সিরাজগঞ্জ উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হওয়ায় জেলাটি রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিরাজগঞ্জ সদরে ৫ ইউনিয়ন , পৌরসভা ও কামারখন্দ উপজেলায় ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে সিরাজগঞ্জ -২ আসন গঠিত। আসনটি জেলা সদর হওয়ায় সকল দলের জেলার রাজনীতি সদর থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়। এক সময়ে বিএনপি-জামায়াতের ভালো অবস্থান থাকলেও এখন আওয়ামীলীগের আসন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ফলে আওয়ামীলীগের ভোট বৃদ্ধি পেয়েছে এমনটি মনে করছেন সচেতন মহল।
দেখা যায়, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্নার গত ১৫ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারের উন্নয়ন অব্যহত আছে।
গত মার্চ মাসে সদর আসনের উন্নয়নের শোভাযাত্রা সদর ও কামারখন্দের বিভিন্ন সড়কে প্রদক্ষিণ করে এবং ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে দাঁড়িয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন তুলে ধরেন। এই আসনটি নদীর ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষার জন্য ক্যাপিটাল পাইলট ড্রেজিং প্রকল্প গ্রহন করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও ৪টি ক্রসবার নির্মাণ করে নদী ভাঙন রোধ বন্ধ করা হয়েছে। যার ফলশ্রæুতিতে হাজার হাজার একর আবাদি জমি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ইতিমধ্যে বেকারত্ব দূরীকরণে সিরাজগঞ্জ-কামারখন্দে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার এবং সিরাজগঞ্জ মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউট নির্মাণ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালকে ২৫০শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। শেখ হাসিনা ট্রমা সেন্টার নির্মাণ ইতিমধ্যে হাবিবে মিল্লাত এমপি’র ব্যক্তিগত উদ্যোগে সিরাজগঞ্জ ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন। সিরাজগঞ্জবাসীর বহুল কাঙ্খিত শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজসহ ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও চাহিদা অনুযায়ী ৫০০ শয্যা থেকে ১হাজার শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চলমান আছে।
এছাড়া পাসপোর্ট অফিস, নির্বাচন অফিস, পাবলিক লাইব্রেরী, মুক্তির সোপান, অফিসার্স ক্লাব, রেজিস্ট্রি অফিস, স্কাউট ভবন, কৃষি অফিস, জনস্বাস্থ্য অফিস, শিক্ষা প্রকৌশলী অফিস, জেলা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবন, পৌর নিউ সুপার মার্কেট এই আসনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণসহ জনস্বার্থে অসংখ্য স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
সয়দাবাদে বিদ্যুৎ পাওয়ার প্ল্যান্ট আওয়ামীলীগের সময়ে নির্মাণ করা হয়েছে। সরেজমিনে সদর আসন ঘুরে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দে আইডিযুক্ত সকল রাস্তা পাকাকরণ করা সহ জনস্বার্থে অসংখ্য নতুন নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে ।
সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সিরাজগঞ্জ সদরের নির্বাচনী এলাকায় ২১টি ও কামারখন্দে ১৭ টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ২ টি পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পৌর আরবান প্রাইমারি হেলথ্ কেয়ার নির্মাণ করা হয়েছে।
নার্সিং ইনস্টিটিউট কে নার্সিং কলেজে রূপান্তর করা হয়েছে। সদর কামারখন্দে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ ও ভূমি অফিসগুলোকে আধুনিক পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ বাসীকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ করার জন্য যমুনা নদী হতে পুনরুদ্ধারকৃত ভূমির উন্নয়ন এবং নির্মাণাধীন অর্থনৈতিক অঞ্চল রক্ষায় ক্রসবার-৩ হতে ক্রসবার-৪ পর্যন্ত সংযোগ বাঁধ নির্মাণ ও মাটি ভরাট কাজ সম্পর্ণ হয়েছে। ইতিমধ্যে প্ল্যান্ট বরাদ্দের সকল প্রক্রিয়া গ্রহন করা হয়েছে।
বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। যেখানে ৫ লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। জেলা ও উপজেলায় দুটি মডেল মসজিদসহ অসংখ্য মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রায় কয়েকশত গৃহহীন পরিবারকে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ ঘরসহ জমি প্রদান করেছে ক্ষমাতাশীল দল আওয়ামীলীগ। আসনগুলোতে শতভাগ বিদ্যুতায়িত করা হয়েছে।
আরো জানা যায়, ৩১’শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালকে ৫০’শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেলক্সে উন্নীত করে এই প্রথম অপারেশন থিয়েটার চালু করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী কাটাখালি ব্রীজসহ প্রয়োজনীয় সকল জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। চর টেংরাইল-পেছরপাড়া-বাঁশবাড়ীয়ার প্রায় ২০ হাজার মানুষের দাবী পূরণে নির্বিঘ্ন সড়ক যোগাযোগের জন্য হুরা সাগর নদীর উপর ৯৬ মিটার দীর্ঘ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে।। জরাজীর্ণ কামারখন্দ উপজেলা পরিষদকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে এবং আধুনিক মিনি অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে।
জামতৈল ধোপাকান্দি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এবং হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে। ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪তলা বিল্ডিংসহ ২৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়েছে। ১৪৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
কামারখন্দের দুর্যোগ-দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে এবং রায়দৌলতপুরে আরো একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। কামারখন্দ উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এদিকে উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ায় সর্ব মহলে প্রশংসিত হয়েছেন অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত এমপি।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারাহের জন্য বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। কামারখন্দের বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন এমপি মহোদয়ের একান্ত চেষ্টায় কামারখন্দে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হয়েছে এবং পলাশডাঙ্গা খ্যাত মধ্যভদ্রঘাটে আধুনিক মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে।
সংসদীয় আসনের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আগামীর সিরাজগঞ্জ কেমন হবে জানতে চাইলে হাবিবে মিল্লাত এমপি বলেন, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা দেশ এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। জননেত্রী শেখ হাসিনা সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। আমার নির্বাচনী এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, সেই সাথে এ ধারা অব্যাহত রাখতে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট কামনা করছি।




















