১২:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

উচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে চলছে লাইসেন্স বিহীন ইটভাটা গাজী ব্রিকস্

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রত্মপুর উচ্চ আদালতের নির্দেশের পরেও অবৈধভাবে এখনো চলছে লাইসেন্সবিহীন গাজী ব্রিকস। এতে খালটি ভরাটের পাশাপাশি ইটভাটার দূষণে মাছসহ জীববৈচিত্র নষ্ট হচ্ছে। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলার সকল লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা উচ্ছেদের জন্য।স্থানিয় সামাজিক সংগঠন ও এলাকাবাসী আদালতের নির্দেশের আলোকে স্থানিয় প্রশাসন,পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলাপ্রশাসক বরাবরে বরংবার লিখিত ও মৌখিকভাবে গাজী ব্রিক্স নামিয় লাইসেন্সবিহীন এ ইটভাটা উচ্ছেদের আবেদন করলেও কতৃপক্ষ নির্বিকার। এই ইটভাটার বিরুদ্ধে স্থানিয় জনসাধারন ও সামাজিক সংগঠন নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছে।উচ্চ আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় আন্দোলনরত সামাজিক সংগঠনের সদস্য ও এলাকাবাসী ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকার পরও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা বলে ‘জলকদর খাল বাঁচাও’ এবং রত্নপুর সমাজ উন্নয়ন পরিষদ সংগঠনের অভিযোগ।

বাহারছড়া এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া গাজী ব্রিকস নামক ইটভাটা গড়ে তুলেছে আজিজুল হক ও আমিনুল হক দুই সহোদর। এলাকার জন সাধারণ লাইসেন্সবিহিন এ ব্রীকফিল্ড উচ্ছেদের জন্য আন্দোলন করছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর এনফোর্সমেন্ট মামলা নং-৭৪৮/২০২০/২৫১৬ দায়ের করেন। পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাঁশখালি বরাবর লিখিত আবেদন করেও কোন লাভ হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানিয় জনসাধারনের।কিন্তু মালিক পক্ষ দেশের আইন কানুন ও আদালতের নির্দেশের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ব্রিকফিল্ড চালু রেখেছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম পরিচালকের কাছে এলাকাবাসীরা বেশকয়েকটি লিখিত অভিযোগ দেন । এতে উল্লেখ করা হয়, গাজী ব্রিকফিল্ডের নামে লাইসেন্স কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। ওই ইটভাটা ও তৎ জমির উপর ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত (দক্ষিণ) নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তারপরও অবৈধ ইটভাটাটি ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে।

স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়ের একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, ইটভাটার ১৫০ মিটারের মধ্যে জেলে সম্প্রদায়ের ১০০ টি পরিবার রয়েছে। রয়েছে একটি বাজার এবং ৫০০ মিটারের মধ্যে একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়৷ মসজিদ ও মন্দির রয়েছে। এ জায়গায় ইটভাটা হওয়াতে এলাকায় দূষণ বেড়েছে। মানুষ শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে ভোগছে। কৃষি চাষে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। ব্রিকফিল্ডে ব্যবহারের জন্য কৃষি জমির টপ সয়েন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।ব্রীকফিল্ডটিতে জ্বালানী হিসেবে আইনবহির্ভূতভাবে কাঠ পুড়াচ্ছে।

এদিকে চট্টগ্রাম জেলার সকল অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ করতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিচ বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করলে শুনানি শেষে আদালত এই নির্দেশ দেয়।

রায় প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, হাইকোর্ট চট্টগ্রাম জেলার সকল অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নারায়ণগঞ্জে চারটিতে ধানের শীষ এবং একটিতে শাপলা কলি বিজয়ী

উচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে চলছে লাইসেন্স বিহীন ইটভাটা গাজী ব্রিকস্

প্রকাশিত : ০২:১৬:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ মে ২০২৩

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রত্মপুর উচ্চ আদালতের নির্দেশের পরেও অবৈধভাবে এখনো চলছে লাইসেন্সবিহীন গাজী ব্রিকস। এতে খালটি ভরাটের পাশাপাশি ইটভাটার দূষণে মাছসহ জীববৈচিত্র নষ্ট হচ্ছে। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলার সকল লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা উচ্ছেদের জন্য।স্থানিয় সামাজিক সংগঠন ও এলাকাবাসী আদালতের নির্দেশের আলোকে স্থানিয় প্রশাসন,পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলাপ্রশাসক বরাবরে বরংবার লিখিত ও মৌখিকভাবে গাজী ব্রিক্স নামিয় লাইসেন্সবিহীন এ ইটভাটা উচ্ছেদের আবেদন করলেও কতৃপক্ষ নির্বিকার। এই ইটভাটার বিরুদ্ধে স্থানিয় জনসাধারন ও সামাজিক সংগঠন নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছে।উচ্চ আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় আন্দোলনরত সামাজিক সংগঠনের সদস্য ও এলাকাবাসী ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকার পরও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা বলে ‘জলকদর খাল বাঁচাও’ এবং রত্নপুর সমাজ উন্নয়ন পরিষদ সংগঠনের অভিযোগ।

বাহারছড়া এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া গাজী ব্রিকস নামক ইটভাটা গড়ে তুলেছে আজিজুল হক ও আমিনুল হক দুই সহোদর। এলাকার জন সাধারণ লাইসেন্সবিহিন এ ব্রীকফিল্ড উচ্ছেদের জন্য আন্দোলন করছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর এনফোর্সমেন্ট মামলা নং-৭৪৮/২০২০/২৫১৬ দায়ের করেন। পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাঁশখালি বরাবর লিখিত আবেদন করেও কোন লাভ হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানিয় জনসাধারনের।কিন্তু মালিক পক্ষ দেশের আইন কানুন ও আদালতের নির্দেশের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ব্রিকফিল্ড চালু রেখেছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম পরিচালকের কাছে এলাকাবাসীরা বেশকয়েকটি লিখিত অভিযোগ দেন । এতে উল্লেখ করা হয়, গাজী ব্রিকফিল্ডের নামে লাইসেন্স কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। ওই ইটভাটা ও তৎ জমির উপর ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত (দক্ষিণ) নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তারপরও অবৈধ ইটভাটাটি ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে।

স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়ের একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, ইটভাটার ১৫০ মিটারের মধ্যে জেলে সম্প্রদায়ের ১০০ টি পরিবার রয়েছে। রয়েছে একটি বাজার এবং ৫০০ মিটারের মধ্যে একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়৷ মসজিদ ও মন্দির রয়েছে। এ জায়গায় ইটভাটা হওয়াতে এলাকায় দূষণ বেড়েছে। মানুষ শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে ভোগছে। কৃষি চাষে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। ব্রিকফিল্ডে ব্যবহারের জন্য কৃষি জমির টপ সয়েন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।ব্রীকফিল্ডটিতে জ্বালানী হিসেবে আইনবহির্ভূতভাবে কাঠ পুড়াচ্ছে।

এদিকে চট্টগ্রাম জেলার সকল অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ করতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিচ বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করলে শুনানি শেষে আদালত এই নির্দেশ দেয়।

রায় প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, হাইকোর্ট চট্টগ্রাম জেলার সকল অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব