কক্সবাজারের মহেশখালী মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুর রহমান (সোমবার) ২৮ আগস্ট বলেন, ‘রোববার থেকে প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলকভাবে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। এই পরিমান বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লার চাহিদা রয়েছে।’
মাতারবাড়ির ১২শ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। গত রোববার থেকে এ ইউনিট থেকে উৎপাদিত ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে।
প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, ‘গত ৪ আগস্ট থেকে ডিজেলের পরিবর্তে কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুমিতমো। এসময় দৈনিক ১৫০-১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল। ২৯ জুলাই পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর পর ধাপে ধাপে ইউনিটটিতে ওই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদন শুরুর প্রথমে ধাপে ১৫০, দ্বিতীয় ধাপে ৩০০, মেগাওয়াট এরপর ৪০০ মেগাটওয়াট ও রবিবার থেকে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘এতে সফল হওয়ায় ১২ আগস্ট থেকে দৈনিক ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে ইউনিটটি। এরপর ৪০০-৪৫০ মেগাওয়াটসহ রোববার থেকে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে। এ নিয়ে গত একমাসে পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন হওয়া প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে।’
এর আগে গত ২৯ জুলাই বেলা ১২টায় ডিজেল পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। এরপর উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানান।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট এড়াতে ইতিমধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ টন কয়লা। আমদানিকৃত কয়লা মজুদের জন্য ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন টন স্টোরেজ ক্ষমতার চারটি ট্যাঙ্ক ইতোমধ্যে নির্মিত হয়েছে। ট্যাঙ্কগুলোর ৬০ দিনের জন্য কয়লা সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। সর্বশেষ গত ১১ আগস্ট ৬৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে বিদ্যুৎ প্রকল্পের জেটিতে সপ্তম জাহাজ ভিড়ে । পরে অত্যাধুনিক সাকশেন মেশিন ও কনভেয়ার বেল্ট ব্যবহার করে কয়লাগুলো খালাস করা হয়।
এছাড়াও, সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১২শ’ মেগাওয়াট। বাকী ৬০০ মেগাওয়াটের দ্বিতীয় ইউনিটটিও আগামী ডিসেম্বরে পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এরপর মার্চ অথবা এপ্রিলে পুরোদমে উৎপাদনের যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। জুলাই মাসে প্রকল্পটি পুরোপুরি চালুর পূর্ব পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, জাপানি প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো কর্পোরেশন, তোশিবা কর্পোরেশন ও আইএইচআই এই তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে ১ হাজার ১৫০ জন বিদেশি নাগরিকসহ ৮ হাজার মানুষ এ প্রকল্পে কর্মরত আছেন। এরই মধ্যে প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামোর কাজ ৯৭ শতাংশ ও সার্বিক ভৌত অবকাঠামোর অগ্রগতি ৯২ শতাংশ।
তথ্য অনুয়ায়ী, ৫১ হাজার ৮৫৪ দশমিক ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান এ প্রকল্পে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) দিচ্ছে ৪২ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি অর্থ দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ‘মাতারবাড়ি আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট’ নামের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড।
বিজনেস বাংলাদেশ/একে




















