দেশীয় তামাকশিল্প ও বিড়িশিল্প রক্ষা, বহুজাতিক তামাক কোম্পানির আগ্রাসন বন্ধসহ চার দফা দাবিতে লালমনিরহাটে মানববন্ধন করেছেন তামাকচাষি, ব্যবসায়ী ও বিড়িশ্রমিকরা।
আজ রোববার বেলা ১১টায় লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চার দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।
দাবিগুলো হলো দেশীয় তামাকচাষি ও শিল্পের সুরক্ষা প্রদান, তামাকের ন্যায্যমূল্য ব্যতিরেকে বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানির কাছে তামাক বিক্রি বন্ধ, তামাকচাষিদের স্বার্থে বিড়ির শুল্ক ১৮ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬ টাকা করা এবং তামাকচাষিদের ওপর থেকে বহুজাতিক কোম্পানির আগ্রাসন বন্ধ করা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের মাটি এবং আবহাওয়া তামাক চাষের উপযোগী। ফলে তামাক চাষ করে আমাদের সংসার চালাতে হয়। এই তামাক ব্যবহৃত হয় বিড়িশিল্পে। বৃহত্তর রংপুরের প্রায় ২০০টি বিড়ি কারখানা আছে। কিন্তু বহুজাতিক কোম্পানির ষড়যন্ত্রে দেশীয় শ্রমঘন বিড়িশিল্প আজ ধ্বংসের মুখে। তাদের ষড়যন্ত্রে বিড়িশিল্পে মাত্রাতিরিক্ত করারোপের ফলে কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিড়ি কারখানা বন্ধ হওয়ায় চাষিরা উৎপাদিত তামাক বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে তামাকচাষিরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, তামাক কোম্পানি নীলচাষিদের মতো তামাকচাষিদের জিম্মি করে রেখেছে। তারা অবহেলিত তামাকচাষিদের সামান্য অর্থ দাদন দিয়ে তাদের কাছে কম মূল্যে তামাক বিক্রি করতে বাধ্য করায়। তামাকের ন্যায্যমূল্য ব্যতিরেকে বহুজাতিক কোম্পানির কাছে তামাক বিক্রি বন্ধ করা হবে। তামাকের ন্যায্যমূল্য ও চাষিদের ওপর থেকে বহুজাতিক কোম্পানির আগ্রাসন বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসনাত লাভলুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন লালমনিরহাট তামাকচাষি, ব্যবসায়ী ও বিড়িশ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক জামিল আক্তার। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিড়িশ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সদস্য আমিন উদ্দিন বিএসসি, সহসভাপতি নাজিম উদ্দিন, কার্যকরী সদস্য লুৎফর রহমানসহ শ্রমিক নেতারা।




















