০৮:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তন, সংকটে ইলিশ!

জলবায়ু পরিবর্তনে বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলে উপকূলভাগে ইলিশের বিচরনস্থলে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইলিশ উৎপাদনের ক্রমবর্ধনশীল ধারায় এখনো বড় ধর নের নেতিবাচক প্রভাব না পড়লেও ভবিষ্যতে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক নানা সমস্যা বিরুপ পরিস্থিতি তৈরী হচ্ছে ।

ইলিশের বিচরন কম থাকায় আহরণও কিছুটা কম। ফলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতির সাথে মূল্যও বৃদ্ধি। বরিশালের খুচরা বাজারে সাড়ে ৮শ গ্রাম থেকে ১ কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রী হচ্ছে সাড়ে ১২শ থেকে ১৪শ টাকা কেজি। প্রজনন ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটাতে না পারলে আগামীতে উৎপাদনেও বিরুপ প্রভাব সৃষ্টির হওয়ার আশংকা রয়েছে।

মৎস্য গবেষনা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আশরাফুল আলম জানান, শিল্প ও মনুষ্য বর্জ্য অপসারণের ফলে নদ-নদীতে ইলিশের প্রধান খাবার ফাইটোপ্লাঙ্কটন ও জু-প্লাঙ্কটনের ঘাটতি প্রকট আকার ধারন করছে। যেখানে প্রতি লিটার পানিতে ফাইটো প্লাঙ্কটন ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার থাকার কথা, সেখানে তা দেড় হাজারের নিচে এবং জিও প্লাঙ্কটন ১৫শর স্থলে কোন কোন নদীতে ২-৩শতে নেমে এসেছে। ফলে খাবারের অভাবেও ইলিশ সাগরের উপকূল অতিক্রম করে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে আসছেনা। পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে অতিরিক্ত তাপ প্রবাহের ফলেও ইলিশ সাগর থেকে নদীমুখি হচ্ছে না। ইলিশ বিচরনের জন্য যেখানে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানির তাপমাত্রা ২৮-৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস থাকা প্রয়োজন সেখানে তা ৩৪-৩৫ ডিগ্রী অতিক্রম করছে।

তবে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে মাঝারী সাইজের কিছু ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে। এসব ইলিশও পেটে ডিম রয়েছে । তাই প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ১১ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাত থেকে ২ নভেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত উপকূলের ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটারের মূল প্রজনন স্থলসহ সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিপনন নিষিদ্ধ থাকছে। গত বছর দক্ষিণ উপকূল সহ সংলগ্ন অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে প্রায় ৮৪% মা ইলিশ ডিম ছাড়ে। এরমধ্যে ৫২ ভাগ মা ইলিশ ২২ দিনের মূল প্রজননকালীন সময়ে এবং পরবর্তিতে ৩২% ডিম ছাড়ারত ছিল। যা ছিল অগের বছরের প্রজননকালের চেয়ে প্রায় ২.৪৫% বেশী । প্রজননকালে প্রায় ৮ লাখ ৫ হাজার কেজি ডিম ছেড়েছে মা ইলিশ।

বিজনেস বাংলাদেশ/bh

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

জলবায়ু পরিবর্তন, সংকটে ইলিশ!

প্রকাশিত : ০১:০৩:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ অক্টোবর ২০২৩

জলবায়ু পরিবর্তনে বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলে উপকূলভাগে ইলিশের বিচরনস্থলে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইলিশ উৎপাদনের ক্রমবর্ধনশীল ধারায় এখনো বড় ধর নের নেতিবাচক প্রভাব না পড়লেও ভবিষ্যতে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক নানা সমস্যা বিরুপ পরিস্থিতি তৈরী হচ্ছে ।

ইলিশের বিচরন কম থাকায় আহরণও কিছুটা কম। ফলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতির সাথে মূল্যও বৃদ্ধি। বরিশালের খুচরা বাজারে সাড়ে ৮শ গ্রাম থেকে ১ কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রী হচ্ছে সাড়ে ১২শ থেকে ১৪শ টাকা কেজি। প্রজনন ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটাতে না পারলে আগামীতে উৎপাদনেও বিরুপ প্রভাব সৃষ্টির হওয়ার আশংকা রয়েছে।

মৎস্য গবেষনা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আশরাফুল আলম জানান, শিল্প ও মনুষ্য বর্জ্য অপসারণের ফলে নদ-নদীতে ইলিশের প্রধান খাবার ফাইটোপ্লাঙ্কটন ও জু-প্লাঙ্কটনের ঘাটতি প্রকট আকার ধারন করছে। যেখানে প্রতি লিটার পানিতে ফাইটো প্লাঙ্কটন ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার থাকার কথা, সেখানে তা দেড় হাজারের নিচে এবং জিও প্লাঙ্কটন ১৫শর স্থলে কোন কোন নদীতে ২-৩শতে নেমে এসেছে। ফলে খাবারের অভাবেও ইলিশ সাগরের উপকূল অতিক্রম করে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে আসছেনা। পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে অতিরিক্ত তাপ প্রবাহের ফলেও ইলিশ সাগর থেকে নদীমুখি হচ্ছে না। ইলিশ বিচরনের জন্য যেখানে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানির তাপমাত্রা ২৮-৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস থাকা প্রয়োজন সেখানে তা ৩৪-৩৫ ডিগ্রী অতিক্রম করছে।

তবে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে মাঝারী সাইজের কিছু ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে। এসব ইলিশও পেটে ডিম রয়েছে । তাই প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ১১ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাত থেকে ২ নভেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত উপকূলের ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটারের মূল প্রজনন স্থলসহ সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিপনন নিষিদ্ধ থাকছে। গত বছর দক্ষিণ উপকূল সহ সংলগ্ন অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে প্রায় ৮৪% মা ইলিশ ডিম ছাড়ে। এরমধ্যে ৫২ ভাগ মা ইলিশ ২২ দিনের মূল প্রজননকালীন সময়ে এবং পরবর্তিতে ৩২% ডিম ছাড়ারত ছিল। যা ছিল অগের বছরের প্রজননকালের চেয়ে প্রায় ২.৪৫% বেশী । প্রজননকালে প্রায় ৮ লাখ ৫ হাজার কেজি ডিম ছেড়েছে মা ইলিশ।

বিজনেস বাংলাদেশ/bh