চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ’র) চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ বলেছেন, ৩০ বছরের ইতিহাসের রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে। এতো বৃষ্টির মধ্যেও সুইচ গেটের কারণে দেশের প্রধান পাইকারি ও ইন্ডেন্টিং বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ পানি উঠে নাই। যদিও সেখানে অস্থায়ী গেইট বসানো হয়ছে।
৯ আগষ্ট (বুধবার) দুপুরে সিডিএ’র সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, সিডিএ জলাবদ্ধতার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে, সবাই মনে করেছে সব দায় সিডিএর। মূলত সিটি কর্পোরেশন জলাবদ্ধতার কাজ করতে না পারায় সিডিএকে প্রকল্প দেওয়া হয়।
চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন ও প্রকল্প বাস্তবায়নে এবং চট্টগ্রাম উন্নয়নের লক্ষ্য আমাদের সকলের সমন্বয় ও আন্তরিকা প্রয়োজন। তাহলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব। তবে এ ব্যাপারে আমরা কোনো সংস্থার বিরুদ্ধেও না বা কোনো সংস্থাকে দোষারোপ করছি না।
সিডিএ শুধু একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। মেয়র সাহেব ভুল তথ্য দিয়ে সিডিএকে দোষারোপ করছেন।
এসময় সিডিএ বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের যোগ্য না, চসিক মেয়রের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে সিডিএ’র চেয়ারম্যান দোভাষ বলেন, সিডিএ যোগ্য না হলে সরকার প্রকল্প দিয়েছে কেন? বরং তারা যোগ্য নয় বলে তৎকালীন সময়ে সিডিএকে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন অযোগ্য বলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে কাজ দিয়েছে। জলাবদ্ধতা নিয়ে একটি স্থানীয় পত্রিকায় সিডিএর বিরুদ্ধে চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্যের বিষয় সাংবাদিকরা জানতে চাইলে, মেয়রের দেওয়া বক্তব্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ।
সংবাদ সম্মেলনে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহ আলী বলেন, প্রকল্প হাতে নেওয়ার পর সেনাবাহিনীর সঙ্গে চুক্তি হয়। আমাদের প্রকল্পে রয়েছে ৩৬টি খাল। কিন্তু চট্টগ্রাম মহানগরে প্রায় ৫৭টি খাল রয়েছে। ৩৬টি খালের সম্প্রসারণ চলছে কিন্তু বাকি ২১টি খালে সম্প্রসারণ করা হয়নি। যা আমাদের প্রকল্পের আওতাভুক্ত না। যার জন্য জলাবদ্ধতা হতে পারে। সেনাবাহিনীর বাস্তবায়নাধীন ৩৬টি খালের মধ্যে ২৬টি খালের কাজ প্রায় শেষ। বাকি ১১টি খালের কাজ ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে। ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হলে আমরা কাজ শেষ করতে পারবো।
তিনি আরো বলেন, মহানগরে জলাবদ্ধতা কমাতে হলে খালে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে। এছাড়া মহানগরের ছোট বড় প্রায় ১৬শ নালা রয়েছে। এসব নালা গুলো পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।




















