বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে গিয়ে জেলেদের হামলার শিকার হয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতে টিমের সদস্যরা। হামলায় আহত হয় মৎস্য অফিসের এক স্টাফসহ ৩ জন। আহতরা হলেন, অফিস সহকারী সিদ্দিকুর রহমান (৫০) ট্রলার মাঝি জহির হোসেন (৩৫) সুমন (৩০)। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মেহেন্দিগঞ্জ মৎস্য অফিস সুত্রে জানা যায়, শনিবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ১২ টার সময় মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরগোপালপুর ইউনিয়নের মোস্তফা বাজার এলাকায় তেতুলিয়া নদীতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
সুত্র আরো জানায়, মা ইলিশ রক্ষায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় তেতুলিয়া নদীতে অভিযানে যায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে ইলিশ নিধনের অভিযোগে ১২টি জেলে নৌকা এবং প্রায় ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল আটক করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম। এতে জেলেরা ক্ষিপ্ত হয়ে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে প্রায় শতাধিক জেলে ইটপাটকেল এবং লাঠিসোটা হাতে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিমের উপর হামলা চালিয়ে জব্দ করা ১২টি নৌকা আর ১০ হাজার মিটার জাল ছিনিয়ে নেয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিমের সদস্য উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ কামাল হোসেন বলেন, জেলেরা সঙ্ঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে নৌকা আর জাল ছিনিয়ে নেয়, তাদের হামলায় ৩ জন আহত হয়েছে। পরে অতিরিক্ত ফোর্স এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এই ঘটনায় কাউকে আটক করতে না পারলেও হামলাকারী জেলেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল বারী মনির হামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক আমি এই হামলার বিচার দাবী করছি। এই বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি কোন বক্তব্য দিবো না, আপনি ইউএনওর সাথে কথা বলেন, মেহেন্দিগঞ্জের ইউএনও কাজী আনিসুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এই বিষয়ে আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। মেহেন্দিগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, হামলার ঘটনায় কেউ আটক নেই, তবে ইউএনও এবং মৎস্য অফিসার আমাকে জানিয়েছেন এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে। স্থানীয়রা জানান বিপদগামী জেলেরা ওই ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। এখানকার জেলেরা আইন মানছেন না, প্রশাসন চলে গেলেই শুরু হয় ইলিশ নিধনের উৎসব।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ























