০৩:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

বাসাইল পৌর ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

ধর্ষণের অভিযোগ এনে টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাকিব মিয়াসহ (২৪) তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছে এক নবগৃহবধূ। মঙ্গলবার দুপুরে ওই গৃহবধূ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় অন্য দুই আসামী হচ্ছেন, উপজেলার বাসাইল দক্ষিনপাড়া গ্রামের মৃত হাকিম মিয়ার ছেলে মো. সাইফুল মিয়া (৩০) এবং জুয়েল মিয়ার ছেলে মো. শাহেদ (২৫)।

ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ জানান, সোমবার (১৫ মে) রাতের খাবার খেয়ে ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাসাইল পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিব ও তার দুইজন বন্ধু ওই গৃহবধূর স্বামীকে ডাক দেন। এসময় সাকিব জানায় তার এক স্বজন অসুস্থ তাকে দেখতে যেতে হবে। এজন্য সাকিব ওই গৃহবধুর স্বামীর মোটরসাইকেলটি চেয়ে নেন। পার্শ্ববর্তী বাড়ি হওয়ায় সড়ল বিশ্বাসে গৃহবধূর স্বামী ঘর থেকে মোটরসাইকেলটি বের করে দেন। পরে মোটরসাইকেলটি কিছু দূর নিয়ে যাওয়ার পর পুনরায় তার স্বামীকে ডাকতে থাকেন এবং মোটরসাইকেলটির ইঞ্জিন চালু করে দিতে বলেন। এসময় তার স্বামী মোটরসাইকেলটি স্ট্রার্ট দিতে গেলে কৌশলে সাকিব ঘরে ঢুকে ওড়লা দিয়ে তার (গৃহবধূর) মুখ বেধে ধর্ষন করতে থাকে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মুখের বাধন ঘুলে গেলে তিনি চিৎকার শুরু করেন। এসময় তার স্বামী ও আশেপাশের লোকজন এসে সাকিবকে হাতেনাতে আটক করে। খবর পেয়ে সাকিবের অন্য সহযোগীরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাকিবকে ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। এ বিষয়ে কাউকে জানালে বা মামলা করলে হত্যারও হুমকি দেওয়া হয়।

এদিকে এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ বাসাইল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলেও আদালতে দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, ধর্ষক সাকিব উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মতিয়ার রহমান গাউসের ভাতিজা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পেতেন না।

বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মতিয়ার রহমান গাউস জানান, ধর্ষণের কথা শুনলেই আদালতও পাগল হয়, মিডিয়ারাও পাগল হয়। আসলেও ধর্ষণ হয়েছে কিনা এটা কেউ জানতে চায় না। এই ধর্ষনের ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো নাটক। পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ ওই গৃহবধূকে দিয়ে এই ধর্ষণ মামলাটি করিয়েছে।

বাদি পক্ষের আইনজীবী মো. মোশারফ হোসেন খান বলেন, টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মো. মাহবুবুর রহমান মামলাটি আমলে নিয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ দেন এছাড়াও ওই গৃহবধুকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন।

বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কেউ ধর্ষণের ঘটনায় মামলা করতে থানায় আসেনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বিগত সময়ে সবচেয়ে বেশি অপরাধ ও অন্যায় করা হয়েছে সাতক্ষীরায়: ডা. শফিকুর রহমান

বাসাইল পৌর ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

প্রকাশিত : ০৩:৪৩:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০২৩

ধর্ষণের অভিযোগ এনে টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাকিব মিয়াসহ (২৪) তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছে এক নবগৃহবধূ। মঙ্গলবার দুপুরে ওই গৃহবধূ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় অন্য দুই আসামী হচ্ছেন, উপজেলার বাসাইল দক্ষিনপাড়া গ্রামের মৃত হাকিম মিয়ার ছেলে মো. সাইফুল মিয়া (৩০) এবং জুয়েল মিয়ার ছেলে মো. শাহেদ (২৫)।

ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ জানান, সোমবার (১৫ মে) রাতের খাবার খেয়ে ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাসাইল পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিব ও তার দুইজন বন্ধু ওই গৃহবধূর স্বামীকে ডাক দেন। এসময় সাকিব জানায় তার এক স্বজন অসুস্থ তাকে দেখতে যেতে হবে। এজন্য সাকিব ওই গৃহবধুর স্বামীর মোটরসাইকেলটি চেয়ে নেন। পার্শ্ববর্তী বাড়ি হওয়ায় সড়ল বিশ্বাসে গৃহবধূর স্বামী ঘর থেকে মোটরসাইকেলটি বের করে দেন। পরে মোটরসাইকেলটি কিছু দূর নিয়ে যাওয়ার পর পুনরায় তার স্বামীকে ডাকতে থাকেন এবং মোটরসাইকেলটির ইঞ্জিন চালু করে দিতে বলেন। এসময় তার স্বামী মোটরসাইকেলটি স্ট্রার্ট দিতে গেলে কৌশলে সাকিব ঘরে ঢুকে ওড়লা দিয়ে তার (গৃহবধূর) মুখ বেধে ধর্ষন করতে থাকে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মুখের বাধন ঘুলে গেলে তিনি চিৎকার শুরু করেন। এসময় তার স্বামী ও আশেপাশের লোকজন এসে সাকিবকে হাতেনাতে আটক করে। খবর পেয়ে সাকিবের অন্য সহযোগীরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাকিবকে ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। এ বিষয়ে কাউকে জানালে বা মামলা করলে হত্যারও হুমকি দেওয়া হয়।

এদিকে এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ বাসাইল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলেও আদালতে দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, ধর্ষক সাকিব উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মতিয়ার রহমান গাউসের ভাতিজা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পেতেন না।

বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মতিয়ার রহমান গাউস জানান, ধর্ষণের কথা শুনলেই আদালতও পাগল হয়, মিডিয়ারাও পাগল হয়। আসলেও ধর্ষণ হয়েছে কিনা এটা কেউ জানতে চায় না। এই ধর্ষনের ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো নাটক। পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ ওই গৃহবধূকে দিয়ে এই ধর্ষণ মামলাটি করিয়েছে।

বাদি পক্ষের আইনজীবী মো. মোশারফ হোসেন খান বলেন, টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মো. মাহবুবুর রহমান মামলাটি আমলে নিয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ দেন এছাড়াও ওই গৃহবধুকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন।

বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কেউ ধর্ষণের ঘটনায় মামলা করতে থানায় আসেনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব