তিস্তার বুকে জেগে ওঠা দুর্গম বালু চরে গড়ে উঠেছে দেশের সবচেয়ে বড় ও এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘তিস্তা সোলার লিমিটেড’। প্রতিদিন গড়ে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে এখান থেকে। যা অবদান রাখছে স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে। আর এতেই বদলে যেতে পারে গোটা উত্তরবঙ্গের চিত্র বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়ন এবং কুরিগ্রামের কোল ঘেষা চর খোর্দা গ্রামের বিস্তীর্ণ বালু চরের ৬০০ একর জমির ওপর স্থাপন করা হয়েছে এই পাওয়ার প্লান্ট। বসতভিটা থেকে অনেক দূরে হওয়ায় কোনো কাজেই লাগানো যেত না এসব জমি। সেই জমি এখন আলোর উৎস হয়েছে গোটা দেশের জন্য।
স্থানীদের দাবি, এত বড় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হলেও সেখানে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নির্মিত রাস্তা-ঘাটগুলোর তেমন উন্নয়ন হয়নি।সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধু ধু বালুচরে বসানো রয়েছে সোলার প্যানেলগুলো। সারি সারি করে বসানোর কারণে দূর থেকে কালো রঙের সৌর প্যানেলগুলো অনেকটাই সাদা বালুচরে কালো রঙের গালিচার মতো মনে হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির চারিদিকে নিরাপত্তার জন্য উঁচু করে কাঁটা তারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। এর ভেতরই গোটা সোলার প্যানেলটির কার্যক্রম চলছে।
তিস্তা সোলার লিমিটেডের সিনিয়র নির্বাহী কর্মকর্তা (জমি অধিগ্রহণ) সুজা আহমেদ বলেন, ‘৮৫টি মাউন্টিং পাইলসের ওপর বসানো হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার সৌর প্যানেল। এসব সৌর প্যানেল থেকে ১২০টি ইনভার্টারের মাধ্যমে প্রতিদিন ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এজন্য ২৮টি বক্স ট্রান্সমিশনে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে সাবস্টেশনসহ ১৩২ কেভিএ ট্রান্সমিশন টাওয়ার নির্মাণ এবং জাতীয় গ্রিডে সংযুক্তির জন্য তিস্তা পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে রংপুর পর্যন্ত তৈরি করা হয়েছে ১২২টি টাওয়ারের ৩৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার লম্বা সঞ্চালন লাইন। এ লাইনের মাধ্যমেই সুন্দরগঞ্জের তিস্তাপাড়ের কেন্দ্রটি থেকে রংপুর গ্রিড সাবস্টেশনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব আরও সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন করতে পারলে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। আমাদের এ উদ্যেগ কর্ম সহায়ক পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখবে।’




















