পূর্ব থেকে ঘোষণা দিয়েও সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজের সংস্কার কাজ শুরু করতে পারনি কতৃপক্ষ। আগের মতোই জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচল করছে।
ঐতিহ্যবাহী সুরমা নদীর উপর দাঁড়িয়ে থাকা কিনব্রিজ দুই মাসের জন্য বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছিল । দীর্ঘ দিন থেকে সংস্কারের অভাবে সিলেটের ঐতিহ্য এই ব্রিজের অবস্থা এখন ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থাতেও ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচল করছিল যানবাহন। এতে ঘটতে পারে বড় কোনো দূর্ঘটনা। তাই সংস্কারের জন্য এ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিভিন্ন সময় সংস্কারের দাবি উঠলেও নানা জটিলতায় তা হয়নি।
তবে, নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, মেরামত কাজের জন্য আগামী দুই মাস বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয় কিনব্রিজ। বাংলাদেশ রেলওয়ের পুর্বাঞ্চলের সেতু প্রকৌশলী জীষাণ দত্ত স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানানো হয়েছিল ২৫ জুলাই থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কিন ব্রিজ দিয়ে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ থাকবে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরু করতে পারেনি কতৃপক্ষ।
পত্রে জানানো হয়েছিলো, সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এ সেতুতে অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের কারণে বর্তমানে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেতুটির কয়েক জায়গায় যানবাহনের ধাক্কায় গার্ড রেলিং, স্টীল ট্রাস বেকে গেছে। কয়েক জায়গায় স্টিলের পাত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকায় জরুরী ভিত্তিতে সেতুটি মেরামত করা প্রয়োজন। সেজন্য ২৫ জুলাই থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কিন ব্রিজ দিয়ে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ থাকবে। এসময় জনসাধরণকে বিকল্প পথে যাতায়াতের জন্য অনুরোধ করা হয়।
এর আগে গত ১০ জুলাই সেতুটির সংস্কার কাজের সময় যান চলাচল বন্ধ রাখতে এসএমপির সহযোগিতা চেয়ে পত্র দেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পুর্বাঞ্চলের সেতু প্রকৌশলী জীষাণ দত্ত।
ব্রিটিশ আমলে তৈরি লোহার কাঠামোর দৃষ্টিনন্দন ‘কিন ব্রিজ’ নির্মাণ করেছিল রেলওয়ে বিভাগ। টানা দুই বছর নির্মাণকাজ শেষে ১৯৩৬ সালে সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন অসম (বর্তমান আসাম) প্রদেশের গভর্নর মাইকেল কিনের নামে এই সেতুর নামকরণ করা হয় ‘কিন ব্রিজ’। প্রায় শতবছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা সেতুটি দেশের অন্যতম প্রাচীন এবং সিলেট অঞ্চলে সুরমা নদীর ওপর নির্মিত প্রথম সেতু। এর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ১৫০ ফুট এবং প্রস্থ ১৮ ফুট। নির্মাণের পরে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেতুটি। পরে ১৯৭৭ সালে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রথম দফা সংস্কার করেছিল। এরপর কিন ব্রিজে আর বড় ধরণের কোনো সংস্কার হয়নি।




















