০৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২ কর্মকর্তার বদলী ,সচেতন মহলের সন্তোষ প্রকাশ

দুর্নীতি মাদকসহ নানা অভিযোগে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজুদ্দৌলাকে বান্দরবানের থানচিতে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পকেট কমিটি ও নিয়োগ বাণিজ্যের মূল হোতা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহ মো. তারিকুল ইসলামকে মাগুড়ার শ্রীপুরে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের ওয়েবসাইটে এ ব্যাপারে পৃথক পৃথক দু’টো আদেশ প্রকাশ করা হয়েছে। বদলীর বিষয়টি এলাকায় প্রকাশ হলে উলিপুরে বিভিন্ন সচেতন ব্যক্তি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং একে অপরকে মিষ্টিমুখ করায়। আর সচেতন মহল মনে করেন শুধু বদলী নয় যথাযথ তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতাদের মুখোশ উন্মোচিত হবে।

ওয়েব সাইটে পাওয়া, ওই আদেশে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহতাব হোসেনকে উলিপুর উপজেলায় এবং উলিপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহ মো. তারিকুল ইসলামকে মাগুড়ার শ্রীপুর উপজেলায় বদলী ও পদায়ন করা হয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়। এদিকে বান্দরবানের থানচি উপজেলার পিআইও মো. সুজন মিয়াকে ’জনস্বার্থে‘ উলিপুর উপজেলায় এবং উলিপুর উপজেলার পিআইও সিরাজুদ্দৌলাকে ‘প্রশাসনিক’ কারণে বান্দরবানের থানচিতে বদলি করা হয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়। উক্ত আদেশে দু’জনকেই আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পদায়নকৃত কর্মস্থলে যোগদান করার নির্দেশ দিয়েছে অধিদফতর। অন্যথায় ২১ সেপ্টেম্বর বিকাল থেকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তারা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।
উল্লেখ্য, উলিপুরের পিআইও সিরাজুদ্দৌলার বিরুদ্ধে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে বিল প্রদান, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন না করা, প্রকল্পের টাকা ফেরত দেয়া সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের অধীন নির্মিত ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র লটারির ফল বদল করে নিজ সহকর্মীর ভাইয়ের নামে কাজ দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি মামলা চলমান রয়েছে। এসব অভিযোগ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস না করা সহ নিয়মিত মাদক সেবনের অভিযোগ তুলে ডোপ টেস্ট করানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন উলিপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন মন্টু।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহ মো. তারিকুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গ্রুপিং করে পকেট কমিটি গঠন করার কারণে মামলায় জর্জড়িত হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এমনকি তার প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অযোগ্য জনবল নিয়োগের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অনেক অভিযোগ বিদ্যমান। বদলীর আদেশে সদ্য যুক্ত হওয়া এ দু’জন কর্মকর্তা সহ উপজেলা পর্যায়ের আরো কয়েক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রুপিং করে প্রশাসনে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ নেহায়েত কম না। নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওইসব কর্মকর্তার বদলীও সময়ের ব্যাপার মাত্র। বদলির বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহ তারিকুল ইসলাম বলেন, আদেশ এর কপি এখনও হাতে পাইনি। পিআইও সিরাজুদ্দৌলার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শোভন রাংসা বলেন, অফিস বন্ধ থাকার কারণে আদেশের কোনো কপি আমি পাইনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ

ট্যাগ :

নীলফামারীতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষার্থীদের মিছিল

২ কর্মকর্তার বদলী ,সচেতন মহলের সন্তোষ প্রকাশ

প্রকাশিত : ০৪:৩৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

দুর্নীতি মাদকসহ নানা অভিযোগে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজুদ্দৌলাকে বান্দরবানের থানচিতে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পকেট কমিটি ও নিয়োগ বাণিজ্যের মূল হোতা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহ মো. তারিকুল ইসলামকে মাগুড়ার শ্রীপুরে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের ওয়েবসাইটে এ ব্যাপারে পৃথক পৃথক দু’টো আদেশ প্রকাশ করা হয়েছে। বদলীর বিষয়টি এলাকায় প্রকাশ হলে উলিপুরে বিভিন্ন সচেতন ব্যক্তি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং একে অপরকে মিষ্টিমুখ করায়। আর সচেতন মহল মনে করেন শুধু বদলী নয় যথাযথ তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতাদের মুখোশ উন্মোচিত হবে।

ওয়েব সাইটে পাওয়া, ওই আদেশে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহতাব হোসেনকে উলিপুর উপজেলায় এবং উলিপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহ মো. তারিকুল ইসলামকে মাগুড়ার শ্রীপুর উপজেলায় বদলী ও পদায়ন করা হয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়। এদিকে বান্দরবানের থানচি উপজেলার পিআইও মো. সুজন মিয়াকে ’জনস্বার্থে‘ উলিপুর উপজেলায় এবং উলিপুর উপজেলার পিআইও সিরাজুদ্দৌলাকে ‘প্রশাসনিক’ কারণে বান্দরবানের থানচিতে বদলি করা হয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়। উক্ত আদেশে দু’জনকেই আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পদায়নকৃত কর্মস্থলে যোগদান করার নির্দেশ দিয়েছে অধিদফতর। অন্যথায় ২১ সেপ্টেম্বর বিকাল থেকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তারা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।
উল্লেখ্য, উলিপুরের পিআইও সিরাজুদ্দৌলার বিরুদ্ধে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে বিল প্রদান, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন না করা, প্রকল্পের টাকা ফেরত দেয়া সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের অধীন নির্মিত ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র লটারির ফল বদল করে নিজ সহকর্মীর ভাইয়ের নামে কাজ দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি মামলা চলমান রয়েছে। এসব অভিযোগ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস না করা সহ নিয়মিত মাদক সেবনের অভিযোগ তুলে ডোপ টেস্ট করানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন উলিপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন মন্টু।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহ মো. তারিকুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গ্রুপিং করে পকেট কমিটি গঠন করার কারণে মামলায় জর্জড়িত হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এমনকি তার প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অযোগ্য জনবল নিয়োগের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অনেক অভিযোগ বিদ্যমান। বদলীর আদেশে সদ্য যুক্ত হওয়া এ দু’জন কর্মকর্তা সহ উপজেলা পর্যায়ের আরো কয়েক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রুপিং করে প্রশাসনে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ নেহায়েত কম না। নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওইসব কর্মকর্তার বদলীও সময়ের ব্যাপার মাত্র। বদলির বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহ তারিকুল ইসলাম বলেন, আদেশ এর কপি এখনও হাতে পাইনি। পিআইও সিরাজুদ্দৌলার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শোভন রাংসা বলেন, অফিস বন্ধ থাকার কারণে আদেশের কোনো কপি আমি পাইনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ