পানিতে ভাসছে কলাগাছের ভেলা। এর ওপরে চুলা পাতিয়ে রান্না করছেন নারীরা। সঙ্গে আছে থালা-বাটি সংসার। ভেলায় পরিবারের অন্য সদস্যরাও আছে।এ যেন ‘ভেলায় ভাসা সংসার’। তবে ভেলার পেছনে একটি ফেস্টুন। সেখানে চোখ পড়লেই বোঝা যায় এটি সংসার নয়, জলবায়ুঝুঁকিতে থাকা হাওরের বিপন্ন জেলে-কৃষকরা জলবায়ু বিপন্নতা তুলে ধরেছেন।
সুনামগঞ্জের কানলার হাওরে ভেলা ভাসিয়ে অভিনব পন্থায় জলবায়ু বিপন্নতা তুলে ধরেছেন জেলে-কৃষকরা।
তাদের এই ব্যতিক্রমী প্রতীকী জীবনযাপনের চিত্র দেখতে আশপাশের মানুষজনও ভিড় করেন। এ সময় হাওরের এই কৃষক ও জেলেরা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাদের কৃষি অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়েছে তুলে ধরেন।
কৃষকরা জানান, জলবায়ুঝুঁকিতে আছে হাওরের দুই কোটিরও বেশি লোক। তাদের চাষবাস ও জীবনযাপনের স্বাভাবিক চিত্র পাল্টে গেছে। আগাম বন্যা, খরায় প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক।এতে বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে বিপন্ন হয়ে পড়ছে অনেক পরিবার। হাওরের সমৃদ্ধ জীবন হারিয়ে তারা এখন কষ্টে আছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত এই মানুষরা জলবায়ু সহযোগিতা পাচ্ছে না।
কর্মসূচিতে এসব কৃষক খাদ্য স্বাধিকারের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধ, কৃষিজমিতে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক স্থাপনা না করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং খাদ্য স্বাধিকারের জন্য বিজলি কৃষিনীতি প্রণয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য ভূমি ইজারানীতি প্রণয়নসহ নানা দাবি তুলে ধরেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাউসের নির্বাহী পরিচালক সালেহিন চৌধুরী শুভ, দ্বোহা চৌধুরী, শরীফ আহমদ, মো. শাহিন মিয়া, মো. আরজদ আলী প্রমুখ।























