০৭:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

‘সরকারি ভূমি ব্যক্তির নামে রেকর্ড বাতিলের দাবি’

ভূমিগ্রাসী ও জোতদার বাহিনীর অব্যাহত হুমকিতে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে নোয়াখালী সদর উপজেলার পূর্ব চর শুল্লুকিয়া উত্তর ওয়াপদা বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। জরিপ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজসে ভুয়া খতিয়ান করে জেলা প্রশাসনের খাস খতিয়ান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৮ একর ৫ শতাংশ ভূমির মালিকানা দাবী করছে ভূমিগ্রাসীরা। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভূমিগ্রাসীদের সাথে বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর যেকোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

সরকারি ভূমি ব্যক্তির নামে রেকর্ড বাতিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সদর উপজেলার উত্তর ওয়াপদা বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে বাজারের ব্যবসায়ী, দোকান মালিক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভে বাঁধা দেয় ভূমিগ্রাসী মহিন উদ্দিন ও মোছলে উদ্দিনের ভাতিজা হেলাল উদ্দিনে নেতৃত্বে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা। পরে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া খেয়ে তারা পালিয়ে যায়।
ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী জানান, বছরের পর বছর উত্তর ওয়াপদা বাজার ও আশপাশের ভূমিতে বসবাস করছেন কয়েক’শ পরিবার। বাজারে রয়েছে ৮ শতাধিক দোকান, দুইটি মসজিদ ও একটি হাইস্কুল, ১টি দিঘি ও ১টি পুকুর। ১৯৬৩-৬৪ সালে বাজারসহ ভূমিগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ড অধিগ্রহণ করে। পরবর্তীতে ২০১২-১৩ সালে জেলা প্রশাসক ওই ভূমির কিছু অংশ পূন:অধিগ্রহণ করে অধিগ্রহনকৃত ভূমিতে জেলা প্রশাসক স্থানীয় বসবাসকারী ও বাজার ব্যবসায়ীদের বন্দোবস্ত দিয়ে রাজস্ব আদায় করে আসছে। বিগত আর.এস হাল জরিপের সময় ওই ৮ একর ৫ শতাংশ ভূমি ১নং খাস খতিয়ানে জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ড না হয়ে জরিপ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজসে ভূমিগ্রাসী মহিন উদ্দিন ও মোছলে উদ্দিন নামের জনৈক দুই ব্যক্তির নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। এর পর থেকেই ভূমিগ্রাসীরা বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীকে হুমকি দিয়ে ওই ভূমি থেকে উচ্ছেদের পায়তারা করছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা প্রতিকার চেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর অভিযোগ দায়ের করার পরও এখনো কোন প্রতিকার মেলেনি। এনিয়ে এলাকায় চরম অসস্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উত্তর ওয়াপদা ঘর ভিটি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. ইসমাঈল হোসেন দুলাল বলেন, পূর্ব চর শুল্লুকিয়া মৌজার দিয়ারা ২নং খতিয়ানভুক্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৮ একর ৫ শতাংশ ভূমিতে যুগের পর যুগ কয়েক’শ পরিবার বসবাস এবং ৪ শতাধিক ব্যবসায়ী দোকান ঘর দিয়ে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। কিন্তু সরকারের ওই সম্পত্তি জরিপ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজসে জনৈক ব্যক্তি মহি উদ্দিন ও মোছলেহ উদ্দিনের নামে ভুয়া খতিয়ান করে নেয়। ওই ভুয়া খতিয়ান কর্তন করে সরকারের সম্পত্তি সরকারি খতিয়ানে যোগ করার দাবি জানান তিনি।
উত্তর ওয়াপদা বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, সরকারি জায়গা বন্দোবস্ত নিয়ে ব্যবসা করে ব্যবসায়ীরা জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। অন্যদিকে দুটি মসজিদে মুসুল্লিরা ইবাদত এবং একটি হাইস্কুলে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করে আসছে। ভূমিগ্রাসীরা ব্যবসায়ীদের রিজিকে আঘাত করতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছে। ইতিমধ্যে তারা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতিকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে স্কুলের একটি খালি জায়গা রাতের অন্ধকারে দখল করে নিয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ী, এলাকার মুসুল্লি ও সরকারি জায়গায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের সার্বিক বিষয়ে বিবেচনা করে ওই ভূমি উদ্ধারে প্রয়োজন ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান তিনি।
এদিকে ভূমিগ্রাসী মহিন উদ্দিন ও মোছলে উদ্দিন বার বার ওই ভূমির খাজনা পরিশোধ করে নিজেদের নামে খাজনা দাখিলা প্রণয়ন করতে জোর প্রয়োগ করছে দাবি করে নোয়াখালী ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. সামছুল আলম বলেন, তারা নানাভাবে চেষ্টা করার পরও আমি তাদের নামে খাজনা নেয়া বন্ধ রেখেছি।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, সরকারি ভূমি ব্যক্তির নামে রেকর্ডভুক্তির বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগের তদন্ত চলছে। ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকারি জায়গা যদি ব্যক্তি মালিকায় রেকর্ডভুক্ত হয়ে থাকে তাহলে জরিপ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উত্তর ওয়াপদা বাজার ও আশপাশের এলাকার মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে এবং সব ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে সরকারি ভূমি ব্যক্তির নামে রেকর্ড বাতিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চাঁদপুরে বাবার স্মৃতি বিজড়িত খোদ্দ খাল খননের উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান

‘সরকারি ভূমি ব্যক্তির নামে রেকর্ড বাতিলের দাবি’

প্রকাশিত : ০৭:২৩:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩

ভূমিগ্রাসী ও জোতদার বাহিনীর অব্যাহত হুমকিতে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে নোয়াখালী সদর উপজেলার পূর্ব চর শুল্লুকিয়া উত্তর ওয়াপদা বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। জরিপ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজসে ভুয়া খতিয়ান করে জেলা প্রশাসনের খাস খতিয়ান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৮ একর ৫ শতাংশ ভূমির মালিকানা দাবী করছে ভূমিগ্রাসীরা। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভূমিগ্রাসীদের সাথে বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর যেকোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

সরকারি ভূমি ব্যক্তির নামে রেকর্ড বাতিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সদর উপজেলার উত্তর ওয়াপদা বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে বাজারের ব্যবসায়ী, দোকান মালিক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভে বাঁধা দেয় ভূমিগ্রাসী মহিন উদ্দিন ও মোছলে উদ্দিনের ভাতিজা হেলাল উদ্দিনে নেতৃত্বে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা। পরে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া খেয়ে তারা পালিয়ে যায়।
ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী জানান, বছরের পর বছর উত্তর ওয়াপদা বাজার ও আশপাশের ভূমিতে বসবাস করছেন কয়েক’শ পরিবার। বাজারে রয়েছে ৮ শতাধিক দোকান, দুইটি মসজিদ ও একটি হাইস্কুল, ১টি দিঘি ও ১টি পুকুর। ১৯৬৩-৬৪ সালে বাজারসহ ভূমিগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ড অধিগ্রহণ করে। পরবর্তীতে ২০১২-১৩ সালে জেলা প্রশাসক ওই ভূমির কিছু অংশ পূন:অধিগ্রহণ করে অধিগ্রহনকৃত ভূমিতে জেলা প্রশাসক স্থানীয় বসবাসকারী ও বাজার ব্যবসায়ীদের বন্দোবস্ত দিয়ে রাজস্ব আদায় করে আসছে। বিগত আর.এস হাল জরিপের সময় ওই ৮ একর ৫ শতাংশ ভূমি ১নং খাস খতিয়ানে জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ড না হয়ে জরিপ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজসে ভূমিগ্রাসী মহিন উদ্দিন ও মোছলে উদ্দিন নামের জনৈক দুই ব্যক্তির নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। এর পর থেকেই ভূমিগ্রাসীরা বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীকে হুমকি দিয়ে ওই ভূমি থেকে উচ্ছেদের পায়তারা করছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা প্রতিকার চেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর অভিযোগ দায়ের করার পরও এখনো কোন প্রতিকার মেলেনি। এনিয়ে এলাকায় চরম অসস্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উত্তর ওয়াপদা ঘর ভিটি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. ইসমাঈল হোসেন দুলাল বলেন, পূর্ব চর শুল্লুকিয়া মৌজার দিয়ারা ২নং খতিয়ানভুক্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৮ একর ৫ শতাংশ ভূমিতে যুগের পর যুগ কয়েক’শ পরিবার বসবাস এবং ৪ শতাধিক ব্যবসায়ী দোকান ঘর দিয়ে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। কিন্তু সরকারের ওই সম্পত্তি জরিপ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজসে জনৈক ব্যক্তি মহি উদ্দিন ও মোছলেহ উদ্দিনের নামে ভুয়া খতিয়ান করে নেয়। ওই ভুয়া খতিয়ান কর্তন করে সরকারের সম্পত্তি সরকারি খতিয়ানে যোগ করার দাবি জানান তিনি।
উত্তর ওয়াপদা বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, সরকারি জায়গা বন্দোবস্ত নিয়ে ব্যবসা করে ব্যবসায়ীরা জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। অন্যদিকে দুটি মসজিদে মুসুল্লিরা ইবাদত এবং একটি হাইস্কুলে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করে আসছে। ভূমিগ্রাসীরা ব্যবসায়ীদের রিজিকে আঘাত করতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছে। ইতিমধ্যে তারা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতিকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে স্কুলের একটি খালি জায়গা রাতের অন্ধকারে দখল করে নিয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ী, এলাকার মুসুল্লি ও সরকারি জায়গায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের সার্বিক বিষয়ে বিবেচনা করে ওই ভূমি উদ্ধারে প্রয়োজন ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান তিনি।
এদিকে ভূমিগ্রাসী মহিন উদ্দিন ও মোছলে উদ্দিন বার বার ওই ভূমির খাজনা পরিশোধ করে নিজেদের নামে খাজনা দাখিলা প্রণয়ন করতে জোর প্রয়োগ করছে দাবি করে নোয়াখালী ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. সামছুল আলম বলেন, তারা নানাভাবে চেষ্টা করার পরও আমি তাদের নামে খাজনা নেয়া বন্ধ রেখেছি।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, সরকারি ভূমি ব্যক্তির নামে রেকর্ডভুক্তির বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগের তদন্ত চলছে। ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকারি জায়গা যদি ব্যক্তি মালিকায় রেকর্ডভুক্ত হয়ে থাকে তাহলে জরিপ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উত্তর ওয়াপদা বাজার ও আশপাশের এলাকার মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে এবং সব ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে সরকারি ভূমি ব্যক্তির নামে রেকর্ড বাতিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।