সারাদেশে যখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। ঠিক সেই সময় লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ডের উত্তর মজুপুর গ্রামের এক সংখ্যালঘু পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে হয়রানি ও জবরদখল করার অভিযোগ উঠেছে শাহদাত হোসেন বাবলু নামের এক ভূমি খেকো ব্যক্তির বিরুদ্ধে। দখলে বাধা দেওয়ায় জমির মালিক খোকন চন্দ্র দাসের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে জমি দখলকারী ব্যক্তি।খোকন চন্দ্র দাস, পিতা মৃত. হরিমোহন দাস লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১০নং নং ওয়ার্ডে বসবাসরত।
তিনি জানান,পৈতৃক সূত্রে তার বাবার সম্পত্তির মালিক হয়েও প্রভাবশালীর জবর দখলের কবলে পড়েছেন তিনি । দখলকারী শাহদাত হোসেন পিতা ,মৃত মোহাম্মদ মহসিন । তার দাবি তিনি ক্রয়সূত্রে জমির মালিক। তিনি জমিটি ক্রয় করেছেন অঞ্জলি রানী দাস স্বামী তপন কুমার দাস নামের স্থানীয় একজন মহিলার কাছ থেকে।কিন্তু সরজমিনে গিয়ে জানা যায়।অঞ্জলী রানী দাস ২০ বছর আগে ভারত চলে যায় ।
ভারত যাওয়ার পর পুণরায় এসে শাহদাত হোসেনকে জমি রেজিস্ট্রি দিয়ে যান বলে দাবি করেন শাহদাত হোসেন । অন্যদিকে শাহদাত হোসেন বাবলুর বিরুদ্ধে জাল দলিল করারও অভিযোগ উঠেছে। যেখানে পারুলের জায়গায় অঞ্জলীর ছবি দিয়ে এবং অঞ্জলীর স্বাক্ষর জাল করে দলিল করা হয় বলে জানান । কম্পিউটারে অঞ্জলীর এনআইডি কার্ড চার্চ দেওয়া হলে সেখানে রাজশাহীর মনোয়ারা বেগম নামে এক মহিলার এনআইডি নাম আসে। কিন্তু বিষয়টি শাহদাত অস্বিকার করেন । তার দাবি অন্য কেউ এই জাল দলিল করেছে এখন তাকে ফাঁসিয়েছে । পরবর্তিতে জাল দলিল বাতিলের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে খোকন চন্দ্র দাস। দলিল টি বাতিল হলে আবারো আরেকটি দলিল করেন শাহদাত হোসেন । এরপর আবারো ভুক্তভোগী খোকন চন্দ্র দাস লক্ষ্মীপুর যুগ্ম জেলা ১ম আদালতে দলিল বাতিলের বিরুদ্ধে মামলা করেন।মামলা নিষ্পত্তি হলেও চলোনামা কারো হাতে নেই ।চলোনামা না আসতেই জমিটি দখলে নেন শাহদাত হোসেন ।
বৃহস্পাতবার (৫ মে)¡ জমি দখলকারী শাহদাত হোসেন বাবলুর নেতৃত্বে একদল লোকজন উক্ত জমিতে সাইড ওয়ালের কাজ শুরু করেন। এসময় ভুক্তভোগী ৯৯৯ তে কল দিলে পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ করে উভয় পক্ষকে থানায় হাজির হতে বলে।শুক্রবার ( ৬ মে) সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের কাগজ পত্র দেখে একটি সমাধানের চেষ্টা করা হয়। ভুক্তভোগী খোকন চন্দ্র দাস কাগজ পত্র জোগাড়ের জন্য সময় চাইলেও তাকে সময় না দেওয়ার অভিযোগ আনে তিনি। কিন্তু কোন সমাধান না হলেও তার পরের দিন শনিবার (৬মে)। শাহদাত হোসেন পুণরায় জমিতে কাজ শুরু করেন । অসহায় পরিবার নিরুপায় হয়ে আবারো থানার এস আই বেলায়েত হোসেনকে ফোন বার বার কল করেও কোন সাড়া পাননি অসহায় পরিবারটি।বর্তমানে অসহায় পরিবারটি সাহস হারিয়ে এখন পথে পথে ঘুরছে । এদিকে কাজের ঘটনাস্থলে গনমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত হলে শাহদাত হোসেন বাবলু জায়গাটি নিজের ক্রয়কৃত সম্পত্তি দাবি করেন।কিন্তু আদালতের সোলোনামা না আসা পর্যন্ত কাজ করাটাকতটুকু আইনসম্মত এই প্রশ্নের জবাবে শাহদাত হোসেন বাবলু কোন উত্তর দিতে পারেনি।বার বার কথা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিচ্ছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী খোকন চন্দ্র দাস সরকারের এবং প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করছেন । ভুক্তভোগীর বক্তব্য মতে নিজে উকিল হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোণ ধরণের আইনি প্রক্রিয়া নিতে পারবেন না বলে মনে করেন শাহদাত হোসেন বাবলু । রাতে নিজের ঘরে ঘুমাতে পারেননা খোকন । নিজের বাড়ি থেকেও মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয় তাকে । দিনের বেলায় ২/১ জনকে সাথে করে বাড়িতে আসতে হয় তাকে। এভাবেই আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য মতে, দলিল বাতিলের মামলাটি যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে হওয়ায় সেরেস্তাদার জহির দীর্ঘদিন নকলটি আটকে রেখেছে । বৃহস্পতিবার রাতে এড.শাহদাত হোসেন বাবলুর সাথে পরামর্শ করে সংখ্যালগুর জমি দখলে সরে জমিনে নিজেকে সম্পৃক্ত করে জহির। এ বিষয়ে সেরেস্তাদার জহিরের কাছ জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, আমি আমার অফিসে কাজ করি আমি কি রাজ মিস্ত্রি নাকি আমি কাজের ওখানে থাকবো । তবে শাহদাত হোসেন বাবলু আমার বাসার পাশে থাকেন তাই ওনার সাথে আমার একটা সম্পর্ক আছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর থানার এস আই বেলায়েত হোসেন বলেন, ৯৯৯ তে কল পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। থানায় উভয় পক্ষকে কাগজ নিয়ে আসতে বলেছি। এবং নিজেরা বসে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলা হয়েছে।




















