০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

নারী উদ্যোক্তা সাজেদা বেগম সংসারের অভাব অনটনের কারণে বাধাগ্রস্থ

সাহসী নারীরাই সফল উদ্যোক্তা। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মার্ট বাংলাদেশ
গড়ার প্রত্যয়ে নারী উদ্যোক্তার বিকল্প নাই। তারই ধারাবাহিকতায় স্বেচ্ছায় নিজ উদ্যোগে স্বামীর অভাব অনটনের সংসারের হাল ধরতে ২০১০ সালে কুমিল্লা জেলাধীন বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের বলারামপুর গ্রামের মোসা: মাজেদা বেগম ১টি বাছুর কিনে লালনপালন করা শুরু করে।  এখন তার ১৭টি গরু এবং ১৯টি ছাগল আছে। সে এখন একজন নারী উদ্যোক্তা। বিশেষ পরিতাপের বিষয় হলো উপযোক্ত গোয়াল ঘর না থাকায় সে তার থাকার মাটির ঘরে গরু লালন পালন করছে। তার ছোট ছোট তিনটি গোয়াল ঘর আছে। গরু ছাগলগুলো এখানে লালন পালন করছে। তার স্বামীর নাম সরাফত আলী, সে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছোটখাট পদে চাকুরী করে। তাদের ১টি ছেলে দুইটি মেয়ে বিবাহিত। ছেলে বিল্লাল ও তার পরিবারকে নিয়ে রাতের বেলায় চাচা শ্বশুড়ের বাড়ীতে থাকে। নারী উদ্যোক্তা মোসা: সাজেদা বেগম জানান আমি যদি সরকারী সহযোগিতা কিংবা দীর্ঘ মেয়াদি লোন পাই আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গোয়াল ঘর তৈরী করে আরো বড় পরিসরে খামার করতে পারব।
তবে সরজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায় তার ছোট ছোট তিনটি গোয়াল ঘরে তাহার গরু ছাগল গুলো লালন পালন করছে। তার একটি থাকার ঘর ছিল, এটাও এখন গোয়াল ঘর হিসাবে ব্যবহার করছে। তার পরিবার রাত্রি যাপন করে পাশে চাচা শশুরের ঘরে। তার একটি থাকার ঘরও জরুরি। জানা যায় গত বছর বলারামপুর সামাজিক সংস্থা( পানার পুকুর পাড়) বুড়িচং উপজেলায় প্রথম নারী উদ্যোক্তা হওয়ায় মোসা: সাজেদা বেগমকে সম্মাণনা স্মারক প্রদান করেন। এতে সাজেদার উৎসাহ আরো বেড়ে যায়। তাদের মত নারী উদ্যোক্তা দের সরকারি ভাবে সহযোগিতা করলে সাজেদা বেগম আরো অনুপ্রাণিত হবে। এবিষয়ে বাকশীমূল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বলেন যদি তার ঘর না থাকে তাকে অবশ্যই সহযোগিতা করব। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহিদা আক্তার জানান এখন ঘর দেয়ার সুযোগ নেই তবে ঘর তৈরীর জন্য টিন দিব। নারী উদ্যোক্তা হিসাবে বিধি মোতাবেক তাকে অবশ্যই যাবতীয় সহযোগিতা করব। তাছাড়াও নারী উদ্যোক্তা মোসা: সাজেদা বেগমকে গরু ছাগলের খাবারের বিষয়ে প্রশ্ন করলে জানান আমার ছেলে বিল্লাল গাভী এবং বাছুর গুলোকে দিনের বেলায় মাঠে নিয়ে ঘাস খাওয়ায়। রাতের বেলায় খড় দেই, মাঠের ধানের মৌসুমে ঘাস কেটে দেওয়া হয়। তবে আমাদের নিজস্ব কোন ঘাস খেত নাই। বাকী ২টি ষাড় গুলোকে কাটা ঘাস ও ভূষি খাওয়ানো হয়। মোসা: সাজেদা বেগম কে সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসে সহযোগিতার হাত বাড়ালে এতে করে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নের গতি সঞ্চারিত হবে। নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। নারী ও পুরুষের বৈষম্য হ্রাস পাবে।
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চাঁদপুরে বাবার স্মৃতি বিজড়িত খোদ্দ খাল খননের উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান

নারী উদ্যোক্তা সাজেদা বেগম সংসারের অভাব অনটনের কারণে বাধাগ্রস্থ

প্রকাশিত : ০৮:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০২৩
সাহসী নারীরাই সফল উদ্যোক্তা। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মার্ট বাংলাদেশ
গড়ার প্রত্যয়ে নারী উদ্যোক্তার বিকল্প নাই। তারই ধারাবাহিকতায় স্বেচ্ছায় নিজ উদ্যোগে স্বামীর অভাব অনটনের সংসারের হাল ধরতে ২০১০ সালে কুমিল্লা জেলাধীন বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের বলারামপুর গ্রামের মোসা: মাজেদা বেগম ১টি বাছুর কিনে লালনপালন করা শুরু করে।  এখন তার ১৭টি গরু এবং ১৯টি ছাগল আছে। সে এখন একজন নারী উদ্যোক্তা। বিশেষ পরিতাপের বিষয় হলো উপযোক্ত গোয়াল ঘর না থাকায় সে তার থাকার মাটির ঘরে গরু লালন পালন করছে। তার ছোট ছোট তিনটি গোয়াল ঘর আছে। গরু ছাগলগুলো এখানে লালন পালন করছে। তার স্বামীর নাম সরাফত আলী, সে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছোটখাট পদে চাকুরী করে। তাদের ১টি ছেলে দুইটি মেয়ে বিবাহিত। ছেলে বিল্লাল ও তার পরিবারকে নিয়ে রাতের বেলায় চাচা শ্বশুড়ের বাড়ীতে থাকে। নারী উদ্যোক্তা মোসা: সাজেদা বেগম জানান আমি যদি সরকারী সহযোগিতা কিংবা দীর্ঘ মেয়াদি লোন পাই আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গোয়াল ঘর তৈরী করে আরো বড় পরিসরে খামার করতে পারব।
তবে সরজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায় তার ছোট ছোট তিনটি গোয়াল ঘরে তাহার গরু ছাগল গুলো লালন পালন করছে। তার একটি থাকার ঘর ছিল, এটাও এখন গোয়াল ঘর হিসাবে ব্যবহার করছে। তার পরিবার রাত্রি যাপন করে পাশে চাচা শশুরের ঘরে। তার একটি থাকার ঘরও জরুরি। জানা যায় গত বছর বলারামপুর সামাজিক সংস্থা( পানার পুকুর পাড়) বুড়িচং উপজেলায় প্রথম নারী উদ্যোক্তা হওয়ায় মোসা: সাজেদা বেগমকে সম্মাণনা স্মারক প্রদান করেন। এতে সাজেদার উৎসাহ আরো বেড়ে যায়। তাদের মত নারী উদ্যোক্তা দের সরকারি ভাবে সহযোগিতা করলে সাজেদা বেগম আরো অনুপ্রাণিত হবে। এবিষয়ে বাকশীমূল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বলেন যদি তার ঘর না থাকে তাকে অবশ্যই সহযোগিতা করব। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহিদা আক্তার জানান এখন ঘর দেয়ার সুযোগ নেই তবে ঘর তৈরীর জন্য টিন দিব। নারী উদ্যোক্তা হিসাবে বিধি মোতাবেক তাকে অবশ্যই যাবতীয় সহযোগিতা করব। তাছাড়াও নারী উদ্যোক্তা মোসা: সাজেদা বেগমকে গরু ছাগলের খাবারের বিষয়ে প্রশ্ন করলে জানান আমার ছেলে বিল্লাল গাভী এবং বাছুর গুলোকে দিনের বেলায় মাঠে নিয়ে ঘাস খাওয়ায়। রাতের বেলায় খড় দেই, মাঠের ধানের মৌসুমে ঘাস কেটে দেওয়া হয়। তবে আমাদের নিজস্ব কোন ঘাস খেত নাই। বাকী ২টি ষাড় গুলোকে কাটা ঘাস ও ভূষি খাওয়ানো হয়। মোসা: সাজেদা বেগম কে সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসে সহযোগিতার হাত বাড়ালে এতে করে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নের গতি সঞ্চারিত হবে। নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। নারী ও পুরুষের বৈষম্য হ্রাস পাবে।