কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উজ্জীবিত হয়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। ৮ বছর পর চলতি সপ্তাহ কিংবা আগামী সাপ্তাহের যে কোন দিন কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের কমিটি ঘোষনা হওয়ার সম্ভবনা আছে। একটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে বিষয়টি ধারনা নিয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের কমিটি গঠনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। কুমিল্লা উত্তর জেলা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় যুবলীগ চলতি বছরের মার্চ থেকে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদের আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে রাজনৈতিক জীবন বৃত্তান্ত আহবান করেন। ওই দুই পদে অন্তত শতাধিক প্রার্থী তাদের জীবন বৃত্তান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জমা দেন।
সম্প্রতি যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি প্রার্থীদের জীবন বৃত্তান্ত যাচাই বছাই শেষ করেন। এরই মধ্যে সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগ সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এনামূল হাসান খাঁন রিপন, কুমিল্লা উত্তর জেলা সাবেক ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক সারওয়ার হোসেন বাবু, দাউদকান্দি উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন। সাধারন সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য দেবীদ্বার পৌরসভা মেয়র মোঃ সাইফুল ইসলাম শামিম, কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগ সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বাহার উদ্দিন সোহাগ, দেবীদ্বার উপজেলা ছাত্রলীগ সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মামুনুর রশিদ, কুমিল্লা উত্তর জেলা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম হোসেন, হোমনা উপজেলা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ভিপি লিটন। তবে বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের কমিটি ঘোষনা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদে যারাই আবেদন করেছেন তাদের অনেকেরই নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যথেষ্ট যোগ্যতা আছে। ইতিমধ্যে সভাপতি পদের প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত। সাধারন সম্পাদক পদের প্রার্থী ২/১ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত হলে কমিটি ঘোষণা করা হবে। অন্যথায় আহবায়ক কমিটিও আসার সম্ভবনা রয়েছে। এদিকে, কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীরা স্ব স্ব পক্ষে যথেষ্ট কারন ও নিজের যোগ্যতা প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টায় বিভোর। পদ বাগিয়ে আনতে হাই কমান্ডে লবিং, তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন জোড়ালোভাবে। কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগ সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামূল হাসান খাঁন রিপন জানান যে, আওয়ামী লীগের আদর্শ লালন করে ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তিনি রাজনীতিতে আছেন। কখনও দলীয় নির্দেশনা অমান্য করেন নি। যে কারনে পদ কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ তাকে মূল্যায়ন করবে বলে তার বিশ্বাস। কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগ সাবেক সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার হোসেন বাবু জানান যে, ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দলীয় নির্দেশনার বাহিরে যাননি। দলীয় সকল কর্মসূচী সফল ভাবে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছেন। কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের কোন কমিটি না থাকলেও দলীয় স্বার্থে কুমিল্লা উত্তর জেলা যুব নেতাদের যুবলীগের ছায়াতলে এসে দলীয় কর্মসূচী বাস্তবায়নে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের উপর তার যথেষ্ট আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। তারা তাকে মূল্যায়ণ করবেন। সাধারন সম্পাদক প্রার্থী মোঃ সাইফুল ইসলাম শামিম জানান যে, তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেবীদ্বার পৌর সভা নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছেন। কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ সাধারন সম্পাদক পদে তাকে মূল্যায়ন করবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন। সাধারন সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে বাহার উদ্দিন সোহাগ জানান যে, আজকের যুবলীগ সকল অনৈতিক ও অপরাজনৈতিক কর্মকা- দমন করে কাঙ্খিত লক্ষ্য পূরনে এগিয়ে চলেছে। জেলা, উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে অসংখ্য মামলায় বার বার গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রশ্নে জীবনবাজি রেখে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি।এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলার যুবসমাজকে সাথে নিয়ে ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ ও ভিশন ৪১ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে চান। যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তার অতীত ত্যাগ, শ্রম ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করবেন বলে তিনি মনে করেন। অপর প্রার্থী মামুনুর রশিদ জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালন করে ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে রাজনীতির মাধ্যমে তার হাতে খড়ি। ছাত্রলীগের দায়িত্বে থেকে কখনও দায়িত্ব অবহেলা করেননি। কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের দীর্ঘদিন কমিটি না থাকা সত্বেও যুবলীগের সকল কর্মসূচী তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলায় যথাযথ ভাবে পালন করে আসছেন। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদেরও নজরে আছে। কেন্দ্রীয় নেতারা তাকে মূল্যায়ন করবেন বলে তার বিশ্বাস। এদিকে, যুবলীগ নেতাদের পদ পাওয়ার জন্য পছন্দের প্রার্থীর ক্ষেত্রে পদ পাওয়ার যোগ্যতা তুলে ধরে নানা যুক্তি দিচ্ছেন অন্যান্য সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। চান্দিনা উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আমির হোসেন চৌধুরী লিটন জানান, প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সামনের সারিতে ছিল বাহার উদ্দিন সোহাগ। দিয়েছেন সফল নেতৃত্ব। দল ও জনগণের অধিকার রক্ষায় তিনি একজন নিবেদিত প্রাণ। প্রচলিত রাজনৈতিক ধারায় থাকলেও লোভ লালসার স্রোতে গা ভাসাননি তিনি। তৃণমুল নেতাকর্মিদের সঙ্গে থেকে এখনও সাধারণ মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন তিনি। সুতরাং পদ পাওয়ার জন্য তার যোগ্যতার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।


















