জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ দিকে পোগলদিঘা ইউনিয়নের কান্দারপাড়া হতে আওনা ইউনিয়নের জগন্নাথগঞ্জ ঘাট হয়ে পিংনা ইউনিয়নের রসপাল পর্যন্ত যমুনা শাখা নদীতে পানি কমে যাওয়ায় অসংখ্য চর জেগে ওঠে পানি প্রবাহ ও শ্রোতধারা বন্ধ হয়ে ফসলি জমিতে সেচ ব্যবস্থা,নৌ চলাচল সহ ঐ এলাকায় তারাকান্দিতে স্থাপিত যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানায় পানি সরবরাহে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ২ নং পোগলদিঘা ইউনিয়নের কান্দারপাড়া হতে দক্ষিণ দিকে ৪নং আওনা ইউনিয়নের জগন্নাথগঞ্জ ঘাট হয়ে স্থল, কুমারপাড়া মৌজার দিয়ে পিংনা ইউনিয়নের রসপাল মৌজার পূর্ব তীর ঘেঁষে যমুনার শাখা নদী বর্তমানে পানি শুকিয়ে চর জেগে উঠার ফলে বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমিতে পানি সেচ, নৌ চলাচল ও তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানার জেটি ঘাটের পল্টনের চারদিকে চর জেগে উঠে শুকনায় পরে জলধারা ও শ্রোতের প্রবাহ জলধারা গতি পথ হারিয়ে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
এবিষয়ে যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানার জিএম প্রশাসন মোঃ দেলোয়ার হোসেন এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, যমুনা নদীতে পানি কমে গেছে। পানি সরবরাহ পয়েন্টের স্থানে নদীর নাব্যতা হারিয়ে চর জেগে উঠার ফলে গত ১৫-০৪-২৩ ইং তারিখ হতে পানি উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে পানি ডিপ পাম্প সেঁটের মাধ্যমে যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানায় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এপানিতে শোধনার মাধ্যমে আয়রন অন্যন্য উপাদান শোধন করে ব্যবহার ব্যয়বহুল। জরুরী ভিত্তিতে সরকারি ভাবে পরিকল্পনা মোতাবেক নদী ড্রেজিং করে যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানার পানি সরবরাহ পয়েন্টের ও নদীর গতিপথ চালু রাখার জন্য ড্রেজিং প্রয়োজন বলে জানান।
যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানার সিবিএ সভাপতি মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সার উৎপাদনে পানি অন্যতম একটি উপাদান। জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানার উৎপাদন চালু রাখার স্বার্থে যমুনা নদীর জলধারা, নদীর গতি পথ চালু রাখার জন্য ড্রেজিং করে সার উৎপাদনের জন্য পানি সরবরাহ একান্ত প্রয়োজন।
এব্যাপারে ৪ নং আওনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ বেলাল হোসেন জানান, যমুনা নদীর নাব্যতা হারিয়ে চর পড়ে নদী পথে নৌকা দিয়ে সার ও অন্যান্য মালামাল পরিবহন, সেচ ব্যবস্থা, কলকারখানায় পানি সরবরাহ চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি পরিকল্পনা মোতাবেক দ্রুত নদী ড্রেজিং করে নদী পথ সচল রাখার দাবি জানান।
জগন্নআথগঞ্জ ঘাটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আঃকদ্দূস বলেন, নদী পথে মালামাল পরিবহন খরচ কম, তাছাড়া কৃষকের সেচ ব্যবস্থা জন্য পানি প্রয়োজন। তাই নদী ড্রেজিং করা প্রয়োজন। অপর বিশিষ্ট ব্যবসায়ি মোঃ ফিরোজ আলম জানান , নদী পথে নৌকা দিয়ে মালামাল পরিবহন অত্যান্ত কম খরচ ও কম সময়ে সহজেই মালামাল আনা নেওয়া করা যায়।কাজেই নদী খনন করে নদীর পানির প্রবাহ, গতি পথ ও শ্রোতধারা চালু করা দরকার।
আওনা গ্রামের কৃষক মন্জু মিয়া ও স্থল পশ্চিমপাড়া গ্রামের মজনু মিয়া ও শিপন মিয়া , কুমারপাড়া গ্রামের মেম্বার আনিছুর রহমান, কৃষক বাদশা, উল্লা গ্রামের কৃষক সাগর, তোতা মিয়া জানান, নদীতে পানি না থাকায় আমরা ফসলের খেতে পানি সেচ দিতে পারতেছি না। ডিপ মেশিন দিয়ে পানি সেচ ব্যয়বহুল। তাই নদী ড্রেজিং করা প্রয়োজন বলে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।
এবিষয়ে এলাকাবাসী নদী ড্রেজিং করে পানির শ্রোতধারা চালু ও নদীর গতিপথ রক্ষা করার জন্য জামালপুর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




















