ধুমধাম করে দুই পরিবারের সম্মতিতেই গাঁট বাঁধেন ছেলে-মেয়ে। ফলে বিয়ের আয়োজনেও কমতি ছিলো না। তিন বছর সংসারও করেন তারা। তবে তিন বছর সংসারের পর হঠাৎ স্বামী জানতে পারেন তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায়। স্বামীর নাম মামুন নবী খান (৩৪)। বাড়ি উপজেলার কালিয়া গ্রামে আর মেয়ের বাড়ি কান্দাপাড়ায়। প্রকৃত কারণ ছাপিয়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমার দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে সদর থানা পুলিশের সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
মামুন বলেন, ২০২০ সালের ৩ জুলাই বিয়ে হয়। তবে মেয়েকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে তোলা হয় ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি। তার অভিযোগ, বিয়ের পর মেয়ে অন্য ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিষয়টি টের পেয়ে তার মা-বাবাকে জানালে গত ১ জানুয়ারি মেয়েকে নিয়ে চলে যান তারা। পরে মেয়েকে আর ফেরত পাঠাননি। মেয়েকে না পাঠানোয় গত ৬ জুন তালাক নোটিশ পাঠাই। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২৭ জুলাই আমার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করে মেয়ের পরিবার।
মামুন বলেন, বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে এমনকি স্থানীয় মাতব্বররাও বেশকয়েকবার সালিশ করেছেন কিন্তু মেয়ের পরিবার কোনোভাবেই মীমাংসা করতে রাজি হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, তিন বছর আগে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয়। পরে স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দেয়। স্বামী যদি ধর্ষণই করেন তাহলে তিন বছর সংসার করলো কার সাথে? স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করা যায় কি না আমাদের জানা নেই। বিয়ের সময় মেয়ে নাবালিকা থাকায় কাবিননামা না থাকার সুযোগে এমন মামলা বলে জানান এলাকাবাসী।
ছেলের বাবা আবু মুছা খান বলেন, মেয়েকে আনুষ্ঠানিকভাবে আংটি পরানো, দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে পরানো হয়, বাসরঘরের ছবিও আছে। বিয়েতে স্থানীয় দুই ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। আমরা অনেকবার মীমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু মেয়ের চাচা ইউপি সদস্য হওয়ায় হয়রানি করছে।
এ বিষয়ে মেয়ের বাবা আল-আমিন মন্ডল বলেন, মেয়েকে ডিভোর্স দেওয়ার পর আমার ভাইয়ের (ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম মন্ডল) পরামর্শে মামলা করা হয়েছে। এসব বিষয়ে ভাই ভালো বলতে পারবে, আমি আর কিছু বলতে পারবো না।
মেয়ের চাচা স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম মন্ডল জানান, বিষয়টি নিয়ে মামলা চলছে। এ অবস্থায় কিছু বলতে পারবো না।
কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি মীমাংসার জন্য প্রায় এক মাস আগে আমরা মুরব্বিদের নিয়ে বসেছিলাম। বিয়ের সময় মেয়ের পরিবার ছেলেকে তিন লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়েছিল। বিয়ের দেনমোহর ছিল ৭ লাখ টাকা। এজন্য আমরা ছেলেপক্ষকে ৭ লাখ টাকা দিতে বলেছিলাম। কিন্তু মেয়েপক্ষ সেটা মানেনি। লোকমুখে শুনেছি তারা নাকি ওই ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছে।
তাদের বিয়ে পড়ান স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও কান্দাপাড়া হাটখোলার বিসমিল্লাহ ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী হোমিও চিকিৎসক হাসান আলী। তিনি বলেন, দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়েতে আমি নিজে কালেমা পড়িয়েছি। কিন্তু মেয়ের বয়স কম হওয়ায় ওই সময় কাবিন হয়নি। শুনেছি ওই ছেলের বিরুদ্ধে নাকি মেয়ের পরিবার মিথ্যা মামলা দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সবুর বলেন, ওই মেয়েকে ডিভোর্স দেওয়ার পর ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছে শুনেছি। তবে তাদের বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের কয়েকবার সালিশ হলেও আমি উপস্থিত ছিলাম না।




















