ভার্চুয়াল জগতে হাজার কিলোমিটার দুরের দেশের কেউ যেনো প্রতিবেশী। নিয়মিত খোঁজ খবর রাখা ও ভাব আদান প্রদানের মাধ্যমে কখনো বুনা হয়ে যায় আবেগমাখা স্বপ্নের জাল। এ স্বপ্ন একটু পরিণতের দিকে এগোলেই ভৌগোলিক দুরত্ব তখন মুহুর্তেই বুকের পা পাশে অবস্থান নেয়। সকল বাধা বিপত্তিকে পায়ে ঠেলে কাছে চলে আসে একে অপরের। এ কাব্যিক কথাগুলোর সাথে মিল রেখে ঠিক এমনই ঘটনা ঘটেছে পাবনার ঈশ্বরদীতে। ফেসবুকে একবছরের প্রেমে আমেরিকা ছেড়ে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পিয়ারাখালী গ্রামের আসাদুজ্জামান রিজুর (২৭) বাড়িতে এসেছে ২০ বছর বয়সী আমেরিকান তরুণী। কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করে করছেন সংসারও। তাদের দেখতে প্রতিদিনই ভীড় জমাচ্ছে আশেপাশের অনেকেই। তুলছেন সেলফিও।
জানা যায়, আসাদুজ্জামান রিজু ঈশ্বরদী শহরের পিয়ারাখালী গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে। তিনি কম্পিউটার সফটওয়্যার অ্যান্ড হার্ডওয়্যার কাজের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং কাজ করেন। অন্যদিকে আমেরিকান ওই তরুণী হারলি এবেগেল আইরিন ডেভিডসন কেন্টাকি প্রদেশের জর্জটাউন শহরের বাসিন্দা। বর্তমানে ঈশ্বরদী শহরের পিয়ারাখালি এলাকার মনিরুল ইসলামের ৬ তলা বাড়ির ২য় তলার একটি ইউনিট ভাড়া নিয়ে নতুন সংসার পেতেছেন তারা।
রিজুর পরিবার জানায়, বছর খানেক আগ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে তারা দুজন বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন এবং এরপরই গত শনিবার( ২১ অক্টোবর) রাতে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে পরদিন রোববার (২২ অক্টোবর) সকালে পারিবারিকভাবে ইসলাম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী আসাদুজ্জামান রিজুর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এখন ঈশ্বরদীর ভাড়া বাসায় চলছে তাদের সংসার।
আসাদুজ্জামান রিজুর বাবা আব্দুল লতিফ বলেন, আমার ছেলের কাছে যেহেতু ওই মেয়েটা আসছে তাই আমরা পারিবারিকভাবে এ বিয়ে মেনে নিয়েছি। ধর্মীয় নিয়ম অনুসারে ঢাকার একটি কাজি অফিসের মাধ্যমে তাদের বিয়ে দিয়েছি। ওদের নতুন সংসারের জন্য যাবতীয় কিছু করে দেওয়া হচ্ছে।
আসাদুজ্জামান রিজু জানান, ওর সুবিধার জন্য ছোট বাসা বদলে বাড়ির পাশেই মনিরুল ইসলামের বাড়ির একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছি। এখন বাসায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা কাটা ও গোছগাছ করতেই দুজনের সময় কাটছে। আমরা আজীবন একসাথে থাকার অঙ্গীকার করেছি। আমাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন।
হারলি এবেগেল আইরিন ডেভিডসন ভাঙা ভাঙা বাংলায় বলেন, একানে আমি বালো আচি। আমার ভালো লাগছে।
ঈশ্বরদীর বাসিন্দা সবুজ মালিথা জানান, এরকম বিয়ে এখন হরহামেশাই হচ্ছে। এদের অধিকাংশেরই সংসার আবার পরে টেকে না। তবে খবর শুনে দেখতে গিয়েছিলাম। যতটুকু দেখালাম বা বুঝলাম আপাতত তারা ভালোই আছে। এমন ভালাবাসা সারাজীবনই অটুট থাকুক।
ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র ইসহাক আলী মালিথা বলেন, মানুষের থেকে শুনেছি আমেরিকান থেকে একটি মেয়ে প্রেমের টানে ঈশ্বরদীতে এসে বিয়ে করছেন। আমিও বিষয়টি খোঁজখবর নিয়েছি। তারা বেশ ভালো আছে। নবদম্পতির জন্য শুভকামনা রইল।


















