০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

কক্সবাজারে প্রায় ৭০ গ্রাম প্লাবিত

কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের কয়েকটি উপজেলায় বিশাল বন্যা দেখা দিয়েছে। জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, ঈদগাঁও ও সদর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের ৭০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে এসব এলাকার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

এদিকে, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। মাতামুহুরি নদীতে ঢলের পানির সঙ্গে আসা লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে লক্ষ্যারচর পয়েন্টে এক যুবক ভেসে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন।

গত পাঁচ দিন ধরে কক্সবাজারে টানা ভারী বর্ষণ হচ্ছে। রবিবার রাত থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। চকরিয়া উপজেলার কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, বরইতলী, চিরিঙ্গা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, ফাসিয়াখালী; চকরিয়া পৌরসভার বিএম চর; পেকুয়া সদর ইউনিয়ন; রামু উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, কাউয়ার, রাজারকুল, সদর উপজেলার ঝিলংজা, পিএমখালীর বেশির ভাগ গ্রামে বন্যার পানি ঢুকেছে। এসব গ্রামের সড়কগুলোও পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের চকরিয়া উপজেলা কর্মকর্তা জামাল মোর্শেদ জানান, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি জানান, ঢলের পানির তোড়ে মাতামুহুরি নদীর পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এ ছাড়া আরও একাধিক এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেপি দেওয়ান জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলে পানি হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় এই বন্যা দেখা দিয়েছে। ঢলে নদীভাঙ্গনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান করা লোকজনকে সমতলের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান জানান, টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজার পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও পাহাড় ধ্বসের অংশ রয়েছে। পাহাড়ী এলাকার জনসাধারণকে উপযুক্ত স্থানে সরে আসার জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্বিতা চাকমা জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলে এই উপজেলার রাজাখালী, উজানটিয়া মগনামা, টৈটং, বারবাকিয়া, শিলখালীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাকারিয়া জানান, অতিবৃষ্টিতে ও পাহাড় ঢলের কারণে কক্সবাজার শহরের নিম্নাঞ্চল, ঝিলংজা ইউনিয়ন, পিএমখালী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেছে, ঈদ ২৮ মে

কক্সবাজারে প্রায় ৭০ গ্রাম প্লাবিত

প্রকাশিত : ০৮:১৭:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ অগাস্ট ২০২৩

কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের কয়েকটি উপজেলায় বিশাল বন্যা দেখা দিয়েছে। জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, ঈদগাঁও ও সদর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের ৭০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে এসব এলাকার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

এদিকে, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। মাতামুহুরি নদীতে ঢলের পানির সঙ্গে আসা লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে লক্ষ্যারচর পয়েন্টে এক যুবক ভেসে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন।

গত পাঁচ দিন ধরে কক্সবাজারে টানা ভারী বর্ষণ হচ্ছে। রবিবার রাত থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। চকরিয়া উপজেলার কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, বরইতলী, চিরিঙ্গা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, ফাসিয়াখালী; চকরিয়া পৌরসভার বিএম চর; পেকুয়া সদর ইউনিয়ন; রামু উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, কাউয়ার, রাজারকুল, সদর উপজেলার ঝিলংজা, পিএমখালীর বেশির ভাগ গ্রামে বন্যার পানি ঢুকেছে। এসব গ্রামের সড়কগুলোও পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের চকরিয়া উপজেলা কর্মকর্তা জামাল মোর্শেদ জানান, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি জানান, ঢলের পানির তোড়ে মাতামুহুরি নদীর পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এ ছাড়া আরও একাধিক এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেপি দেওয়ান জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলে পানি হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় এই বন্যা দেখা দিয়েছে। ঢলে নদীভাঙ্গনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান করা লোকজনকে সমতলের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান জানান, টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজার পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও পাহাড় ধ্বসের অংশ রয়েছে। পাহাড়ী এলাকার জনসাধারণকে উপযুক্ত স্থানে সরে আসার জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্বিতা চাকমা জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলে এই উপজেলার রাজাখালী, উজানটিয়া মগনামা, টৈটং, বারবাকিয়া, শিলখালীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাকারিয়া জানান, অতিবৃষ্টিতে ও পাহাড় ঢলের কারণে কক্সবাজার শহরের নিম্নাঞ্চল, ঝিলংজা ইউনিয়ন, পিএমখালী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।