জামালপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল । ভিতরে প্রবেশ করতেই দেয়ালে চোখে পড়বে লাল সাইনবোর্ড “পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ন ভবন” । বহির্বিভাগের রোগীদের সেবার কার্যক্রম চলছে পরিত্যক্ত এই ঝুকিপূর্ণ ভবনে । জরাজীর্ণ ভবনটিতে যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্সসহ হাসপাতালের সংশ্লিষ্টরা । এতে চরম আতঙ্কে রোগী ও সেবা প্রত্যাশীরা।
হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসকের চেম্বার,প্যাথলজি ও রোগীদের বসার জায়গাসহ ২৫টি কক্ষ এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনে প্রবেশ করলে চোখে পড়বে বিভিন্ন জায়গায় দেয়ালে ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে পরেছে। দরজা জানালা জরাজীর্ণ, কক্ষগুল শ্যাতশ্যাতে । এই অবস্থা শুধু হাসপাতালের বহির্বিভাগেই নয়। হাসপাতালের কর্মচারীদের দুটি আবাসিক ভবন ও সেবা তত্ত্বাবধায়কের একতলা ভবনেও দেখা যায়। জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগ ভবনটি ১৯৬১ সালে নির্মিত হয় । গত ২০২১ সালে গণপূর্ত বিভাগ ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিভিন্ন স্থানে লাল রঙ্গের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছে। পরিত্যক্ত ঘোষণার দুইবছর পার হলেও কোন বিকল্প ব্যবস্থা নেইনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের বহির্বিভাগে জেলাসহ পাশর্বর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার রোগী ও সেবা প্রত্যাশীরা চিকিৎসার জন্য আসেন। সেবা প্রত্যাশীরা এই ভবনের
টিকেট কাউন্টার থেকে শুরু করে,প্যাথলজি,এক্সরে,সিটি স্ক্যান, আল্ট্রাসনোগ্রাম,ব্লাড ব্যাংক ও ফার্মেসির সামনে ভীর করে থাকেন। এখানের সংশ্লিষ্ট ষ্টাফরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে কাজ করতে হচ্ছে এমনটা জানান হাসপাতালের চাকরিজীবীরা ।
ইসলামপুর উপজেলা থেকে সালমা বেগম দাঁতের সমস্যা নিয়ে এসেছেন বহিবির্ভাগে দাঁতের চিকিৎসা নিতে কিন্তুু ভবনের ভিতরে পলেস্তারা খসে পড়া দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পরেন। তাই চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে দ্রুত বেড়িয়ে যান।
অসুস্থ রোগী শর্মিলা পাল তিনি এসেছেন গাইনি বিভাগে চিকিৎসা নিতে, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় টয়লেটে গিয়ে হতবাক হয়ে যায়। বলেন এত বড় হাসপাতাল অথচ প্রস্রাব পায়খানার জায়গা জরাজীর্ণ ও নোংরা । এখানে সুস্থ মানুষও অসুস্থ্ হয়ে যাবে।
চোখের চিকিৎসা নিতে আসা সত্তুরউর্ধ শাহজান আলী নামের এক বয়স্ক রোগী তিনি জানান, আমি এসেছি চোখের চিকিৎসা নিতে বেশিক্ষন দাঁড়িয়ে পারিনা তাই পাশে বসার চেয়ারে বসে জিড়িয়ে নেওয়ার সময় হঠাৎ আমার সামনে ছাদ থেকে বড় একটা পলেস্তারের চাকা পড়লো আমি ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পরেছি ।
রোগীর স্বজন রিমি বলছেন,আমরা অনেক আতঙ্কে আছি কখন যে কি ঘটে যায় চিন্তায় পড়েছি। তাই সরকারের কাছে নতুন একটি ভবন নির্মানের আহবান জানান।
ডাঃ ইকরামুল হক বিভাগীয় প্রধান দন্ত (আবাসিক)জানান,আমি যে কক্ষে রোগী দেখি সেটি গণপূর্ত বিভাগ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। আমরা অধিক ঝুঁকির মধ্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তেমনি অন্য দিকে, দূর দুরান্ত থেকে আসা রোগী এবং তাদের সাথে আসা স্বজনেরাও ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত আমাদেরকে অন্যত্র স্থানান্তর করা প্রয়োজন।
ডাক্তার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান সিনিয়র কনসালটেন্ট (নাক,কান গলা) বলেন আমরা গণপূর্ত বিভাগের পরিত্যক্ত ভবনে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি এবং রোগীদের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষা এই ভবনে করে আসছি। আমরা সকলেই ঝুঁকির মধ্যে সেবা কার্যক্রম করে যাচ্ছি। কখন যে কি দুর্ঘটনা ঘটে যায় কিছু বলতে পারছি না। আমরা একটি নতুন ভবন চাই, যেখানে নিরাপত্তার সাথে রোগীদের সেবা প্রদান করতে পারবো।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, মানুষের জীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থায় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হোক এবং মানুষের মৌলিক অধিকার পূরনে নিরবিচ্ছিন্ন স্বাস্থ্য সেবা অপরিহার্য।
গণপূর্ত উপ বিভাগ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এফ,এম আশ্রাফুল আউয়াল রানা বলেন,বর্তমানে ভবনের অবস্থা খুবই নাজুক। আমরা কয়েক দফা মেরামত করার পরও পলেস্তার ধসে পরছে।কোন ভাবেই সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। বারবার সংস্কার করার পরও পলেস্তার খুলে খুলে পরে যাচ্ছে।টেম্পার কমে যাওয়ায় ছাদের রড বের হয়ে যাচ্ছে।এভাবে চলতে থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আমরা চিঠি দিয়ে জামালপুর ২৫০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কে জানানোর পাশাপাশি বহির্বিভাগকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ঘোষণা করে জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে বিভিন্ন জায়গায় সতর্কবার্তা লিখে দিয়েছি।
জামালপুর ২৫০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল সহকারী পরিচালক ডা: মো: মাহফুজুর রহমান জানান,
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কথা বিবেচনা করে গণপূর্ত ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আমরা লিখিত ভাবে জানিয়েছি। বিকল্প কোন জায়গা না থাকায়এই মুহূর্তে বহির্বিভাগকে অন্যত্র স্থানান্তর করতে পারছি না।




















