মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের আমতলি এলাকায় ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছের সাথে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস(৭২৩) ধাক্কা লেগে ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৩টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। তবে ট্রেনের বাকী ১৪টি বগি অক্ষত রয়েছে।
এ দূর্ঘটনার ফলে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এসময় ট্রেনে থাকা যাত্রীদের অবর্ননীয় দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। দূর্ঘটনার কারণে সকালে কালনী ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়ে। পরে জয়ন্তীকা এক্সপ্রেস যাত্রা বাতিল করা হয়।
শনিবার (২০ মে) ভোর পৌনে ৫টা দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত না হলে ও কিছু যাত্রী স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। দূর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটি উদ্ধারে সকাল সাড়ে ৯ টায় কুলাউড়া ও আখাউড়া ষ্টেশন থেকে থেকে ক্রেন সহ ২টি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছেছে।
এদিকে ট্রেনে দূর্ঘটনায় পাঁচ সদস্যরে তদন্ত কমিটি গঠন করে সরজমিন পরির্দশনে পাঠিয়েছে রেওয়ে বিভাগ। রেলওয়ে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা খায়রুল কবিরকে আহবায়ক করে গঠিত এ কমিটিতে বিভিগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোক), বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ ও ওয়াগন), বিভাগীয় প্রকৌশলী (ঢাকা ২) ও বিভাগীয় প্রকৌশলীকে (সংকতে ও টেলিযোগাযোগ)কে সদস্য করা হয়েছে। তারা দুপুর সাড়ে ১২টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেসের সহকারী পরিচালক মো. সোহেল রানা বলেন, বনের ভেতর ঝড়ে একটি (চাপরাশী) ১০ফুট প্রস্থ ও ৪৫ ফুট লম্বা গাছটি রেললাইনের ওপর পড়ে ছিল। ট্রেনটি সেই গাছে ধাক্কা দিলে এর ইঞ্জিনসহ ৩টি বগি লাইনচ্যুত হয়। তবে এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ট্রেনের নিরাপত্তায় থাকা রেলওয়ে পুলিশের এসআই ফখরুল ইসলাম জানান,ভোর পৌনে ৫টার দিকে হঠাৎ করে শব্দ করে ট্রেনটি ঝাখনি খায়। তখন আমার সহকর্মীদের সাথে নিয়ে ট্রেনের ইঞ্জিনের দিকে এগিয়ে গেলে দেখতে পাই ইঞ্জিনসহ ৩টি বগি গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে লাইনচ্যুত হয়েছে। এসময় আমরা দ্রুত গতিতে দূর্ঘটনাকবলীত থাকা যাত্রীদের উদ্ধার করি। তিনি আরও বলেন,ইঞ্জিনের পেছনের খাবার গাড়ি ও ১টি বগির যাত্রীরা শায়েস্তাগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল স্টেশনে নেমে যাওয়ার কারনে যাত্রী সংখ্যা কম থাকায় দৃর্ঘটনায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ট্রেনে থাকা যাত্রী রাহাত আহমেদ ,সিরাজ মিয়া বলেন, ভোরের দিকে ট্রেনটি বড় আকারে ঝাঁকুনি খায়। এসময় ট্রেনের যাত্রীরা তাদের আসনে ঘুমে ছিলেন। ট্রেনটি ঝাঁকুনি খাওয়ায় অনেক যাত্রীই কিছু না বুঝেই হাল্লা-চিৎকার ও হুড়োহুড়ি করতে থাকেন। এতে কয়েকজন যাত্রী সামান্য আঘাত পেয়েছেন। তবে বড় কোন ক্ষতি হয়নি। তারা আরো বলেন, ট্রেনটি দূর্ঘনার কারণে ট্রেন চলাচল করতে দেরী হওয়ায় যাত্রীরা নিজ-নিজ উদ্যেগে যে যেভাবে পারেন গন্তব্যে পোঁছার জন্য শ্রীমঙ্গল ও ভানুগাছে গেছেন। পাহাড়ী এলাকা হওয়ার কারণে যাত্রীদের অর্বনীয় দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও মহিলা যাত্রীদের বেশী কষ্ট করতে হয়েছে।
সিলেট থেকে ট্রেন যাত্রীকে নিতে আসা ব্যবসায়ী সারোয়ার আলম জানান,চট্রগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা আন্ত:নগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে আমার পিতা -মাতা ছিলেন। ট্রেন দূর্ঘটনার পরে আমাকে ফোনে তারা জানালে আমি দ্রুত সিলেট থেকে এসে সুস্থভাবে তাদেরকে পেয়েছি। এখন বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি।
কুলাউড়া রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী আনিছুজ্জামান বলেন, আখাউড়া ও কুলাউড়া ষ্টেশন থেকে ২টি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছে দূর্ঘনাকবলিত ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগি উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়েছে। কত সময় লাগবে তা সঠিক ভাবে বলা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে কম করে হলে ও ৫/৬ ঘন্টা সময় লাগবে বলে জানা যায়।
শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে ষ্টেশনের সহকারী ষ্টেশন মাষ্টার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চট্রগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটি শ্রীমঙ্গল ষ্টেশন থেকে ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে গিয়ে লাউয়াছড়া এলাকায় পৌণে ৫টায় দূর্ঘনায় পতিত হয়েছে।
ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার কবির আহমেদ জানান, ট্রেনটি দূর্ঘটনার কারনে আন্তনগর কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনসহ সব ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনে এবং ঢাকাগামী জয়েন্তিকা এক্সপ্রেস সিলেট থেকে বিলম্বে ছাড়বে বলে জানান।



















