০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

দিনাজপুরে সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদাবাজীর মামলা

দিনাজপুরে ছেলেকে অপহরণ, মারধর, চাঁদাবাজী, শ্লীলতাহানী ও চুরির সহায়তার অভিযোগ এনে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা আস্করপুর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়াসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের  করেছেন। ২৮ এপ্রিল শুক্রবার সদর উপজেলার ৯নং আস্করপুর ইউপি’র খানপুর পুর্ব ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের সমির উদ্দিনের ছেলে বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল আমিন (৭০) এই মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর থেকে আসামীরা পলাতক রয়েছেন। আসামীরা হলেন-সদর উপজেলা খানপুর হাজীপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে ৯ নং আস্করপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়া (৪২), খানপুর পূর্ব ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত গণির ছেলে মোঃ তোফছের আলী (৩০), খানপুর ফকিরপাড়া গ্রামের মৃত পিয়ার মোহাম্মদের ছেলে মোঃ জুলফিকার আলী ভূট্রু (৪৮), খানপুর ডাক্তারপাড়া গ্রামের মোঃ আহাদ আলীর ছেলে মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম (৩৫), তাজপুর গ্রামের মোঃ আবুল হেসেনের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান রাজু (৩৫), কুসুম্বি মাঝাপাড়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম (৪১), খানপুর হিন্দুপাড়া গ্রামের মৃত হরিবস সিং এর ছেলে শ্রী মিথুন সিং (২৫) ও রামসাগর  গ্রামের মোঃ বাচ্চু (৫০) সহ আরও ৪/৫ জন। মামলার বিবরণে জানা যায়, বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল আমিনের ছেলে আসাদুজ্জামান বাবু (৩৫) সদর উপজেলা সমবায় অফিসের সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর । সদর উপজেলার ৯নং আস্করপুর ইউনিয়নের তাজপুর মৌজার  ৭৫৮ নং দাগের ৩.৩৩ একর নশনদিঘী জলমহলটি নাগরপাড়া (সোনাকুড়ি) মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি বাংলা ১৪৩০ থেকে ১৪৩২ পর্যন্ত তিন বছরের জন্য লিজ প্রাপ্ত হয়। এ কারণে সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়াসহ আসামীরা তার উপর ক্ষিপ্ত হয়। এ সময় তারা বলেন, নশনদিঘী জলমহলটি নাগরপাড়া (সোনাকুড়ি) মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি নামে লিজটি বাতিল করে সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়ার নামে পুনরায় লিজ প্রদান করার জন্য বলেন। সদর উপজেলা সমবায় অফিসের সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ আসাদুজ্জামান বাবু বলেন, নিয়ম মেনে উপজেলা সমবায় সমিতি লিজ প্রদান করেছে। তাই এই লিজ বাতিল করা সম্ভব নয়। গত ১৯ এপ্রিল বুধবার সকাল সাড়ে সাড়ে ১০টায় সাবেক চেয়ারম্যান সহ তার লোকজন শহরের উপশহর ৭নং ব্লকে  মোঃ আসাদুজ্জামান বাবুর ভাড়া বাসায় অনাধিকার প্রবেশ করে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে। আসাদুজ্জামান বাবু’র স্ত্রী রেবেকা সুলতানা তাদের বাঁধা প্রদান করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং রেবেকার ওড়না ধরে টানা হেচড়া করে শ্লীলতাহানী ঘটায়। সাবেক চেয়ারম্যান জিয়া জানায়, পুকুর লীজ না হলে চাঁদা স্বরুপ ২লক্ষ টাকা দিতে হবে। আসাদুজ্জামান বাবু তাদের চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আসাদুজ্জামান বাবু’র দুটি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে । অতঃপর তারা শয়ন ঘরে ঢুকে ওয়ারড্রপ ভেঙ্গে অফিসিয়াল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চুরি সহ ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে ক্ষতি সাধন করেছে। এ সময় তারা আরও বঅন্যান্য আসামীরা আসাদুজ্জামান বাবুকে মোটরসাইকেলে করে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। অনেক খোজা খুজির পর দুপুর আড়াইটার সময় মোঃ আসাদুজ্জামান বাবুকে তার পরিবারের সদস্যরা কালিতলা এলাকায় খুজে পায়।
এ সময় মোঃ আসাদুজ্জামান বাবু জানায়, তাকে তারা বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যায়। পরে রেলবাজার চুড়িপট্রিতে এলাকায় একটি টিনশেড বিল্ডিং এ আটকে রেখে মারধর করে ১০০ টাকা মূল্যমানের তিনটি ননজুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে এবং কিছু সাদা ও সবুজ কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করে নেয়। পরে তাকে জখমী অবস্থায় দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভতি করা হয়।এ ব্যাপারে আহত মোঃ আসাদুজ্জামান বাবুর পিতা  বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল আমিন বাদী হয়ে গত ২৮ এপ্রিল কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৭৫। ধারা ১৪৩/৪৪৮/৩৫৪/৩৮৫/ ৩৮৬/ ৩৭৯/৩৬৫/৩২৩/৩৪ । কোতয়ালী থানার ওসি তদন্ত গোলাম মাওলা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহিদনগর এম. এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতিকে ফুলেল সংবর্ধনা

দিনাজপুরে সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদাবাজীর মামলা

প্রকাশিত : ০৮:১৮:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ মে ২০২৩
দিনাজপুরে ছেলেকে অপহরণ, মারধর, চাঁদাবাজী, শ্লীলতাহানী ও চুরির সহায়তার অভিযোগ এনে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা আস্করপুর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়াসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের  করেছেন। ২৮ এপ্রিল শুক্রবার সদর উপজেলার ৯নং আস্করপুর ইউপি’র খানপুর পুর্ব ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের সমির উদ্দিনের ছেলে বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল আমিন (৭০) এই মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর থেকে আসামীরা পলাতক রয়েছেন। আসামীরা হলেন-সদর উপজেলা খানপুর হাজীপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে ৯ নং আস্করপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়া (৪২), খানপুর পূর্ব ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত গণির ছেলে মোঃ তোফছের আলী (৩০), খানপুর ফকিরপাড়া গ্রামের মৃত পিয়ার মোহাম্মদের ছেলে মোঃ জুলফিকার আলী ভূট্রু (৪৮), খানপুর ডাক্তারপাড়া গ্রামের মোঃ আহাদ আলীর ছেলে মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম (৩৫), তাজপুর গ্রামের মোঃ আবুল হেসেনের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান রাজু (৩৫), কুসুম্বি মাঝাপাড়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম (৪১), খানপুর হিন্দুপাড়া গ্রামের মৃত হরিবস সিং এর ছেলে শ্রী মিথুন সিং (২৫) ও রামসাগর  গ্রামের মোঃ বাচ্চু (৫০) সহ আরও ৪/৫ জন। মামলার বিবরণে জানা যায়, বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল আমিনের ছেলে আসাদুজ্জামান বাবু (৩৫) সদর উপজেলা সমবায় অফিসের সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর । সদর উপজেলার ৯নং আস্করপুর ইউনিয়নের তাজপুর মৌজার  ৭৫৮ নং দাগের ৩.৩৩ একর নশনদিঘী জলমহলটি নাগরপাড়া (সোনাকুড়ি) মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি বাংলা ১৪৩০ থেকে ১৪৩২ পর্যন্ত তিন বছরের জন্য লিজ প্রাপ্ত হয়। এ কারণে সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়াসহ আসামীরা তার উপর ক্ষিপ্ত হয়। এ সময় তারা বলেন, নশনদিঘী জলমহলটি নাগরপাড়া (সোনাকুড়ি) মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি নামে লিজটি বাতিল করে সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়ার নামে পুনরায় লিজ প্রদান করার জন্য বলেন। সদর উপজেলা সমবায় অফিসের সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ আসাদুজ্জামান বাবু বলেন, নিয়ম মেনে উপজেলা সমবায় সমিতি লিজ প্রদান করেছে। তাই এই লিজ বাতিল করা সম্ভব নয়। গত ১৯ এপ্রিল বুধবার সকাল সাড়ে সাড়ে ১০টায় সাবেক চেয়ারম্যান সহ তার লোকজন শহরের উপশহর ৭নং ব্লকে  মোঃ আসাদুজ্জামান বাবুর ভাড়া বাসায় অনাধিকার প্রবেশ করে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে। আসাদুজ্জামান বাবু’র স্ত্রী রেবেকা সুলতানা তাদের বাঁধা প্রদান করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং রেবেকার ওড়না ধরে টানা হেচড়া করে শ্লীলতাহানী ঘটায়। সাবেক চেয়ারম্যান জিয়া জানায়, পুকুর লীজ না হলে চাঁদা স্বরুপ ২লক্ষ টাকা দিতে হবে। আসাদুজ্জামান বাবু তাদের চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আসাদুজ্জামান বাবু’র দুটি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে । অতঃপর তারা শয়ন ঘরে ঢুকে ওয়ারড্রপ ভেঙ্গে অফিসিয়াল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চুরি সহ ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে ক্ষতি সাধন করেছে। এ সময় তারা আরও বঅন্যান্য আসামীরা আসাদুজ্জামান বাবুকে মোটরসাইকেলে করে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। অনেক খোজা খুজির পর দুপুর আড়াইটার সময় মোঃ আসাদুজ্জামান বাবুকে তার পরিবারের সদস্যরা কালিতলা এলাকায় খুজে পায়।
এ সময় মোঃ আসাদুজ্জামান বাবু জানায়, তাকে তারা বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যায়। পরে রেলবাজার চুড়িপট্রিতে এলাকায় একটি টিনশেড বিল্ডিং এ আটকে রেখে মারধর করে ১০০ টাকা মূল্যমানের তিনটি ননজুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে এবং কিছু সাদা ও সবুজ কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করে নেয়। পরে তাকে জখমী অবস্থায় দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভতি করা হয়।এ ব্যাপারে আহত মোঃ আসাদুজ্জামান বাবুর পিতা  বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল আমিন বাদী হয়ে গত ২৮ এপ্রিল কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৭৫। ধারা ১৪৩/৪৪৮/৩৫৪/৩৮৫/ ৩৮৬/ ৩৭৯/৩৬৫/৩২৩/৩৪ । কোতয়ালী থানার ওসি তদন্ত গোলাম মাওলা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।