জিলাপির প্যাচ। কিতাব-আল-তাবিখ নামে পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন এক রান্নার বই, যা লেখা হয়েছিল ত্রয়োদশ শতাব্দীতে, তাতে জুলবিয়া নামের একটি খাবারের কথা পাওয়া যায়। এই জুলবিয়াই পারস্য থেকে ভারতবর্ষে এসে হয়েছে জালেবি আর বাংলায় জিলাপি। যদিও তার আগে ইহুদিরা এই পদটি আবিষ্কার করেছিলেন বলে উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়। ইরানে বিশেষ করে পার্সিদের নববর্ষে জুলবিয়া প্রায় বাড়িতে আজও তৈরি করা হয়। পনেরো শতকের শেষের দিকে ভারতে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে যায় এক খাদ্য দ্রব্যটি। উৎসবে, পার্বনে, নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে, এমনকি মন্দিরে প্রসাদ হিসেবেও এর চল শুরু হয়।
বাংলাদেশে মিলাদ, মাহফিল, মেলা, সামাজিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি জিলাপির আড়াই প্যাচ ছাড়া কল্পনা করা যায় না। আর রমজান এলে তো ইফতারির আইটেম হিসেবে জিলাপি মাস্ট। প্রায় হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী এই জিলাপি নিয়ে আজকের এই প্রতিবেদনটি।
বাংলাদেশী জিলাপির রেসিপি ময়দার মধ্যে পানি দিয়ে ভালোভাবে মেখে নেন। তবে অল্প করে করে দিবেন এবং মাখাবেন। এরপর সামান্য খাবার সোডা দিবেন। এরপর মিশ্রণটা ভালোভাবে উপর থেকে নিজ পর্যন্ত থাবরিয়ে থাবড়িয়ে মেখে নিন। তবে প্রথম অবস্থায় অল্প করে করে দেখেন। পরে মিশ্রণটা ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা রেখে দেন। মচ মচে রোষালো জিলাপি পছন্দ করে না এমন কেউ নেই বললেই চলে। বাংলাদেশে কিছু অঞ্চল রয়েছে গরম গরম জিলাপি খাইয়ে জামাই আদর করা হয়ে থাকে। আর রমজান মাসেতো গরম গরম জিলাপি ছাড়া যেন ইফতার জমে না। জিলাপির প্যাচ কথাটির সাথে সবাই আমরা পরিচিত। জিলাপির প্যাচ আলা মানুষ অপছন্দ হলেও জিলাপি আমরা কমবেশি সবাই ভালবাসি। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জিলাপির বিভিন্ন নামে, আকারে, রকমে বানানো হয়ে থাকে।
বিজনেস বাংলাদেশ / হাবিব




















