১২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

সুমি হত্যার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও গ্রেফতার হয়নি মূল আসামি

রংপুরের মিঠাপুকুরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্বামী এবং তার প্রেমিকা কর্তৃক বালিশ চাপা দিয়ে ছয়”মাসের অন্তঃসত্ত্বা আদিবাসী তরুনী সুমি কেরকেটা (১৬) হত্যার ঘটনায় স্বামী- দিপল টপ্য, গ্রেফতার হলেও গ্রেফতার হয়নি মূল পরিকল্পনাকারী অভিযুক্ত আদুরী টপ্য। এ ঘটনায় মামলার বাদী সুমি কেরকেটার বাবা বাবলু কেরকেটা, তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই- মিজান,দায়িত্বে অবহেলা করছেন।
অন্যদিকে সাত’জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলার অভিযোগ পত্র থানায় জমা দিলেও স্হানীয় মাতব্বরেরা থানায় উপস্থিত হয়ে অপরাধী দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মাত্র দু’জনকে আসামি করা অভিযোগটি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। এতে অন্তঃসত্ত্বা সুমি কেরকেটা হত্যায় জড়িতরা বেঁচে গিয়ে অব্যাহত হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন।
সুমি কেরকেটার বাবা এবং মায়ের অভিযোগ, সুমি হত্যার আগের দিনেই স্থানীয়ভাবে যে, সার্লিস মিমাংসা অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে তাদের কেউ সহযোগিতা করেনি। জীবন সংষয় আছে এমন কথা বারবার বলতে চেয়েছিলেন আমার মেয়েটা। সেদিন একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে বিচারের নামে আমাদের প্রহসন করা হয়েছে।
সুমি কেরকেটা মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের বাবলু কেরকেটার বড় মেয়ে। আবাসন গুচ্ছ গ্রামের ছোট একটি ঘরে বসবাস করলেও পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ থাকায় সুমি কেরকেটা নিজের ইচ্ছায় এসএসসি পাশ করে মিঠাপুকুর কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিলেন। একই গ্রামের মামাত ভাই লেদা টপ্যর ছেলে দীপল টপ্যর (২৪) সাথে প্রেম- ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠলে তাদের  পরিবারের সম্মতিতে সুমি কেরকেটা হত্যার আটমাস পূর্বে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পরে তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোই চলছিল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই দীপল টপ্য পাশ্ববর্তী আদুরী টপ্য নামে এক আদিবাসী নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে সুমি কেরকেটা এবং দীপলের মাঝে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। বাবলু কেরকেটা মেয়ের সুখের আশায় যৌতুক এবং বিভিন্ন ফার্নিচার দিয়েছিলেন।
ঘটনার দিন গত-২৩ জুলাই (রবিবার) দীপলের পরকীয়া সম্পর্কের সার্লিস মিমাংসার এক’দিন পরেই সকালে দীপলের বসতঘর থেকে সুমি কেরকেটার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সুমি কেরকেটার স্বামী দীপল টপ্যকে আটক করে মিঠাপুকুর থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সুমি কেরকেটাকে বালিশ চাপা দিয়ে  হত্যার কথা স্বীকার করে। মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে পরকীয়া প্রেমিকা আদুরী টপ্যর নাম উঠে আসে। ঘটনার সময় আদুরি কেরকেটাকে আটকের কথা বারবার উল্লেখ্য করলেও পুলিশের অবহেলায় আদুরী টপ্য পালিয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, মামলার তদন্তকাজ এবং প্রতিবেদন ভিন্নভাবে প্রভাবিত করতে দিপল টপ্যর বাবা লেদা টপ্য, প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা বিভিন্ন জায়গায় দিয়েছেন। এজন্যই এ মামলায় পুলিশের কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছেনা। আর এ সুযোগেই আদুরি টপ্য ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজান জানান, পুলিশ আসামি গ্রেফতার করেছেনা ঘটনাটি সত্য নয়। আসামি পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছেনা। মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান জানান, বাদীর যে অভিযোগটি আমরা পেয়েছি, সেটাই রেকর্ড করা হয়েছে। আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সুমি হত্যার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও গ্রেফতার হয়নি মূল আসামি

প্রকাশিত : ০৫:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩
রংপুরের মিঠাপুকুরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্বামী এবং তার প্রেমিকা কর্তৃক বালিশ চাপা দিয়ে ছয়”মাসের অন্তঃসত্ত্বা আদিবাসী তরুনী সুমি কেরকেটা (১৬) হত্যার ঘটনায় স্বামী- দিপল টপ্য, গ্রেফতার হলেও গ্রেফতার হয়নি মূল পরিকল্পনাকারী অভিযুক্ত আদুরী টপ্য। এ ঘটনায় মামলার বাদী সুমি কেরকেটার বাবা বাবলু কেরকেটা, তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই- মিজান,দায়িত্বে অবহেলা করছেন।
অন্যদিকে সাত’জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলার অভিযোগ পত্র থানায় জমা দিলেও স্হানীয় মাতব্বরেরা থানায় উপস্থিত হয়ে অপরাধী দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মাত্র দু’জনকে আসামি করা অভিযোগটি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। এতে অন্তঃসত্ত্বা সুমি কেরকেটা হত্যায় জড়িতরা বেঁচে গিয়ে অব্যাহত হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন।
সুমি কেরকেটার বাবা এবং মায়ের অভিযোগ, সুমি হত্যার আগের দিনেই স্থানীয়ভাবে যে, সার্লিস মিমাংসা অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে তাদের কেউ সহযোগিতা করেনি। জীবন সংষয় আছে এমন কথা বারবার বলতে চেয়েছিলেন আমার মেয়েটা। সেদিন একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে বিচারের নামে আমাদের প্রহসন করা হয়েছে।
সুমি কেরকেটা মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের বাবলু কেরকেটার বড় মেয়ে। আবাসন গুচ্ছ গ্রামের ছোট একটি ঘরে বসবাস করলেও পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ থাকায় সুমি কেরকেটা নিজের ইচ্ছায় এসএসসি পাশ করে মিঠাপুকুর কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিলেন। একই গ্রামের মামাত ভাই লেদা টপ্যর ছেলে দীপল টপ্যর (২৪) সাথে প্রেম- ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠলে তাদের  পরিবারের সম্মতিতে সুমি কেরকেটা হত্যার আটমাস পূর্বে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পরে তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোই চলছিল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই দীপল টপ্য পাশ্ববর্তী আদুরী টপ্য নামে এক আদিবাসী নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে সুমি কেরকেটা এবং দীপলের মাঝে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। বাবলু কেরকেটা মেয়ের সুখের আশায় যৌতুক এবং বিভিন্ন ফার্নিচার দিয়েছিলেন।
ঘটনার দিন গত-২৩ জুলাই (রবিবার) দীপলের পরকীয়া সম্পর্কের সার্লিস মিমাংসার এক’দিন পরেই সকালে দীপলের বসতঘর থেকে সুমি কেরকেটার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সুমি কেরকেটার স্বামী দীপল টপ্যকে আটক করে মিঠাপুকুর থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সুমি কেরকেটাকে বালিশ চাপা দিয়ে  হত্যার কথা স্বীকার করে। মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে পরকীয়া প্রেমিকা আদুরী টপ্যর নাম উঠে আসে। ঘটনার সময় আদুরি কেরকেটাকে আটকের কথা বারবার উল্লেখ্য করলেও পুলিশের অবহেলায় আদুরী টপ্য পালিয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, মামলার তদন্তকাজ এবং প্রতিবেদন ভিন্নভাবে প্রভাবিত করতে দিপল টপ্যর বাবা লেদা টপ্য, প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা বিভিন্ন জায়গায় দিয়েছেন। এজন্যই এ মামলায় পুলিশের কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছেনা। আর এ সুযোগেই আদুরি টপ্য ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজান জানান, পুলিশ আসামি গ্রেফতার করেছেনা ঘটনাটি সত্য নয়। আসামি পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছেনা। মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান জানান, বাদীর যে অভিযোগটি আমরা পেয়েছি, সেটাই রেকর্ড করা হয়েছে। আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।