল্পিত ভাবে অপহরণ করে হত্যার করা হয়েছে । অপহৃতের বড় ছেলে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ’র প্লানিং এন্ড মনিটরিং কর্মকর্তা সোহেল রানা এই অভিযোগ করেন। ২৯ এপ্রিল শনিবার সকালে মোংলা প্রেস ক্লাবে মাহে আলম’র পরিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ তুলে ধরেন। এসময় তার বাবাকে অপহরণের ভিডিও ফুটেজও দেখান সংবাদকর্মীদের। তার দাবি এই ফুটেজ এবং অপহরণের যাবতীয় তথ্য উপাত্ত মোংলা থানায় দিলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। বাবা হত্যার বিচার না পেয়ে তাই সাংবাদিকদের দারস্থ হয়েছেন। অপহৃত মাহে আলম পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আততায়ীর গুলিতে নিহত মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ আব্দুল বাতেনের ছোট ভাই ও মাহে আলম মোংলা বাজারের একজন মৎস্য ব্যবসায়ী। 
শনিবার সকাল ১১টায়  সংবাদ সম্মেলনে মাহে আলমের ছোট ছেলে সুমন রানা বলেন, গত ১০ এপ্রিল বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি তার বাবা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে মোংলা থানায় সাধারণ ডায়রী করা হয়। এরপর ২০ এপ্রিলে মোংলা পোর্ট পৌরসভার সিসিটিভি ক্যামেরার ১০ এপ্রিলের সংরক্ষিত ফুটেজে দেখা যায় তার বাবা মাহে আলমকে ট্রলার মাঝি মোশাররফ হোসেন বানিশান্তা ট্রলার ঘাটে নিয়ে যাচ্ছেন। ওই ফুটেজের সুত্র ধরে ঘাটের অন্যান্য মাঝি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলেন, সুন্দরবনের করমজলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মাহে আলমকে। লিখিত বক্তব্যে সুমন ৩৬২ ও ৩৬৪ ধারায় তার বাবা মাহে আলমকে অপহরণ করার জন্য মোংলা থানায় মামলা গ্রহণের জোর দাবী জানান। সুমন রানা আরও বলেন, গত ১৩ এপ্রিল সুন্দরবনের করমজল থেকে পুলিশ অর্ধগলিত একটি লাশ উদ্ধার করে। ওই লাশটি তার বাবার। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত লাশটির পরনে প্যান্ট শার্ট তার বাবার অপহরণের প্রাক্কালে পরিহিত প্যান্ট শার্টের সাথে মিল রয়েছে। আবেগ আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এসময় বাবার অপহরণের বিচার চান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে মাহে আলমের তিন ভাই জসিম উদ্দিন, ছরোয়ার হোসেন, বিল্লাল হোসেন ও জামাই মোঃ জাহিদ হোসেন, মোঃ নূর আলম শেখসহ আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন। এদিকে সিসি টিভির ফুটেজ ও অপহরণের সব রকমের তথ্য উপাত্ত নিয়ে থানায় গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি পরিবারের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি বিকাশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, অপহরণের যে প্রমাণ তারা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহনযোগ্য না এবং যে লাশটির কথা বলা হচ্ছে তার ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ টেষ্টের রিপোর্ট হাতে না পেলে মামলা নেয়া সম্ভব নয় বলে অভিযোগ করেণ নিখোঁজ মাহে আলমের স্বজনরা।