১২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

মিরাজের ‘১৫০’, আফগানিস্তান ১৪৬ রানে অলআউট!

আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে গেল মাত্র ১৪৬ রানেই। শেষ ব্যাটার হিসেবে করিম জানাতকে ফিরিয়ে অনন্য এক মাইলফলক অর্জন করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তৃতীয় বাংলাদেশি বোলার হিসেবে টেস্টে ১৫০ উইকেট শিকার করলেন তিনি। আফগানিস্তান ফলো-অন এড়ানোর আগেই থামলেও বাংলাদেশ এখনই ব্যাট করতে নামছে। ২৩৬ রানের লিড পেয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করবে টাইগাররা।

এর আগে সকালে আফগানিস্তানের বোলাররা করলেন দারুণ কিছু। কেবল ২০ রান তুলতেই বাংলাদেশকে অলআউট করে তারা। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে আফগানরা করতে পারলো না তেমন কিছুই। শুরুতে এবাদত হোসেন-শরিফুল ইসলামদের পেস ও পরে স্পিনারদের সামনে তারা থাকলেন অসহায়।

মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান। প্রথম ইনিংসে ৩৮২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৬২ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে টাইগাররা। মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুজনেই ছিলেন হাফ সেঞ্চুরির কাছাকাছি। কিন্তু কেউই করতে পারেননি সেটি।

প্রথমে আউট হন মিরাজ। ৮ চারে ৮০ বলে ৪৮ রান করে আউট হন তিনি। ইয়ামিন আহমেদ জাইয়ের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট অঞ্চলে আমির হামজা হোতাকের হাতে ক্যাচ তুলে দেন মিরাজ। এরপরের লড়াইটা ছিল মুশফিকুর রহিমের জন্য।

কিন্তু এই ব্যাটারও পারেননি টিকে থাকতে। তার ব্যাটের কানায় লেগে বল স্লিপে গেলে আউট হয়ে যান নিজাত মাসুদের বলে। ৪ চারে ৭৬ বলে ৪৭ রান করে সাজঘরে ফেরত যান তিনি।

মুশফিকের বিদায়ের পর বাংলাদেশের অলআউট হওয়া ছিল স্রেফ সময়ের ব্যাপার। টেল-এন্ডাররা বেশিক্ষণ থাকতেও পারেননি। ৭ বলে ২ রান করে তাসকিন আহমেদ ও ১১ বলে ৬ রান করে শরিফুল কিছুক্ষণ চেষ্টা করেন।

কিন্তু দ্বিতীয় দিনে ২০ রানের ভেতরই অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। আফগানিস্তানের পক্ষে ১৬ ওভারে ২ মেডেনসহ ৭৯ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন মাসুদ। ১৬৭তম বোলার ও আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে অভিষেকেই ফাইফার নেওয়ার কীর্তি গড়েন তিনি।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ভালো করতে পারেনি আফগানিস্তান। শুরুতে ইব্রাহিম জাদরানের ক্যাচ অবশ্য ছেড়েছিলেন লিটন দাস। কিন্তু জীবন পেয়েও তিনি ক্রিজে থাকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ১৭ বলে ৬ রান করে শরিফুল ইসলামের বলে উইকেটের পেছনে লিটনের হাতেই ক্যাচ দেন ইব্রাহিম।

আরেক উদ্বোধনী ব্যাটার আব্দুল মালিককে আউট করেন এবাদত হোসেন। তৃতীয় স্লিপে দাঁড়ানো জাকির হাসানের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ২১ বলে ১৭ রান আসে এই ব্যাটারের ব্যাট থেকে। রহমত শাহকেও ফেরান এবাদত। শর্ট বলে শট খেলতে গিয়ে মিডউইকেটে দাঁড়ানো তাসকিনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ১৮ বলে করেন ৯ রান।

আফগানিস্তানের অধিনায়ক হাশমাতউল্লাহ শহীদিকে আবার আউট করেন শরিফুল। ১৬ বলে ৯ রান করা এই ব্যাটারের ক্যাচ ঝাঁপিয়ে ধরেন মিরাজ। এরপর বেশ ভালো একটা জুটিই গড়েছিলেন নাসির জামাল ও আফসার জাজাই। এবার বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

৬ চারে ৪৩ বলে ৩৫ রান করা নাসির জামালকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। সঙ্গীর বিদায়ের পর জুটির আরেক কাণ্ডারি আফসারও টিকে থাকতে পারেননি। ৬ চারে ৪০ বলে ৩৬ রান করে এবাদতের বলে শরিফুলের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। আমির হামজাকে আউট করে নিজের চতুর্থ শিকার করেন এবাদত। এছাড়া শরিফুল, মিরাজ ও তাইজুল নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

মিরাজের ‘১৫০’, আফগানিস্তান ১৪৬ রানে অলআউট!

প্রকাশিত : ০৩:৩৮:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন ২০২৩

আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে গেল মাত্র ১৪৬ রানেই। শেষ ব্যাটার হিসেবে করিম জানাতকে ফিরিয়ে অনন্য এক মাইলফলক অর্জন করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তৃতীয় বাংলাদেশি বোলার হিসেবে টেস্টে ১৫০ উইকেট শিকার করলেন তিনি। আফগানিস্তান ফলো-অন এড়ানোর আগেই থামলেও বাংলাদেশ এখনই ব্যাট করতে নামছে। ২৩৬ রানের লিড পেয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করবে টাইগাররা।

এর আগে সকালে আফগানিস্তানের বোলাররা করলেন দারুণ কিছু। কেবল ২০ রান তুলতেই বাংলাদেশকে অলআউট করে তারা। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে আফগানরা করতে পারলো না তেমন কিছুই। শুরুতে এবাদত হোসেন-শরিফুল ইসলামদের পেস ও পরে স্পিনারদের সামনে তারা থাকলেন অসহায়।

মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান। প্রথম ইনিংসে ৩৮২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৬২ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে টাইগাররা। মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুজনেই ছিলেন হাফ সেঞ্চুরির কাছাকাছি। কিন্তু কেউই করতে পারেননি সেটি।

প্রথমে আউট হন মিরাজ। ৮ চারে ৮০ বলে ৪৮ রান করে আউট হন তিনি। ইয়ামিন আহমেদ জাইয়ের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট অঞ্চলে আমির হামজা হোতাকের হাতে ক্যাচ তুলে দেন মিরাজ। এরপরের লড়াইটা ছিল মুশফিকুর রহিমের জন্য।

কিন্তু এই ব্যাটারও পারেননি টিকে থাকতে। তার ব্যাটের কানায় লেগে বল স্লিপে গেলে আউট হয়ে যান নিজাত মাসুদের বলে। ৪ চারে ৭৬ বলে ৪৭ রান করে সাজঘরে ফেরত যান তিনি।

মুশফিকের বিদায়ের পর বাংলাদেশের অলআউট হওয়া ছিল স্রেফ সময়ের ব্যাপার। টেল-এন্ডাররা বেশিক্ষণ থাকতেও পারেননি। ৭ বলে ২ রান করে তাসকিন আহমেদ ও ১১ বলে ৬ রান করে শরিফুল কিছুক্ষণ চেষ্টা করেন।

কিন্তু দ্বিতীয় দিনে ২০ রানের ভেতরই অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। আফগানিস্তানের পক্ষে ১৬ ওভারে ২ মেডেনসহ ৭৯ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন মাসুদ। ১৬৭তম বোলার ও আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে অভিষেকেই ফাইফার নেওয়ার কীর্তি গড়েন তিনি।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ভালো করতে পারেনি আফগানিস্তান। শুরুতে ইব্রাহিম জাদরানের ক্যাচ অবশ্য ছেড়েছিলেন লিটন দাস। কিন্তু জীবন পেয়েও তিনি ক্রিজে থাকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ১৭ বলে ৬ রান করে শরিফুল ইসলামের বলে উইকেটের পেছনে লিটনের হাতেই ক্যাচ দেন ইব্রাহিম।

আরেক উদ্বোধনী ব্যাটার আব্দুল মালিককে আউট করেন এবাদত হোসেন। তৃতীয় স্লিপে দাঁড়ানো জাকির হাসানের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ২১ বলে ১৭ রান আসে এই ব্যাটারের ব্যাট থেকে। রহমত শাহকেও ফেরান এবাদত। শর্ট বলে শট খেলতে গিয়ে মিডউইকেটে দাঁড়ানো তাসকিনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ১৮ বলে করেন ৯ রান।

আফগানিস্তানের অধিনায়ক হাশমাতউল্লাহ শহীদিকে আবার আউট করেন শরিফুল। ১৬ বলে ৯ রান করা এই ব্যাটারের ক্যাচ ঝাঁপিয়ে ধরেন মিরাজ। এরপর বেশ ভালো একটা জুটিই গড়েছিলেন নাসির জামাল ও আফসার জাজাই। এবার বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

৬ চারে ৪৩ বলে ৩৫ রান করা নাসির জামালকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। সঙ্গীর বিদায়ের পর জুটির আরেক কাণ্ডারি আফসারও টিকে থাকতে পারেননি। ৬ চারে ৪০ বলে ৩৬ রান করে এবাদতের বলে শরিফুলের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। আমির হামজাকে আউট করে নিজের চতুর্থ শিকার করেন এবাদত। এছাড়া শরিফুল, মিরাজ ও তাইজুল নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব