শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে করা ধর্মঘট প্রত্যাহার করায় টানা আটদিন পর সচল হয়েছে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরের কার্যক্রম।
বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন আন্দোলন করা সাধারণ শ্রমিকপক্ষের নেতা সাজ্জাদ হোসেন।
জানা গেছে, ভারত, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে ত্রিদেশীয় বাণিজ্যিক সম্পর্কের একমাত্র স্থলবন্দর লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর। এ বন্দরে পণ্য লোড-আনলোড করা শ্রমিকদের মজুরি শ্রমিক সংগঠনের মাধ্যমে জমা ও পরিশোধ করা হয়। কিন্তু শ্রমিক সংগঠনের নেতারা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রেখেছেন শ্রমিকদের মজুরি। সংগঠনের কোনো সম্মেলনও করেন না শ্রমিক নেতারা।
ফলে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ শ্রমিকদের মজুরির একটা বড় অংশ তারা দখলে নেন। সেই বকেয়া মজুরি আদায় ও সম্মেলন করে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে শ্রমিক সংগঠনটি বেগবান করাসহ কয়েকটা দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন সাধারণ শ্রমিকরা।
মানববন্ধন, স্মারকলিপি দেওয়া, বিক্ষোভ মিছিল, কর্মবিরতীর মতো কর্মসূচি পালন করেও যখন দাবি আদায় হয়নি, প্রশাসনের সবাই তখন আশ্বাস দিয়ে কাজে ফেরান সাধারণ শ্রমিকদের। কিন্তু প্রতিশ্রুতির শেষ হয় না। অবশেষে গত সপ্তাহের শুরুতেই ধর্মঘটের ডাক দেন সাধারণ শ্রমিকরা। কার্যত অচল হয়ে পড়ে বুড়িমারী স্থলবন্দর। এ নিয়ে সাধারণ শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের মধ্যে সংঘর্ষও বাধে। পুলিশ শর্টগান ও রাবার বুলেট ছোড়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি। অবরুদ্ধ থাকেন পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুল ইসলাম। শ্রমিকদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে বুড়িমারী স্থলবন্দর।
ঘটনা তদন্তে এবং সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসন কমিটিও গঠন করেন। এরই মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বুড়িমারী স্থলবন্দর পরিদর্শনে আসেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তা, শ্রমিক নেতা, ব্যবসায়ী, ও সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে বন্দর সচল করতে আহ্বান জানান। শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। অবশেষে প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসে ২০ সেপ্টেম্বর কাজে ফিরেন সাধারণ শ্রমিকরা।
সাধারণ শ্রমিকপক্ষের নেতা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছি। যদি তারা কথা না রাখে, তাহলে শ্রমিকরা আবারও আন্দোলনে যাবেন। তাই অনুরোধ থাকবে শ্রমিকদের যে বকেয়া রয়েছে -তা যেন দ্রুত পরিশোধ করা হয়।
বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের ডেপুটি কমিশনার আব্দুল আলীম বলেন, যে গাড়িগুলো আটকে ছিল, সেগুলো আগে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। এসব গাড়ি না বের হলে ভারতের যে গাড়িগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করবে, সেগুলো জায়গা দেওয়া সম্ভব হবে না। শ্রমিকরা কাজও শুরু করেছেন




















