কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলায় একজন খেদের আলী সবজি বিক্রেতা। ভেড়ামারা শহরে মধ্য বাজারে রাস্তার পাশে বসে সবজি বিক্রি করতেন। ওই জায়গাটাই মসজিদের বিল্ডিং সংস্কার হওয়াতে তার ওখানে বসে ব্যবসা করার সুযোগ হারিয়ে ফেলেন। তারপর আর পজিশন মতো জায়গা না পাওয়ায় একটু দূরে বসলে ক্রেতা তার কাছে পৌছাতো না। আর এভাবে না পেরে শুরু করেন হাঁড়িতে করে মাথায় নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় মাছের ব্যবসা। মাছের ব্যবসায় প্রচুর বাকি হওয়াতে সেই ব্যবসাও লোকসান হয়ে যায়। তারপর অল্প পুঁজি থাকার কারণে আবার শুরু করেন সবজির ব্যবসা। একটি ভ্যান গাড়ি কেনার সামর্থ্য না থাকার কারণে পায়ে হেঁটে ব্যাগ হাতে ও ঘাড়ে নিয়ে ছুটে চলেন পাড়া মহল্লায় সবজি বিক্রি করতে।
অল্প পুঁজি, অল্প লাভে তার যেন সংসার আর চলেনা। বয়সের ভারে আর কতক্ষণ ঘাড়ে ও হাতে ব্যাগ নিয়ে হেঁটে হেঁটে ব্যবসা করবেন। এই বয়সে আর সেভাবে পায়ে হেঁটে চলতে কষ্ট হয় খেদের আলীর। ছেলে একটা রাজমিস্ত্রির কাজ করে। কোনদিন কাজ পায় আর কোনদিন কাজ পায় না। ছেলের সংসারে ৫ জন সদস্য তাদেরই ঠিকমত চলেনা তারপর আবার বাব-মা। তাও তারা একসাথেই থাকেন। খেদের আলীর সহ তার স্ত্রী, ছেলে ও ছেলের বউ নাতি-নাতনি নিয়ে পরিবারের সংখ্যা এখন ৭ জন। ছেলে রাজমিস্ত্রি হওয়াতে দিনে আয় করেন ৫০০ টাকা আর খেদের আলী সবজি ব্যবসা করে দিনে লাভ করেন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। তার সাথে বয়সের ভারে খেতে হয় ঔষধ।
এইভাবে কি আর দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জোগাড় করা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় প্রতিদিন। তার সাথে আবার নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দাম তো আছেই। খেদের আলীর একটা মেয়েও ছিল। কিন্তু মেয়ের দুটো কিডনি নষ্ট হওয়ার কারণে ঠিকমত চিকিৎসা করতে না পেরে মেয়েটা মারা যায়। খেদের আলীর বয়স এখন ৬৭। বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য যোগাযোগ করলে বলে এখনো বয়স হয়নি। আমাদের সমাজে এই খেদের আলীর মত কত অসহায় মানুষ আছে তাদের জন্য আমরা সমাজের বিত্তবান মানুষ একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে খেদের আলীর মত কিছু মানুষ অন্তত দু’বেলা খেতে তো পারবে।
বিজনেস বাংলাদেশ / হাবিব




















