১০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

মূল্যস্ফীতি গরিবের পকেট কাটে, এটিকে সামলাতে হবে : সাবেক গভর্নর

মূল্যস্ফীতিকে গরিবের শত্রু মন্তব্য করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেছেন, ‘মূল্যস্ফীতি গরিবের পকেট কাটে। এটিকে যে করেই হোক সামলাতে হবে।’ শুক্রবার ‘সমৃদ্ধ ও সুষম বাংলাদেশ নির্মাণ : বাজেট ২০২৩-২৪’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে এডুকেশন রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (ইআরডিএফবি)। ড. আতিউর আরও বলেন, এ সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা মূল্যস্ফীতি। এ মূল্যস্ফীতিকে ৬ শতাংশে ধরে রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতার সময় যখন দেশের মানুষ মূল্যস্ফীতির কারণে হিমশিম খাচ্ছে, তখন মূল্যস্ফীতি এ মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে, তা নিশ্চই একটি বড় অর্জন হবে। তবে বিষয়টি খুব সহজ হবে না। এজন্য নীতিমালা নিতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি শুধু বাজেট দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতিরও বিরাট ভূমিকা পালন করতে হয়। আশা করি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেটি করবে।

তিনি বলেন, নাগরিকদের মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করার জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা করা হয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পাবেন নাগরিকরা। এছাড়া আসন্ন বাজেটে ভর্তুকি বাবদ বরাদ চলতি বছরের সংশোধিত বাজেটের থেকে ৯ শতাংশ বাড়িয়ে ৮৪ হাজার কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। ভর্তুকিতে কাটছাটের চাপ থাকার পরও জনজীবনে স্বস্তি আনতে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ বৃদ্ধি জনস্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা উচিত। বিশেষ করে কম দামে কোটি মানুষকে কার্ডের মাধ্যমে যে খাদ্য সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে, এটি মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার জন্য একটি বড় উদ্যোগ। এটি আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, অনেকে মনে করছেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটটি উচ্চাভিলাসী। এ বাজেট বাস্তবায়ন যোগ্য নয়। কিন্তু গত ১৫-১৬ বছরে আমরা যে শক্তি অর্জন করেছি, তাতে আমরা মনে করি না এ বাজেটটি উচ্চাভিলাসী। বরং আমি বলবো, বাজেটটি ভবিষ্যতমুখী। নির্বাচনের বছরেও কেউ সংস্কারমুখী, ভবিষ্যতমুখী বাজেট করতে পারে, সেটিও প্রশংসার দাবি করে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান। এছাড়া উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খান।

বিজনেস বাংলাদেশ/ dh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

মূল্যস্ফীতি গরিবের পকেট কাটে, এটিকে সামলাতে হবে : সাবেক গভর্নর

প্রকাশিত : ০৮:৪০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জুন ২০২৩

মূল্যস্ফীতিকে গরিবের শত্রু মন্তব্য করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেছেন, ‘মূল্যস্ফীতি গরিবের পকেট কাটে। এটিকে যে করেই হোক সামলাতে হবে।’ শুক্রবার ‘সমৃদ্ধ ও সুষম বাংলাদেশ নির্মাণ : বাজেট ২০২৩-২৪’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে এডুকেশন রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (ইআরডিএফবি)। ড. আতিউর আরও বলেন, এ সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা মূল্যস্ফীতি। এ মূল্যস্ফীতিকে ৬ শতাংশে ধরে রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতার সময় যখন দেশের মানুষ মূল্যস্ফীতির কারণে হিমশিম খাচ্ছে, তখন মূল্যস্ফীতি এ মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে, তা নিশ্চই একটি বড় অর্জন হবে। তবে বিষয়টি খুব সহজ হবে না। এজন্য নীতিমালা নিতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি শুধু বাজেট দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতিরও বিরাট ভূমিকা পালন করতে হয়। আশা করি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেটি করবে।

তিনি বলেন, নাগরিকদের মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করার জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা করা হয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পাবেন নাগরিকরা। এছাড়া আসন্ন বাজেটে ভর্তুকি বাবদ বরাদ চলতি বছরের সংশোধিত বাজেটের থেকে ৯ শতাংশ বাড়িয়ে ৮৪ হাজার কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। ভর্তুকিতে কাটছাটের চাপ থাকার পরও জনজীবনে স্বস্তি আনতে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ বৃদ্ধি জনস্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা উচিত। বিশেষ করে কম দামে কোটি মানুষকে কার্ডের মাধ্যমে যে খাদ্য সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে, এটি মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার জন্য একটি বড় উদ্যোগ। এটি আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, অনেকে মনে করছেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটটি উচ্চাভিলাসী। এ বাজেট বাস্তবায়ন যোগ্য নয়। কিন্তু গত ১৫-১৬ বছরে আমরা যে শক্তি অর্জন করেছি, তাতে আমরা মনে করি না এ বাজেটটি উচ্চাভিলাসী। বরং আমি বলবো, বাজেটটি ভবিষ্যতমুখী। নির্বাচনের বছরেও কেউ সংস্কারমুখী, ভবিষ্যতমুখী বাজেট করতে পারে, সেটিও প্রশংসার দাবি করে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান। এছাড়া উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খান।

বিজনেস বাংলাদেশ/ dh